শীতের মাঝেই রাজ্যে নিপা ভাইরাস নিয়ে নতুন করে সতর্কতা। বাংলায় ইতিমধ্যেই দু’টি ক্ষেত্রে নিপা সংক্রমণের সন্দেহ দেখা দেওয়ায় স্বাস্থ্য মহলে বাড়তি নজরদারি শুরু হয়েছে। আপাতত আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি না হলেও, সামান্য অসাবধানতা বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে—এ কথা স্পষ্ট করছেন চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা। আগেও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিপা সংক্রমণ ধরা পড়েছে এবং সঠিক সতর্কতায় তা নিয়ন্ত্রণেও এসেছে। তাই ভয় নয়, এখন প্রয়োজন সচেতনতা।
বিশিষ্ট জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ রাজীব জয়দেবন জানাচ্ছেন—নিপা ভাইরাস অত্যন্ত সংক্রামক ও উচ্চ মৃত্যুহারযুক্ত হওয়ায় কী খাবেন আর কী খাবেন না, তা জানা সবচেয়ে জরুরি।
নিপা ভাইরাস কী ও কোথা থেকে এল?
নিপা ভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয় ১৯৯৮–৯৯ সালে মালয়েশিয়ার কাম্পুং সুংগাই নিপা গ্রামে। সেই গ্রামের নাম থেকেই ভাইরাসটির নামকরণ। এটি একটি জুনোটিক ভাইরাস, অর্থাৎ প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে ছড়ায়।
এর প্রাকৃতিক পোষক হল ফল-বাদুড় (ফ্লাইং ফক্স)। শূকরও এই ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে এবং সেখান থেকে মানুষে সংক্রমণ ঘটতে পারে। মানুষের ক্ষেত্রে সাধারণ জ্বর থেকে শুরু করে মারাত্মক এনসেফালাইটিস (মস্তিষ্কে ফোলাভাব) ও মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
কোন খাবার থেকে সবচেয়ে বেশি ছড়ায় নিপা?
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিচের খাবার ও অভ্যাসে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি—
-
❌ কাঁচা খেজুরের রস (খোলা পাত্রে সংগ্রহ করা)
-
❌ বাদুড়ে খাওয়া বা আধখাওয়া ফল
-
❌ দাগ লাগা, পড়ে থাকা ফল
-
❌ না ধোওয়া ফল
-
❌ বাদুড় বা শূকরের লালা/মল দ্বারা দূষিত খাবার
👉 ভালো খবর: নলেন গুড় সাধারণত ফুটিয়ে তৈরি হয়, তাই তা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ।
নিপা এড়াতে কী কী করবেন?
-
✔ ক্লোরিনেটেড বা ফুটানো জল পান করুন
-
✔ ফল ভাল করে ধুয়ে ও খোসা ছাড়িয়ে খান
-
✔ খাওয়ার আগে ও পরে সাবান দিয়ে হাত ধোবেন
-
✔ বাড়ির ফলের রস, পাতকুয়ো, বাগান বাদুড়মুক্ত রাখুন
-
✔ পশু বা পশুর বাসস্থানের কাছে গেলে মাস্ক ও সুরক্ষাবিধি মেনে চলুন
-
✔ পোষ্য প্রাণীর খাবার ঢেকে রাখুন
যা একেবারেই করবেন না
-
🚫 খোলা পাত্রের খেজুরের রস খাবেন না
-
🚫 গাছ থেকে পড়া বা আধখাওয়া ফল খাবেন না
-
🚫 পরিত্যক্ত কুয়ো, গুহা, খালি বাড়ি—যেখানে বাদুড় থাকতে পারে—এড়িয়ে চলুন
-
🚫 অসুস্থ বা মৃত পশুর সংস্পর্শে সুরক্ষা ছাড়া যাবেন না
আতঙ্ক নয়, সতর্কতাই আসল
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা World Health Organization জানিয়েছে, নিপা ভাইরাসের কোনও নির্দিষ্ট টিকা বা ওষুধ এখনও নেই। চিকিৎসা হয় মূলত উপসর্গ অনুযায়ী। তাই দ্রুত শনাক্তকরণ ও সংক্রমণ রোধই সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। বিশেষজ্ঞদের বার্তা পরিষ্কার—গেল গেল রব নয়, কিন্তু শীতের মরসুমে খেজুরের রস ও ফল খাওয়ার ক্ষেত্রে একটুও ঢিলেমি চলবে না।



