NEET-এ ‘নিশ্ছিদ্র’ নিরাপত্তার দাবি কেন্দ্রের, UPSC-কে দেখে NTA-কে শিক্ষা নিতে বলল সুপ্রিম কোর্ট

NEET-এর প্রশ্নপত্র তৈরি থেকে পরিবহণ পর্যন্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে কেন্দ্রের দাবি, কিন্তু স্থায়ী সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়ে UPSC-এর মডেল অনুসরণের পরামর্শ দিল সুপ্রিম কোর্ট।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরো: NEET প্রশ্নফাঁসের বিতর্কের মধ্যেই পরীক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কেন্দ্রের কাছে ফের জবাবদিহি চাইল সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার কেন্দ্র দাবি করেছে, বর্তমানে NEET-এর প্রশ্নপত্র তৈরি, মুদ্রণ, পরিবহণ থেকে পরীক্ষার্থীর হাতে পৌঁছনো পর্যন্ত গোটা প্রক্রিয়াই অত্যন্ত সুরক্ষিত। কিন্তু সেই দাবি শুনেও সন্তুষ্ট হয়নি শীর্ষ আদালত। বরং Union Public Service Commission (UPSC)-এর পরীক্ষাব্যবস্থার উদাহরণ টেনে National Testing Agency (NTA)-কে আরও দক্ষ, আধুনিক ও স্থায়ী পরিকাঠামো গড়ার পরামর্শ দিয়েছে আদালত।

কেন্দ্রের হয়ে সওয়াল করতে গিয়ে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, NEET-এর প্রশ্নপত্র পরিবহণে GPS-যুক্ত যানবাহন ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে গাড়ির গতিবিধি নজরদারির আওতায় থাকে এবং নিরাপত্তাব্যবস্থার কোনও ব্যত্যয় হলে তা চিহ্নিত করা সম্ভব।

প্রশ্ন তৈরির প্রক্রিয়াতেও একাধিক স্তরের নিরাপত্তা রাখা হয়েছে বলে আদালতকে জানায় কেন্দ্র। প্রশ্নব্যাঙ্ক তৈরির সময় একাধিক মডারেটর ও বিষয়বিশেষজ্ঞ যুক্ত থাকলেও, কোন প্রশ্ন শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত প্রশ্নপত্রে অন্তর্ভুক্ত হবে, সেই তথ্য তাঁদের জানানো হয় না। এর ফলে প্রশ্নফাঁসের সম্ভাবনা কমানোর জন্য পুরো প্রক্রিয়াকে বিভিন্ন স্তরে ভাগ করা হয়েছে।

কেন্দ্রের এই বক্তব্যের পরেই সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court of India) জানায়, শুধু একাধিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। NEET-এর পরীক্ষা পরিচালনার ক্ষেত্রে যে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতাগুলি রয়েছে, সেগুলিও দূর করা জরুরি।

এই প্রসঙ্গে আদালত K. Radhakrishnan Committee-এর সুপারিশের কথাও উল্লেখ করে। ওই কমিটি NEET-সহ জাতীয় স্তরের পরীক্ষাব্যবস্থায় কাঠামোগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছিল। বুধবারের শুনানিতে আদালত স্পষ্ট করে দেয়, অস্থায়ী ব্যবস্থা নয়, পরীক্ষাব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারই এখন মূল লক্ষ্য।

শুনানির সময় UPSC-এর প্রসঙ্গ বিশেষভাবে সামনে আসে। আদালতের বক্তব্য, UPSC দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে জাতীয় স্তরের পরীক্ষা পরিচালনা করছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে NTA-র শিক্ষা নেওয়া উচিত এবং পরিবর্তিত প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে পরীক্ষাব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করতে হবে।

শীর্ষ আদালত আরও বলে, NTA-র এমন বিশেষজ্ঞ প্রয়োজন, যাঁরা শুধু পরীক্ষা পরিচালনার অভিজ্ঞতাই রাখেন না, নতুন প্রযুক্তি, তথ্যনিরাপত্তা এবং পরিবর্তিত পরীক্ষাপদ্ধতি সম্পর্কেও ওয়াকিবহাল। অর্থাৎ নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শুধু কাগজে-কলমে নয়, প্রযুক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবেও শক্তিশালী করার উপর জোর দিয়েছে আদালত।

এর পর কেন্দ্রকে নতুন করে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। সেই হলফনামায় NTA-র সংস্কার এবং বিশেষজ্ঞ কমিটিগুলির সুপারিশ বাস্তবায়নে কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্য দিতে হবে। তিন সপ্তাহ পরে মামলাটির পরবর্তী শুনানি হবে।

NEET পরীক্ষাব্যবস্থা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের এই অবস্থান অবশ্য নতুন নয়। এর আগের শুনানিতেও আদালত স্পষ্ট করেছিল, বারবার অস্থায়ী পদক্ষেপ নিয়ে সমস্যার মোকাবিলা করা যাবে না। জুলাইয়ের শুনানিতে বিচারপতি পিএস নরসিংহ (Justice P. S. Narasimha) এবং বিচারপতি অলোক আরাধ্য (Justice Alok Aradhe)-এর বেঞ্চ জানিয়েছিল, পরীক্ষাব্যবস্থার সংস্কারকে স্থায়ী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে এবং পুরো বিষয়টি আদালত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।

NEET প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের পর দেশের লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবারের মধ্যে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে আদালতের নজর এখন শুধু প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তায় সীমাবদ্ধ নেই। NTA-র পরিকাঠামো, দক্ষ কর্মী, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রতিষ্ঠান হিসেবে তার কার্যকারিতাও বিচারাধীন। ফলে আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে কেন্দ্রের নতুন হলফনামায় কী সংস্কারের রূপরেখা সামনে আসে, সেদিকেই নজর থাকবে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন