দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। ২১ জুলাই শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকে যে ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সেই ‘দুর্গাঙ্গন’-এর শিলান্যাস হতে চলেছে সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর। নিউটাউনে এই বিশেষ সাংস্কৃতিক প্রকল্পের সূচনা করবেন মুখ্যমন্ত্রী নিজেই।
রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শিলান্যাসের পরই শুরু হয়ে যাবে নির্মাণকাজ। ইতিমধ্যেই প্রকল্পের সমস্ত প্রশাসনিক ও দরপত্র সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। নিউটাউনের নির্দিষ্ট জমিতে দুর্গাঙ্গন গড়ে তোলার দায়িত্ব পেয়েছে রাজ্যের উন্নয়ন সংস্থা হিডকো।
মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর গত ২২ অগস্ট এই প্রকল্পের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। প্রাথমিক হিসেব অনুযায়ী, দুর্গাঙ্গন নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২৬১ কোটি ৯৮ লক্ষ টাকা। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, কাজ শুরুর দিন থেকে ২৪ মাসের মধ্যেই নির্মাণ শেষ করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
দুর্গাঙ্গন প্রকল্পকে রাজ্যের সাংস্কৃতিক পরিকাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষত, দুর্গাপুজোকে ইউনেস্কো ‘ওয়ার্ল্ড ইনট্যানজিবেল কালচারাল হেরিটেজ’-এর স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকেই এই ভাবনাকে বাস্তব রূপ দিতে উদ্যোগী হয়েছিল রাজ্য সরকার।
উল্লেখযোগ্য ভাবে, সম্প্রতি দিঘায় জগন্নাথধাম মন্দিরের উদ্বোধনও হয়েছে, যার নির্মাণের দায়িত্বে ছিল হিডকোই। সেই অভিজ্ঞতার পর দুর্গাঙ্গন প্রকল্পের ক্ষেত্রেও একই সংস্থার উপর ভরসা রেখেছে রাজ্য।
প্রস্তাবিত নকশা ও রেপ্লিকা অনুযায়ী, দুর্গাঙ্গনের স্থাপত্য ও কারুকার্য হতে চলেছে নজরকাড়া। শুধু পুজোর সময় নয়, সারা বছর ধরে বাঙালির ঐতিহ্য ও দুর্গাপুজোর শিল্প-সংস্কৃতি তুলে ধরার একটি স্থায়ী মঞ্চ হিসেবেই দুর্গাঙ্গনকে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
নিউটাউনে এই প্রকল্পের সূচনা রাজ্যের সাংস্কৃতিক মানচিত্রে নতুন অধ্যায় যোগ করবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।



