নজরবন্দি ব্যুরো: গত ২০১৯ সালের ৬ নভেম্বর ম্যাচ গড়াপেটার তদন্ত করতে গিয়ে ক্রাইম ব্রাঞ্চের ইন্সপেক্টর কে প্রকাশ ভারতের জনপ্রিয় ক্রিকেট লিগ তথা কর্নাটক প্রিমিয়ার লিগের বেশকয়েকজন ক্রিকেটার, কোচ ও টিম ম্যানেজমেন্টের একাধিক সদস্য কে জেরা করেন। যা নিয়ে হইচই পড়ে যায় গোটা দেশের ক্রিকেট অনুরাগীদের মধ্যে। তার কিছু সময় পরেই সেখানকার কুবন পার্ক থানায় বিশেষ রিপোর্ট জমা করা হয়। পাশাপাশি এফআইআর দায়ের করা হয় বেশকিছু ক্রিকেটার ও দলের সদস্যদের নামে।
আরও পড়ুনঃ আবার মুখোমুখি ভারতে-পাকিস্তান, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সূচি প্রকাশ
যদিও পরবর্তীকালে এই ম্যাচ গড়াপেটার অভিযোগের ভিত্তিতে পুরো মামলাটির রায় দানের সময় তৎকালীন বিচারপতি শ্রীনিবাস হরিশ কুমার জানান, ‘‘ম্যাচ গড়াপেটার অর্থ অসততা, বিশৃঙ্খলা, দুর্নীতি হতে পারে। তার জন্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করার দায়িত্ব বিসিসিআই তথা ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড ও তার সদস্যদের। তবে ভারতীয় সংবিধানের কথা মাথায় রেখে দণ্ডবিধির ৪২০ নম্বর ধারা অনুসারে এই ম্যাচ গড়াপেটার প্রসঙ্গে কোনো রকমেরএফআইআর দায়ের করা সম্ভব নয়।”
তাই ভারতীয় ক্রিকেট অনুরাগীদের কাছে কোনও ক্রিকেটার ম্যাচ গড়াপেটায় অভিযুক্ত হলে কিংবা কোনো কেলেঙ্কারিতে জড়ালে সেটিকে অপরাধ কিংবা তঞ্চকতার নজরে দেখলেও আইনের চোখে তা কোনো মতেই অপরাধের পর্যায়ে রাখা সম্ভব নয়। ঠিক এমনটাই মনে করে কর্নাটক হাইকোর্ট।

সেই প্রসঙ্গে প্রতিবাদ করে আদালতের শুনানির সময় অ্যাডভোকেট জেনারেল জানান, দেশের প্রত্যেকটি ক্রিকেট টুর্নামেন্টেই নিজেদের পকেটের টাকা দিয়ে টিকিট কেটে মাঠে আসেন ক্রিকেট অনুরাগীরা। তাই যেহেতু এখানে সাধারন মানুষের অর্থ জড়িত রয়েছে তাই সেখানে ভারতীয় সংবিধানের ৪২০ ধারা জারি করার জন্য বিচারপতি কে অনুরোধ করেন তিনি।
ম্যাচ গড়াপেটায় কোনো FIR নয়, অভিনব রায় হাইকোর্টের
তা নিয়ে আদালতের বিচারপতির তরফ থেকে জানানো হয়, ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে হতে পারে যে, তাঁরা যেহেতু টাকা দিয়ে টিকিট কেটে খেলা দেখতে যাচ্ছেন, যেন পরিচ্ছন্ন খেলা হয়। তবে এক্ষেত্রে তারা সকলেই নিজের ইচ্ছেতেই টিকিট কেটে খেলা দেখতে এসেছেন তাই এক্ষেত্রে প্ররোচনার কোনো প্রশ্নই আসে না। সেকারনে এবার থেকে এই সমস্ত ক্ষেত্রে ৪২০ ধারার পাশাপাশি ভারতীয় দন্ডবিধির ১২০বি ধারাও আনা যাবে না।



