নেপালে Gen-Z বিদ্রোহ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। রাজধানী কাঠমান্ডুতে সংসদ ভবন, প্রেসিডেন্টের বাসভবন ও একাধিক থানায় আগুন লাগানো হয়েছে। দুপুরে সেনা সংসদের দরজা খুলে দিলে উন্মত্ত জনতা ঢুকে পড়ে। অর্থমন্ত্রীকে ফেলে মারধর করা হয়, প্রাণ বাঁচাতে পালান তিনি। বিদ্রোহীদের হাতে চলে আসে সেনার অস্ত্র।
ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও দখল করে নিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। বাতিল হয়েছে সব আন্তর্জাতিক উড়ান। আকাশে চক্কর কাটতে বাধ্য হচ্ছে দিল্লি-কাঠমান্ডু ও ঢাকা-কাঠমান্ডুগামী বিমান।


প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে আগুন, প্রেসিডেন্টের বাড়ি ভাঙচুর
দুপুরে প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির ব্যক্তিগত বাসভবনে আগুন ধরানো হয়। তার আগে প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পৌডেলের সরকারি বাড়ি ভাঙচুর করে জনতা। পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়লেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। কাঠমান্ডুর সংসদ ভবনে অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি একের পর এক থানাও জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে।
Nepal Gen-Z Protest: সংসদ ভবন দখল নিয়ে অর্থমন্ত্রীকে ফেলে মার, বিদ্রোহীদের হাতে সেনার অস্ত্র

ওলির ইস্তফা সত্ত্বেও উত্তেজনা
দেশজুড়ে উত্তাল প্রতিবাদের মুখে প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি পদত্যাগ করেছেন। সেনাপ্রধান অশোক রাজ সিগদেল নিজে দেখা করে পদত্যাগের জন্য অনুরোধ করেন। অবশেষে সেনাবাহিনীর নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি সরে দাঁড়ান। তবু আন্দোলন থামেনি। জনতার হাতে এখন প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ কার্যত ভেঙে পড়েছে।

ভারতের উদ্বেগ, সীমান্তে সতর্কতা
ভারত সরকার জানিয়েছে, নেপালের পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। কাঠমান্ডুসহ একাধিক শহরে কার্ফু জারি করা হলেও তা কার্যকর হয়নি। ভারতীয় দূতাবাস নেপালে অবস্থানরত নাগরিকদের সতর্ক থাকতে বলেছে।


উত্তরবঙ্গের পানিট্যাঙ্কি সীমান্তে ট্রাকের দীর্ঘ লাইন। তিন দিন ধরে বন্ধ রয়েছে সীমান্ত। ভারতীয় ট্রাকচালকরা আতঙ্কে এপারে ফিরে এসেছেন। সীমান্ত এলাকার অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
নেপালের ছাত্র-যুব বিদ্রোহ এখন এক ভয়াবহ গণআন্দোলনে পরিণত হয়েছে। সংসদ ভবন থেকে বিমানবন্দর—সব জায়গায় জনতার দখল। প্রধানমন্ত্রী ইস্তফা দেওয়ার পরও পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে এর প্রভাব পড়া সময়ের অপেক্ষা মাত্র।








