নিউটাউনের (New Town) একটি আবাসনের ভাড়া ফ্ল্যাট থেকে ২৫ বছরের ইনফ্লুয়েন্সর তৃষা সাহার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় একের পর এক নতুন তথ্য সামনে আসছে। একই ফ্ল্যাট থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছেন তাঁর লিভ-ইন সঙ্গী সৌভিক রায়। সম্পর্কে টানাপোড়েন, সন্দেহ, নাকি অন্য কোনও কারণ— সব দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ। খুন না আত্মহত্যা, সেই প্রশ্নের উত্তর এখন ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও তদন্তের অগ্রগতির উপরই নির্ভর করছে।
ব্যারাকপুরের বাসিন্দা তৃষা সাহা একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচিত ইনফ্লুয়েন্সর হিসেবেও জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। কর্মক্ষেত্রেই সৌভিক রায়ের সঙ্গে তাঁর পরিচয়, যা পরে প্রেমের সম্পর্কে গড়ায়। প্রায় চার মাস আগে নিউটাউনের চণ্ডীবেড়িয়া এলাকায় একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে একসঙ্গে থাকতে শুরু করেন তাঁরা। দুই পরিবারের কাছেও তাঁদের সম্পর্কের বিষয়টি অজানা ছিল না।
তদন্তে উঠে এসেছে, রবিবার হঠাৎই বাড়ির মালিককে ফোন করে সৌভিক জানান, তৃষা আত্মহত্যা করেছেন। খবর পেয়ে তিনি ফ্ল্যাটে পৌঁছলেও দরজা ভিতর থেকে বন্ধ ছিল। বহুবার ডাকাডাকি করেও কোনও সাড়া না মেলায় তিনি ফিরে যান। কিছুক্ষণ পর সৌভিক আবার ফোন করলে তিনি ফের সেখানে যান। এবার দরজা খুলে দেন সৌভিক। ঘরে ঢুকেই রক্তের দাগ দেখতে পান বাড়ির মালিক। এরপর একটি ঘরে তৃষাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে তিনি দ্রুত নিউটাউন থানায় খবর দেন।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তৃষার দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়। অন্যদিকে, দু’হাতের কব্জি কাটা অবস্থায় সৌভিককে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গিয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, সৌভিকের জবানবন্দিই এই রহস্যের গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হতে পারে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের হাতে এসেছে আরও কিছু তথ্য। সূত্রের দাবি, গত কয়েকদিন ধরে তৃষাকে নিয়ে সন্দেহে ভুগছিলেন সৌভিক। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে তৃষার যোগাযোগ ও কথাবার্তা নিয়ে তাঁদের মধ্যে অশান্তি চলছিল বলে তদন্তকারীদের অনুমান। সেই টানাপোড়েনের জেরে সম্পর্কে কোনও তৃতীয় ব্যক্তির উপস্থিতি তৈরি হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে তদন্তকারীরা এখনও কোনও সম্ভাবনাকেই চূড়ান্ত বলে মানতে নারাজ। তৃষাকে খুন করে পরে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল, নাকি এটি আত্মহত্যার ঘটনা— দুই সম্ভাবনাই সমান গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একইসঙ্গে সৌভিক কী পরিস্থিতিতে নিজের হাতের কব্জি কাটলেন, সেটিও তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি মোবাইল ফোন, কল রেকর্ড, সোশ্যাল মিডিয়া কার্যকলাপ এবং দু’জনের সাম্প্রতিক যোগাযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং সৌভিকের জিজ্ঞাসাবাদের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে তদন্তকারীদের বিশ্বাস।
ঘটনার আর একটি আবেগঘন দিকও সামনে এসেছে। তৃষা ও সৌভিকের একটি পোষ্য বিড়াল ছিল। তদন্ত চলাকালীন সেই বিড়ালটিকে আপাতত বাড়ির মালিকের জিম্মায় রাখা হয়েছে। এদিকে, তরুণী ইনফ্লুয়েন্সরের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার, বন্ধু ও অনুরাগীদের মধ্যে গভীর শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে জল্পনা না করার আবেদন জানিয়েছে পুলিশ।



