ভোট ডিউটিতে কত টাকা পাবেন? ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রকাশ্যে সম্ভাব্য পারিশ্রমিকের খসড়া তালিকা

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে ভোটকর্মীদের সম্ভাব্য পারিশ্রমিকের খসড়া সামনে এসেছে। প্রিজাইডিং অফিসার থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরের কর্মীরা কত ভাতা পেতে পারেন, তারই একটি প্রাথমিক ধারণা মিলছে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে প্রশাসনিক প্রস্তুতি জোরকদমে শুরু হয়ে গেছে। তারই মধ্যে ভোটকর্মীদের সম্ভাব্য পারিশ্রমিক নিয়ে একটি প্রাথমিক খসড়া তালিকা সামনে আসতেই সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এখনও নির্বাচন কমিশনের তরফে কোনও চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না হলেও, এই খসড়া থেকেই বোঝা যাচ্ছে— ভোটের কাজে যুক্ত বিভিন্ন পদে কর্মরতদের জন্য কত টাকা ভাতা নির্ধারণ করা হতে পারে।

আসন্ন নির্বাচনে ভোটগ্রহণ ও ভোটগণনা প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য হাজার হাজার সরকারি কর্মচারীকে দায়িত্ব দেওয়া হবে। সেই কর্মীদের পারিশ্রমিক কী হতে পারে, তারই একটি প্রাথমিক ধারণা মিলেছে এই খসড়া নির্দেশিকা থেকে।

প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসারদের সম্ভাব্য ভাতা

ভোটকেন্দ্র পরিচালনার মূল দায়িত্ব থাকে প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারদের উপর। খসড়া তালিকা অনুযায়ী, একজন প্রিজাইডিং অফিসার মোট প্রায় ৩০০০ টাকা পারিশ্রমিক পেতে পারেন।

অন্যদিকে প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় পোলিং অফিসারদের সম্ভাব্য ভাতা ধরা হয়েছে প্রায় ২৬০০ টাকা।

এই মোট পারিশ্রমিক কয়েকটি আলাদা খাতে ভাগ করা হয়েছে।

প্রশিক্ষণ ভাতা:
ভোটের আগে সাধারণত দুই দিনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। সেই প্রশিক্ষণের জন্য প্রিজাইডিং অফিসাররা ১০০০ টাকা এবং পোলিং অফিসাররা ৮০০ টাকা পেতে পারেন।

সরঞ্জাম সংগ্রহ ও ভোটের দিন:
ইভিএম ও অন্যান্য নির্বাচনী সরঞ্জাম সংগ্রহের দিনের জন্য প্রিজাইডিং অফিসারদের ৫০০ টাকা এবং পোলিং অফিসারদের ৪০০ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। একইভাবে ভোটের দিন বা গণনার দিনের জন্যও একই অঙ্কের ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে।

রিফ্রেশমেন্ট চার্জ:
দীর্ঘ সময় কাজের কথা মাথায় রেখে দুই দিনের জন্য ১০০০ টাকা টিফিন বা রিফ্রেশমেন্ট চার্জ রাখার প্রস্তাব রয়েছে।

অন্যান্য নির্বাচনী কর্মীদের সম্ভাব্য পারিশ্রমিক

শুধু প্রিজাইডিং বা পোলিং অফিসার নয়, নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত আরও বহু কর্মী রয়েছেন। তাদের জন্যও সম্ভাব্য ভাতার একটি কাঠামো খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মাইক্রো অবজার্ভার: প্রায় ২০০০ টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক।

সেক্টর অফিসার, জোনাল অফিসার ও কাউন্টিং সুপারভাইজার: সম্ভাব্য ১৮০০ টাকা

অ্যাসিস্ট্যান্ট জোনাল অফিসার: প্রায় ১৫০০ টাকা

কাউন্টিং অ্যাসিস্ট্যান্ট: সম্ভাব্য ১৪০০ টাকা

রিসেপশন অফিসার, ক্যাশিয়ার, VAO ও ইন্সট্রাক্টর: সম্ভাব্য ১৭০০ টাকা

ভিলেজ অ্যাসিস্ট্যান্ট, অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মী: প্রায় ১৬০০ টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও বাকি

তবে প্রশাসনিক সূত্রের মতে, এই তালিকাটি এখনও একটি প্রাথমিক খসড়া মাত্র। নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত নির্দেশিকা প্রকাশ করার পরেই প্রতিটি পদের জন্য নির্দিষ্ট পারিশ্রমিক নিশ্চিতভাবে জানা যাবে।

এছাড়াও, যদি প্রশিক্ষণের দিন সংখ্যা দুই দিন থেকে বাড়িয়ে তিন দিন করা হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট ভাতার অঙ্কও বাড়তে পারে বলে জানা যাচ্ছে।

সব মিলিয়ে, এই সম্ভাব্য তালিকা আপাতত ভোটকর্মীদের মধ্যে নির্বাচনকালীন দায়িত্ব ও সম্ভাব্য পারিশ্রমিক সম্পর্কে একটি প্রাথমিক ধারণা তৈরি করেছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত