অর্ক সানা, সম্পাদক(নজরবন্দি): ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ দ্রুত ছড়িয়ে যাচ্ছে জনমানসে। আগে জানা গিয়েছিলো একের থেকে এক সংক্রমণ ছড়াচ্ছিল এখন দেখতে পাওয়া যাচ্ছে তা একের থেকে অগণিত ছড়াচ্ছে। অর্থাৎ গোষ্ঠী সংক্রমণ। চিকিৎসকরা বলছেন এভাবে সংক্রমণ ছড়াতে থাকলে হাসপাতালে বেড পাওয়াই মুশকিল হবে। ব্যাপক করোনা সংক্রমনে ধাক্কায় শঙ্কিত চিকিৎসক-রা। লকডাউন শুরু হয়েছে একাধিক রাজ্যে। কিন্তু সার্বিক ভাবে লকডাউনের পথে এখনই হাঁটছে না দেশ। এখন টিকাকরন চলছে দ্রুত।
আরও পড়ুনঃ লাফিয়ে বাড়ল সংক্রমণ, দ্বিগুণ হল মৃত্যু সংখ্যা! করোনার লাগামহীন গতি রাজ্যের সর্বত্র।
১৪০ কোটির দেশে টিকা পেয়েছেন ১০ কোটি ৫৫ লক্ষ মানুষ। এদিকে টিকাকরনের গতি দ্রুত বাড়াতে বিশ্বের আরও ৫ টি ভ্যাকসিন কে ছাড়পত্র দিতে চলে ভারত সরকার। এ দেশে প্রয়োগের জন্য ইতিমধ্যেই রাশিয়ার স্পুটনিক ভি-কে ছাড়পত্র দিয়েছে ড্রাগস কন্ট্রোলার জেনারেল অব ইন্ডিয়া। পাশাপাশি চলতি বছরেই জনসন অ্যান্ড জনসন, জাইডাস ক্যাডিলা, সিরাম ন্যাভোভ্যাক্স এবং ভারত বায়োটেকের ন্যাসাল ভ্যাকসিন-সহ মোট ৫টি প্রতিষেধকও দ্রুত ছাড়পত্র পেতে চলেছে।
সবই চলছে তাঁর সাথে চলছে ভোট। বাংলায় ভোট… সারা ভারত পরে রয়েছে বাংলায়। সাড়া ভারতের অর্থ হল প্রধানমন্ত্রী সহ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভার অর্ধেক মন্ত্রীই এখন ডেলি প্যাসেঞ্জারি করছেন বাংলায়। সোনার বাংলা গড়তে হবে। এবার একটু পেছনে তাকানো যাক। এক বছর আগে ঠিক এই সময়েই প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন অপরিকল্পিত লকডাউন। করোনার বিরুদ্ধে লড়াই হল দেশজুড়ে, পৃথিবী দেখল ঐক্যবদ্ধ ভারতের রূপ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে সমগ্র দেশে একদিন রাত ৯টা বাজতেই ৯ মিনিটের জন্য নিভে গেল সব আলো।
সেই অন্ধকার ভেদ করে জ্বলে উঠল কোটি কোটি প্রদ্বীপ, মোমবাতি, টর্চ আর মোবাইলের ফ্ল্যাশ লাইট। কিন্তু বাদ সাধল তাঁর মধ্যে শব্দ বাজির তাণ্ডব, আর আতসবাজি জ্বালিয়ে মানুষের দাপাদাপি! কোথাও আবার উড়ল ফানুশ। কিছু জায়গায় মশাল জ্বালিয়ে দল বেঁধে বেরলেন জনতা! দুহাতে ফুলঝুরি রঙ মশাল নিয়ে নাচলেন অনেকে! কিন্তু কেন? ব্যাপারটা সেই জনতা কার্ফুর শেষে খোল কর্তাল নিয়ে মিছিলের মতই না কি?
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সাথে তাবড় সেলিব্রিটিরা যখন থালা বাজাচ্ছেন লক্ষ লক্ষ শ্রমিক তখন দিশাহীন হয়ে রাস্তায় হাঁটছে বাড়ি ফেরার আসায়। পিএম কেয়ার বলে প্রধানমন্ত্রীর মানে একটা ‘বেসরকারি ফান্ড’ তৈরি হল। হাজার হাজার কোটি টাকা উঠল। সেই টাকা কোথায় গেল কি হল, তা আজও কেউ জানেনা। অন্যদিকে লাখো শ্রমিকের দল তখন রাস্তায়। গরীব শ্রমিক, সঠিক অর্থে মানুষ হিসেবে ধরা হয়না এদের; তবে ভোটার হিসেবে একটা সুখ্যাতি রয়েছে। বছর বছর এই মেহনতি মানুষ গুলো নিয়ম করে ভোট দেন আর কায়িক পরিশ্রম করেন। দেশের কি হল না হল সেটা নিয়ে যেমন এঁদের মাথা ব্যাথা নেই তেমনই এরা কে মরল বা কে বাঁচল তা নিয়ে সরকারেরও মাথা ব্যাথা নেই। থাকবেই বা কেন? ব্যাটারা গরীব কিনা!
৩০০ সংক্রমণে থালা বাজিয়ে লকডাউন করেছিলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী। করজোড়ে অনুরোধ করেছিলেন যে যেখানে আছেন এই কদিন সেখানেই থাকুন; কিন্তু থাকবে তো বোঝা গেল, তা সেটা কোথায়? খাবে টা কি? উত্তর নেই!
আসলে উত্তর দেওয়ার দরকারও নেই, এরা গরীব কিনা! এরা মানুষ নয়, শুধুই ভোটার। মালগাড়ির ধাক্কায় যেদিন ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল ১৫ জন শ্রমিকের দেহ, সেইদিনই জানা গেল ১৫ মে ২০২০ থেকে আরও নানান দেশ থেকে বিমানে করে ফিরিয়ে আনা হবে ভারতীয় নাগরিকদের! এরা সম্মানীয় নাগরিক আর ওরা পরিযায়ী শ্রমিক তফাৎ তো আছেই! তাই ৬৪ টি প্লেন আর ৩ টি জাহাজের ব্যাবস্থ!
কিন্তু এখন দেখুন করোনার দ্বিতীয় ঢেউ উঠেছে দেশজুড়ে। যা আগের থেকে আরও ভয়ঙ্কর। অপরিকল্পিত লকডাউন ঘোষণাকারী প্রধানমন্ত্রী গতবছর বলেছিলেন, ‘তিন সপ্তাহের জন্যে লকডাউন থাকবে। যে যেখানে আছেন সেখানেই থাকুন।’ তখন সংক্রমণের সংখ্যা ছিল দিনে ৩০০-৪০০ এখন দিনে মৃত্যুর সংখ্যাই প্রায় ৯০০ আর সংক্রমণ, গত ৬ দিন ধরে দের লাখের ওপরে রয়েছে। অন্যদিকে সোনার বাংলা গড়তে প্রধানমন্ত্রী একেরপর এক জনসভা করছেন রাজ্যে। হাজার মানুষের সমাগমে দুরত্ব বিধি তো অনেকদূর মাস্কই নেই অর্ধেকের মুখে! অনেকে বলবেন শুধু প্রধানমন্ত্রীর কথা কেন বলছি। অন্যরাও তো জনসভা করছেন। তাহলে? আমার উত্তর… নরেন্দ্র মোদী দেশের প্রধানমন্ত্রী। বাকিরা নন! ৩০০ সংক্রমণে থালা বাজিয়ে লকডাউন করেছিলেন, এখন প্রতিদিন ৯০০ মৃত্যুতে বাংলায় জনসভা করছেন মোদি!



