নজরবন্দি ব্যুরোঃ করোনার বাড়বাড়ন্ত পরিস্থিতির মধ্যেই থেমে নেই ভোটের হাওয়া। রাজ্যের বেশ কয়েকটি পুরসভার নির্বাচন হতে চলেছে। যা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের তৎপরতা তুঙ্গে। করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই আগামী ২২ জানুয়ারি রাজ্যের আসানসোল, শিলিগুড়ি, চন্দননগর এবং বিধাননগর পুরসভায় ভোট গ্রহণ হবে। ভোট দেবেন প্রায় সাড়ে ৪ লক্ষ ভোটার। কিন্তু এই কোভিড পরিস্থিতিতে ভোট হওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত তা নিয়ে মামলা হয়েছে হাই কোর্টে।
আরও পড়ুনঃ বেঁচে থাক বাংলার ভোট, কোভিড আক্রান্তদের জন্যে স্পেশাল সময় বরাদ্দ কমিশনের!!


এদিন সেই মামলার প্রেক্ষিতে রাজ্য নির্বাচন কমিশন হলফনামা পেশ করল আদালতে। পাশাপাশি হলফনামা পেশ করেছে রাজ্য সরকারও। অন্যদিকে জনস্বার্থ মামলাকারী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য জোরাল সওয়াল করেছেন হাই কোর্টে। তাঁর দাবি, বিপর্যয় ঘোষনা করে নির্বাচন পিছিয়ে দিক আদালত।
এদিন কলকাতা হাই কোর্টে বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, “ভোট পরিচালনার প্রশ্নে সর্বোচ্চ ক্ষমতা আছে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের। নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা কমিশনের আছে। এই গুরুতর পরিস্থিতিতে আদালত নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিক।” তাঁর কথায়, “পশ্চিমবঙ্গ সংক্রমণে প্রথম স্থানে রয়েছে। তাই এই হলফনামায় উল্লেখের দিকে না তাকিয়ে, নির্বাচন পিছোনো উচিত। দেশের প্রধানমন্ত্রী মুখ্যমন্ত্রীদের অক্সিজেন নিয়ে সতর্ক করেছেন। কী পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে আমরা কেউ জানি না।”
বিচারপতি কমিশনের আইনজীবীকে প্রশ্ন করেন, “কমিশন বলছে রাজ্য দিনক্ষণ চূড়ান্ত করে, আর রাজ্য বলছে আলোচনার ভিত্তিতে ঠিক হয় নির্ঘন্ট। কোনটা ঠিক?” কমিশনের আইনজীবী আদালতে বলেন, “ভোটের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করে প্রথমে রাজ্য। আইন তাই বলছে। আমরা রাজ্যের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু করি।” তখন রাজ্যের আইনজীবী বলেন, ”ভোট পরিচালনা ও ভোট পিছোনোর প্রশ্নে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে রাজ্য নির্বাচন কমিশনই।”


বিপর্যয় ঘোষনা করে নির্বাচন পিছিয়ে দিক আদালত, জোরালো সওয়াল বিকাশ ভট্টাচার্যের

এরপরে বিচারপতি মন্তব্য করেন, “কমিশনের আইনজীবী জেনে এসে জানাক, ভোট পিছোনোর কোনও আইনি পথ বা সংস্থান আছে কিনা তাদের কাছে।” কিছুক্ষন পড়ে কমিশনের আইনজীবী বলেন, “কমিশনের ক্ষমতা নেই বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়া নির্বাচনকে পিছিয়ে দেওয়ার। যদি রাজ্য না বিপর্যয় ঘোষণা করে।” এভাবেই হাই কোর্টে ভোটের বল রাজ্য সরকারের দিকে ঠেলে দেয় নির্বাচন কমিশন। এখন দেখার বিকাশ রঞ্জনের বিপর্যয় ঘোষনার দাবিকে মান্যতা দিয়ে বিপর্যয় ঘোষনা করে কিনা রাজ্য সরকার!








