রাত জাগা মানুষরা কি অন্যদের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান? গবেষণা কী বলছে জানেন?

রাত জাগা মানুষরা কি অন্যদের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান? গবেষণা বলছে হ্যাঁ, কিন্তু কেন? নাইট আওল বনাম আর্লি বার্ডের বুদ্ধিমত্তা, সৃজনশীলতা ও স্বাস্থ্যগত তুলনা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

রাত পেরিয়ে গেছে ২টো। আপনি এখনও জেগে। সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল করছেন, বই পড়ছেন, বা কাজ করছেন। সকালে উঠতে দেরি হওয়ায় অনেকে বলেন ‘অলস’। কিন্তু বিজ্ঞান বলছে, রাত জাগা মানুষরা নাকি অন্যদের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান ও সৃজনশীল! এই দাবির পেছনে কী যুক্তি আছে? নাইট আওল (Night Owl) আর আর্লি বার্ড (Early Bird)-এর মধ্যে আসল পার্থক্যটাই বা কী? চলুন, গবেষণার আলোয় জেনে নেওয়া যাক।

রাত জাগা মানুষ কারা?
বিজ্ঞানের ভাষায়, যাঁরা রাতের দিকে বেশি সক্রিয় থাকেন এবং সকালে উঠতে কষ্ট পান, তাঁদের ‘নাইট আওল’ বলা হয়। অন্যদিকে যাঁরা ভোরে উঠে কাজ করতে ভালোবাসেন, তাঁরা ‘আর্লি বার্ড’। এই পার্থক্যটা আসে আমাদের শরীরের জৈবিক ঘড়ি (Circadian Rhythm) থেকে। কিছু মানুষের এই ঘড়ি স্বাভাবিকের চেয়ে একটু পিছিয়ে থাকে, যার ফলে তাঁরা রাতে বেশি এনার্জেটিক বোধ করেন।

গবেষণা কী বলছে?
লন্ডন স্কুল অফ ইকোনমিক্স (London School of Economics) এবং অন্যান্য গবেষণা প্রতিষ্ঠানের একাধিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, রাত জাগা মানুষরা গড়ে বেশি বুদ্ধিমান হন। এমনকি আইকিউ (IQ) টেস্টেও তাঁরা আর্লি বার্ডদের চেয়ে কিছুটা এগিয়ে থাকেন। এর পেছনে কারণ হিসেবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, বিবর্তনের (Evolution) ধারায় রাত জাগা একটা ‘নভেল’ বা নতুন অভ্যাস, যা শুধুমাত্র অভিযোজন ক্ষমতা সম্পন্ন বুদ্ধিমান প্রজাতিই রপ্ত করতে পারে।

সৃজনশীলতা ও রাতের সম্পর্ক
রাতের নিস্তব্ধতা মস্তিষ্কের জন্য এক আলাদা জগৎ তৈরি করে। দিনের কোলাহল নেই, ফোন আসছে না, কেউ ডিস্টার্ব করছে না— এই পরিবেশ মস্তিষ্কের ডিফল্ট মোড নেটওয়ার্ক (Default Mode Network)-কে সক্রিয় করে। এই নেটওয়ার্কই আমাদের দিবাস্বপ্ন, সৃষ্টিশীল চিন্তা ও নতুন আইডিয়ার জন্ম দেয়। তাই লেখক, শিল্পী, মিউজিশিয়ানরা প্রায়ই রাতকে বেছে নেন কাজের জন্য।

তাহলে আর্লি বার্ডরা কি খারাপ?
একেবারেই নয়। আর্লি বার্ডরা নিয়মানুবর্তী, সময়নিষ্ঠ ও স্বাস্থ্যসচেতন হন বেশি। গবেষণা বলছে, ভোরে ওঠা মানুষরা মানসিক চাপ কম পান এবং তাঁদের হৃদরোগের ঝুঁকিও কিছুটা কম। কিন্তু রাত জাগা মানুষরা যখন নিজেদের সৃজনশীলতা কাজে লাগাতে পারেন, তখন তাঁরাও সমান সফল।

নাইট আওল vs আর্লি বার্ড: একনজরে তুলনা

বৈশিষ্ট্য নাইট আওল (Night Owl) আর্লি বার্ড (Early Bird)
সক্রিয় সময় রাত ১০টা – ভোর ৩টা ভোর ৫টা – দুপুর ১২টা
বুদ্ধিমত্তা গড়ে বেশি আইকিউ গড় আইকিউ
সৃজনশীলতা উচ্চ মাঝারি
স্বাস্থ্য ঝুঁকি কিছুটা বেশি (ঘুমের অনিয়ম) তুলনামূলক কম
পেশাগত সাফল্য সৃজনশীল পেশায় বেশি নিয়মানুবর্তী পেশায় বেশি

শেষ কথা
রাত জাগা বা ভোরে ওঠা— কোনোটাই খারাপ নয়। খারাপ হলো, নিজের শরীরের ঘড়ির বিরুদ্ধে গিয়ে চলা। আপনি যদি নাইট আওল হন, তাহলে রাত জাগাটাকেই কাজে লাগান। আর যদি সকালের পাখি হন, ভোরের আলোয় খুঁজে নিন নিজের সেরাটা। ঘুমটা যেন ঠিকমতো হয়, এটাই আসল কথা।

❓ প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

প্রশ্ন: রাত জাগা মানুষদের কি সত্যিই আইকিউ বেশি হয়?
উত্তর: লন্ডন স্কুল অফ ইকোনমিক্স-সহ একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, রাত জাগা মানুষদের গড় আইকিউ (IQ) আর্লি বার্ডদের চেয়ে কিছুটা বেশি। তবে এর মানে এই নয় যে ভোরে ওঠা মানুষরা বুদ্ধিমান নন। বুদ্ধিমত্তা অনেক কিছুর ওপর নির্ভর করে।

প্রশ্ন: নাইট আওল হওয়া কি স্বাস্থ্যের জন্য খারাপ?
উত্তর: নাইট আওল হওয়া নিজে খারাপ নয়, কিন্তু সমস্যা হয় যখন সমাজের নিয়মের সঙ্গে তার মিল না থাকে। অফিস বা ক্লাস সকালে হলে রাত জাগা মানুষেরা পর্যাপ্ত ঘুম পান না, যার ফলে স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে। তবে যদি কাজের সময় নমনীয় হয়, তাহলে নাইট আওলরাও সমান সুস্থ থাকতে পারেন।

প্রশ্ন: রাত জাগার কোনও উপকারিতা আছে কি?
উত্তর: হ্যাঁ, রাতের নিস্তব্ধতা মস্তিষ্কের সৃজনশীলতা বাড়ায়। ডিফল্ট মোড নেটওয়ার্ক সক্রিয় হওয়ার কারণে রাতে নতুন আইডিয়া আসে বেশি। তাই লেখক, শিল্পী, মিউজিশিয়ানরা প্রায়ই রাতকে বেছে নেন কাজের জন্য।

প্রশ্ন: নাইট আওল থেকে আর্লি বার্ড হওয়া যায় কি?
উত্তর: সম্পূর্ণ রূপান্তর সম্ভব নয়, কারণ এটা জিনগত (Genetic) বৈশিষ্ট্য। তবে ধীরে ধীরে ঘুমের সময় এগিয়ে এনে কিছুটা সামঞ্জস্য আনা যায়। প্রতিদিন ১৫ মিনিট করে আগে ঘুমাতে গেলে শরীর ধীরে ধীরে মানিয়ে নেবে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন