‘গো-মাংস খাওয়া মহাপাপ, দুধে মেলে সোনা’, সিলেবাস দেখে তাজ্জব ভারতবাসী

‘গো-মাংস খাওয়া মহাপাপ, দুধে মেলে সোনা’, সিলেবাস দেখে তাজ্জব ভারতবাসী

নজরবন্দি ব্যুরো: বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ একবার বলেছিলেন, গরুর দুধে সোনা মেলে। তাঁর এহেন মন্তব্যকে ঘিরে কম বিতর্ক তৈরি হয়নি। অনেকেই খিল্লি করেছেন। তবে কে ভাবতে পেরেছিল এটাই আগামী দিনে পাঠ্যবইয়ে একটি সিলেবাস হয়ে যাবে। শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি। যদিও আবার অনেকেই উড়িয়ে দিচ্ছেন হেসেই।

আরও পড়ুন: আটটি ধাপে সম্পন্ন হচ্ছে টিকাকরণ গোটা প্রক্রিয়া

মঙ্গলবারই কেন্দ্রের সরকার ন্যাশনাল লেভেল ‘কাউ’ সায়েন্স পরীক্ষার কথা ঘোষণা করেছে। ২৫ ফেব্রুয়ারি পরিচালিত হবে পরীক্ষা। যে কোনও বয়সের, পুরুষ এবং মহিলা পরীক্ষার্থীরা স্বেচ্ছায় এবং বিনামূল্যে অংশগ্রহণ করতে পারবেন সেখানে। আর ইতিমধ্যেই ‘Annual Cow Exam’র সিলেবাস বা পাঠ্যক্রম তৈরি হয়েছে। সেই সিলেবাসের বিস্তারিত বিবরণ যে কারও চোখ কপালে তুলতে বেশই সময় নেবে না। কি রয়েছে সিলেবাসে? জানা গিয়েছে, গো-মাংস খাওয়াকে সেখানে ‘bad karma’ বলে বর্ণনা করা হয়েছে।

অর্থাত্‍ গরুর মাংস খাওয়া খারাপ কাজ বা আরও স্পষ্ট করে বললে মহাপাপ। এক রিপোর্ট অনুযায়ী, ৫৪ পাতার সিলেবাসের পাতায় পাতায় রয়েছে বিতর্কিত বিষয়। যেগুলির অনেকক্ষেত্রেই কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। যেমন, পাঠ্যক্রমে রয়েছে, ‘দেশীয় গরু কোনও জার্সি গরুর থেকে অনেক বেশই ভাল। দেশি গরুর দুধ হয় হলুদ বা সোনালি, কারণ তাতে সোনা থাকে।’ একইসঙ্গে রয়েছে, ‘যে সব শিশুরা ছোট থেকে জার্সি গরু বা দেশি গরু বাদে অন্য কোনও গরুর দুধ খায়, তারা অটিজম, ডায়াবেটিসের মতো নানা রোগের শিকার হয়। এমনকি যে কোনও সময় মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে তাদের।’

এ বিষয়ে রাষ্ট্রীয় কামধেনু আয়োগ চেয়ারম্যান বল্লভভাই কাথিরিয়া জানিয়েছেন, “গো-মাতার পবিত্রতা এবং উপকারিতা বিষয়ে সাধারণ মানুষ এবং পড়ুয়াদের মধ্যে আগ্রহ বাড়াতে প্রতি বছর এই পরীক্ষা আয়োজন করা হবে।” সিলেবাসে রয়েছে, দেশি গরু অন্য যে কোনও প্রজাতির গরুর তুলনায় বুদ্ধিমান। আর ঠিক এই কারণেই তারা নাকি কোনও নোংরা জায়গায় বসে না। এমনকি দেশীয় গরু যে কোনও আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতেও অনেক বেশই সক্ষম।

‘গো-মাংস খাওয়া মহাপাপ, দুধে মেলে সোনা’, গোটা পাঠ্যক্রম জুড়ে গোবর এবং গো-মূত্রের উপকারিতা এবং পবিত্র ব্যবহার নিয়েও বহু তথ্য রয়েছে। গো-মূত্র পরিপাকতন্ত্র, চোখের রোগ, মূত্র থলি, শিরদাঁড়া, লিভার-সহ একাধিক শারীরিক সমস্যার সমাধানে অব্যর্থ কাজ করে। The Homi Bhabha Centre for Science Education-র অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর অনিকেত শুলে এ প্রসঙ্গে বলেন, “পড়ুয়ারা বহু পড়াশুনা করে পরীক্ষা দেয় ভাল ফলাফলের জন্য। এ ক্ষেত্রে পড়ুয়ারা পড়াশুনা করলে বহু ভুল তথ্য জানবেন, যার জন্য তাঁদের ভুগতে হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x