পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মীদের জন্য বড় নির্দেশ জারি করল নবান্ন। রাজ্য অর্থ দপ্তরের নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সব সরকারি কর্মচারীর সার্ভিস বুক ডিজিটাল বা ই-সার্ভিস বুক হিসেবে তৈরি করতে হবে। ইতিমধ্যেই এই নির্দেশ ঘিরে কর্মচারী মহলে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা— অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, সুপ্রিম কোর্টে চলা বকেয়া ডিএ মামলার সঙ্গে কি এই উদ্যোগের কোনও যোগসূত্র রয়েছে?
সম্প্রতি অর্থ দপ্তরের তরফে জারি হওয়া একটি নির্দেশিকা (অর্ডার নম্বর: 835-F(eGov), তারিখ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) অনুযায়ী, আগামী ২০ মার্চের মধ্যে রাজ্যের সমস্ত সরকারি কর্মীর ই-সার্ভিস বুক তৈরির কাজ সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই কাজ দ্রুত শেষ করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিকে বিশেষভাবে সতর্কও করা হয়েছে।

কীভাবে তৈরি হবে ই-সার্ভিস বুক
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী পুরো প্রক্রিয়াটি মূলত দুই ধাপে সম্পন্ন হবে।
প্রথম ধাপে, প্রতিটি দপ্তরে যাঁরা সার্ভিস বুকের দায়িত্বে রয়েছেন— অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট আধিকারিক বা কাস্টোডিয়ান— তাঁরা কর্মচারীদের সার্ভিস বুকের মূল নথিপত্র স্ক্যান করে নির্দিষ্ট পোর্টালে আপলোড করবেন।
দ্বিতীয় ধাপে দায়িত্ব থাকবে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের উপর। তাঁদের সেই স্ক্যান করা নথি যাচাই করে অনলাইনে নিজেদের পরিষেবা সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য সঠিকভাবে এন্ট্রি করতে হবে।


সরকারের লক্ষ্য, ধাপে ধাপে সমস্ত সার্ভিস রেকর্ডকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসা যাতে ভবিষ্যতে প্রশাসনিক কাজ দ্রুত এবং স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করা যায়।
ডিএ মামলার সঙ্গে কি সম্পর্ক?
এই নির্দেশ প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে একটি বড় প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে— সুপ্রিম কোর্টে চলা বকেয়া ডিএ মামলার সঙ্গে কি এই উদ্যোগের কোনও সম্পর্ক রয়েছে?

অনেক কর্মচারীর ধারণা, সম্ভাব্য আর্থিক হিসাব বা বেতন সংক্রান্ত তথ্য দ্রুত সংগ্রহ করার উদ্দেশ্যেই সরকার এই প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করছে।
তবে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, আইনগতভাবে বকেয়া ডিএ মামলার সঙ্গে এই নির্দেশিকার সরাসরি কোনও সম্পর্ক নেই।
কেন হঠাৎ এই তাড়াহুড়ো
আসলে ই-সার্ভিস বুক চালুর পরিকল্পনা নতুন নয়। বেশ কয়েক বছর ধরেই রাজ্য সরকার সরকারি কর্মীদের পরিষেবা সংক্রান্ত সমস্ত নথি ডিজিটাল করার উদ্যোগ নিয়েছিল।
২০১৯ সালের ২৫ মার্চ (অর্ডার নম্বর 1880-F(Y)) প্রথমবার এই সংক্রান্ত নির্দেশ জারি করা হয়েছিল। কিন্তু বিভিন্ন দপ্তরে কাজ সম্পূর্ণ না হওয়ায় বারবার সময়সীমা বাড়াতে হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বহুদিনের অসমাপ্ত প্রকল্প দ্রুত শেষ করার লক্ষ্যেই এবার নতুন করে কঠোর সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে অর্থ দপ্তর।
ভবিষ্যতে কী হতে পারে
প্রশাসনের বক্তব্য, ই-সার্ভিস বুক চালু হলে কর্মচারীদের পদোন্নতি, বেতন সংশোধন, পেনশন সংক্রান্ত হিসাব-নিকাশ এবং পরিষেবা রেকর্ড সংরক্ষণ অনেক সহজ হয়ে যাবে।
যদিও কর্মচারী মহলের একাংশের মতে, এই ডিজিটাল ডেটাবেস ভবিষ্যতে ডিএ বা অন্যান্য আর্থিক পাওনা নির্ধারণের ক্ষেত্রেও সরকারের কাজে লাগতে পারে।
কী করবেন কর্মচারীরা
যেহেতু এটি সরকারি নির্দেশ, তাই সংশ্লিষ্ট সমস্ত কর্মচারীদের আগামী ২০ মার্চের মধ্যে সার্ভিস বুক স্ক্যান, আপলোড এবং তথ্য এন্ট্রির কাজ সম্পূর্ণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক মহলের মতে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই কাজ সম্পন্ন হলে ভবিষ্যতে সরকারি কর্মীদের পরিষেবা সংক্রান্ত বহু জটিলতা কমে যাবে।







