নন্দীগ্রামে ভোটের দিনেই উত্তেজনা, কংগ্রেস নেতাকে আটক, CPI এজেন্টকে মারধরের অভিযোগ

নন্দীগ্রামে ভোট শুরু হওয়ার পর কংগ্রেসের ব্লক সভাপতিকে আটক করেছে পুলিশ। CPI এজেন্টকে মারধর এবং একাধিক বুথে বিরোধী এজেন্টদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনে মঙ্গলবার সকাল ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। ভোট শুরুর পর থেকেই একাধিক অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে এলাকায়। নন্দীগ্রাম-১ ব্লক কংগ্রেস সভাপতি শেখ আসাফুল তুল্লাকে পুলিশ আটক করেছে। পাশাপাশি সরবেড়িয়ার একটি বুথে CPI-র এজেন্টকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। কংগ্রেসের তরফেও একাধিক বুথে তাদের এজেন্টদের ঢুকতে না দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

তবে প্রশাসনের বক্তব্য, বড় ধরনের অশান্তির খবর নেই এবং ভোটগ্রহণ চলছে। পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপারও জানিয়েছেন, অভিযোগ পেলেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হচ্ছে। ফলে ভোটের প্রথম দিকের পরিস্থিতিতে অভিযোগ এবং প্রশাসনের বক্তব্য—দুই ধরনের ছবিই সামনে এসেছে।

কেন আটক কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি?

ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পর নন্দীগ্রাম-১ ব্লক কংগ্রেস সভাপতি শেখ আসাফুল তুল্লার বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক মন্তব্য করে এলাকায় অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ পাওয়ার পর নন্দীগ্রাম থানার পুলিশ তাঁকে আটক করে বলে জানা গিয়েছে। বর্তমানে তাঁকে থানায় রাখা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

পুলিশের বক্তব্য, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে প্রয়োজন হলে কোনও ব্যক্তিকে প্রতিরোধমূলকভাবে আটক করা হতে পারে। অর্থাৎ আসাফুল তুল্লার ক্ষেত্রে পুলিশের দাবি, এটি ভোটের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে preventive detention-এর অংশ।

কংগ্রেস অবশ্য এই পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। ভোটের দিন দলের এক নেতাকে আটক করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোরও তৈরি হয়েছে।

CPI এজেন্টকে মারধরের অভিযোগ

নন্দীগ্রামের সরবেড়িয়ার ২১২ নম্বর বুথে CPI-র এজেন্ট শেখ সাদ্দাম হোসেনকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। তাঁর দাবি, মঙ্গলবার সকাল ৬টা নাগাদ তিনি বুথে পৌঁছন। সেই সময়ই বিজেপির কর্মীরা তাঁকে আক্রমণ করেন।

শেখ সাদ্দাম হোসেন CPI-র প্রাক্তন বিধায়ক ইলিয়াস মহম্মদের ছেলে বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগের পর তাঁকে নন্দীগ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হচ্ছে। একই সঙ্গে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভয় দেখানোর অভিযোগও তুলেছেন তিনি।

তবে এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীন ভাবে নিশ্চিত হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় বাহিনী পাঠানো হচ্ছে।

একাধিক বুথে এজেন্ট ঢুকতে বাধার অভিযোগ

কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানও ভোটের শুরুতেই একাধিক বুথ নিয়ে অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, দলের কয়েকজন এজেন্টকে বুথে ঢুকতে দেওয়া হয়নি এবং তাঁদের সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। একই ধরনের অভিযোগ CPI প্রার্থী শান্তিগোপাল গিরির তরফেও করা হয়েছে।

ভোট দিয়ে বেরিয়ে মিলন প্রধান বলেন, ভোটারদের স্বাধীন ভাবে নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের সুযোগ দিতে হবে। তাঁর দাবি, আগের রাত থেকেই কিছু জায়গায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও জানিয়েছেন, দিনের বিভিন্ন সময়ে নন্দীগ্রামের বিভিন্ন বুথে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবেন।

বিজেপির প্রার্থীর দাবি, ভোট হচ্ছে শান্তিতেই

অন্যদিকে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ ভোটের দিন সকালে রেয়াপাড়া শিবমন্দিরে পুজো দেন। সেখান থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দাবি করেন, নন্দীগ্রামে ভোট উৎসবের পরিবেশেই হচ্ছে এবং কোথাও কোনও সমস্যা নেই।

অর্থাৎ একই সময়ে বিরোধী প্রার্থীদের তরফে বুথে এজেন্ট ঢুকতে বাধা, মারধর ও ভয় দেখানোর অভিযোগ উঠলেও বিজেপি প্রার্থীর বক্তব্যে সেই পরিস্থিতির সঙ্গে ভিন্ন ছবি উঠে এসেছে। অভিযোগগুলির বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ এখন গুরুত্বপূর্ণ।

পুলিশের বক্তব্য কী?

পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার অংশুমান সাহা জানিয়েছেন, বড় ধরনের অশান্তির কোনও খবর তাঁদের কাছে নেই এবং মানুষ নির্বিঘ্নেই ভোট দিচ্ছেন। CPI এজেন্টকে মারধরের অভিযোগ প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাহিনী পাঠানো হচ্ছে।

অন্যদিকে শেখ আসাফুল তুল্লাকে আটক করার প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী preventive detention করা হতে পারে।

নন্দীগ্রামে ভোটগ্রহণের প্রথম দিকেই একাধিক অভিযোগ সামনে এলেও প্রশাসনের দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই রয়েছে। ভোটের বাকি সময়ে বুথগুলিতে নিরাপত্তা ও এজেন্টদের উপস্থিতি নিয়ে কমিশন ও প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই এখন নজর।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন