মৃত্যুহার ৪০–৭৫ শতাংশ! নিপা ভাইরাস কতটা ভয়ংকর, কী কী উপসর্গে সতর্ক হবেন, প্রতিকারই বা কী—জানা জরুরি

নিপা ভাইরাসের মৃত্যুহার ৪০–৭৫ শতাংশ। কীভাবে ছড়ায়, কোন লক্ষণে সতর্ক হবেন এবং চিকিৎসা বা প্রতিকারই বা কী—জানলে বিপদ অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নিপা ভাইরাসকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ বাড়ছে দেশজুড়ে। সরকারি স্তর থেকে শুরু করে বেসরকারি হাসপাতাল—সব জায়গাতেই জারি হয়েছে বাড়তি সতর্কতা। চিকিৎসকদের স্পষ্ট বার্তা, এখনই আতঙ্ক নয়, বরং সচেতনতা আর সাবধানতাই সবচেয়ে বড় অস্ত্র। কারণ নিপা ভাইরাস সংক্রমণ বিরল হলেও অত্যন্ত মারাত্মক, আর সময়মতো লক্ষণ চিহ্নিত করতে পারলেই প্রাণ বাঁচানোর সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যায়।

নিপা ভাইরাস একটি গুরুতর ও অনেক ক্ষেত্রে প্রাণঘাতী জুনোটিক সংক্রমণ। অর্থাৎ, এই ভাইরাস প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে আসে এবং মানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের ক্ষেত্রে এই সংক্রমণের মৃত্যুহার প্রায় ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশ—যা একে বিশ্বের অন্যতম ভয়ংকর ভাইরাল সংক্রমণের তালিকায় তুলে এনেছে।

কীভাবে ছড়ায় নিপা ভাইরাস?

চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বাদুড়—বিশেষ করে ফ্রুট ব্যাট—এই ভাইরাসের প্রাকৃতিক বাহক। বাদুড়ের লালা বা প্রস্রাবে দূষিত ফলমূল কিংবা কাঁচা খেজুরের রস খাওয়ার মাধ্যমেই মূলত মানুষের শরীরে নিপা ভাইরাস প্রবেশ করে। এছাড়াও শুয়োর ও কাঠবিড়ালির মাধ্যমেও এই সংক্রমণ ছড়াতে পারে। সংক্রমিত প্রাণীর অর্ধেক খাওয়া ফল বা শাকসবজি না ধুয়ে খেলে ঝুঁকি বহুগুণ বাড়ে।

কোন কোন উপসর্গ দেখলে সতর্ক হবেন?

নিপা ভাইরাসের সংক্রমণের শুরুতে লক্ষণ অনেকটাই সাধারণ জ্বরের মতো।

এই ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

চিকিৎসা ও প্রতিকার কী?

চিকিৎসকদের মতে, নিপা ভাইরাসের এখনও কোনও নির্দিষ্ট বা নিশ্চিত চিকিৎসা নেই। মূলত উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসাই ভরসা। তবে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হয়ে সাপোর্টিভ কেয়ার পেলে মৃত্যুঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। কিছু ক্ষেত্রে রাইবাভিরিন, এম ১০২.৪ মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি কিংবা ফ্যাবিরাভিরের মতো অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ সীমিতভাবে ব্যবহার করা হয়।

একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য—নিপা ভাইরাস বাতাসে ভেসে বা সাধারণ ড্রপলেটের মাধ্যমে ছড়ায় না। ফলে করোনার মতো মাস্ক ব্যবহারে বিশেষ সুরক্ষা মেলে না। বরং দূষিত খাবার এড়িয়ে চলা এবং অসুস্থ ব্যক্তির শরীরের রসের সংস্পর্শ এড়ানোই সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ।

মনে রাখবেন

নিপা সংক্রমণ থেকে সেরে উঠলেও তার প্রভাব দীর্ঘদিন শরীরে থেকে যেতে পারে। তবে আশার কথা, ভাইরাসটির মৃত্যুহার এত বেশি যে এটি দীর্ঘদিন ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ পায় না। তাই সচেতনতা ও দ্রুত চিকিৎসাই এই ভাইরাস মোকাবিলার মূল চাবিকাঠি।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর