যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে আবারও জনতার ঢল। ‘No Kings’—একটি স্লোগান, যা এখন ক্রমশই রূপ নিচ্ছে বৃহত্তর গণআন্দোলনে। প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর নীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ জমে উঠেছিল অনেক দিন ধরেই, আর সেই ক্ষোভই এবার বিস্ফোরিত হল রাস্তায়। ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অবস্থান, অভিবাসন নীতি এবং প্রশাসনিক অচলাবস্থার প্রতিবাদে শনিবার হাজার হাজার মানুষ আমেরিকার নানা প্রান্তে বিক্ষোভে শামিল হন।
আন্দোলনের বিস্তার ও কারণ
২০২৫ সালের জুন থেকে শুরু হওয়া ‘No Kings’ আন্দোলন ইতিমধ্যেই তিন দফা পার করেছে। তৃতীয় দফার এই বিক্ষোভে মূল ইস্যু হয়ে উঠেছে ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা-ইজ়রায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান। প্রতিবাদীদের দাবি, কোনও সরাসরি হুমকি না থাকলেও এই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া অর্থহীন এবং বিপজ্জনক।


নিউ ইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস, শিকাগো, ডালাসের মতো বড় শহরগুলিতে বিশাল মিছিল দেখা গেছে। Washington D.C. এবং Philadelphia-তেও ব্যাপক জমায়েত হয়। অনেকের হাতে ছিল ব্যঙ্গাত্মক পোস্টার, কোথাও আবার দেখা গেছে ট্রাম্পকে কেন্দ্র করে তৈরি বিশাল কার্টুন বেলুন।
ইস্যুর কেন্দ্রবিন্দু
বিক্ষোভ শুধু যুদ্ধনীতিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতি এবং সরকারি শাটডাউন নিয়েও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন প্রতিবাদকারীরা। বিশেষ করে Saint Paul-এ সবচেয়ে বড় জমায়েত হয়, যেখানে স্টেট ক্যাপিটলের সামনে শত শত মানুষ জড়ো হন।
এই শহরেই সম্প্রতি অভিবাসন আধিকারিকদের গুলিতে দুই জনের মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে। মৃতদের ছবি হাতে নিয়ে প্রতিবাদে শামিল হন বহু মানুষ।


এক বিক্ষোভকারীর কথায়,
“আমরা আমাদের দেশকে স্বৈরতন্ত্রের দিকে যেতে দেব না। এই দেশ জনগণের, কোনও ‘রাজা’র নয়।”
পরিসংখ্যান যা বলছে
- প্রথম দফা (জুন ২০২৫): ৪০–৬০ লক্ষ মানুষ, ২১০০ জায়গায় বিক্ষোভ
- দ্বিতীয় দফা (অক্টোবর ২০২৫): প্রায় ৭০ লক্ষ মানুষ, ২৭০০ স্থানে আন্দোলন
- তৃতীয় দফা (মার্চ ২০২৬): ৫০টি রাজ্যে ৩২০০+ কর্মসূচি
সংখ্যা এখনও পুরোপুরি সামনে না এলেও, অনেকের মতে এবারের আন্দোলন স্বতঃস্ফূর্ততার দিক থেকে আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের যৌথ বাহিনী ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে। এক মাস পেরিয়ে গেলেও সংঘাত থামার কোনও লক্ষণ নেই। এই যুদ্ধই এখন আমেরিকার অভ্যন্তরে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলছে।
‘No Kings’ এখন আর শুধু একটি স্লোগান নয়—এটি মার্কিন নাগরিকদের একাংশের রাজনৈতিক অবস্থান এবং প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে উঠেছে। যুদ্ধনীতি, অভিবাসন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত—সব মিলিয়ে চাপ বাড়ছে Donald Trump প্রশাসনের উপর। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



