নজরবন্দি ব্যুরোঃ মুকুল কে ধরে রাখতে দিলীপের পদোন্নতি, বিজেপি রাজ্য সভাপতি হতে পারেন চানক্য! যারা নিয়মিত খবর ফলো করেন বা রাজ্য রাজনীতির খবর রাখেন তাঁরা জানবেন ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের ১ মাস পর থেকে আচমকাই আর খবরে নেই মুকুল রায়। সংবাদমাধ্যমের সামনে বিজেপির এক এবং একমাত্র মুখ দিলীপ ঘোষ। মাঝে মধ্যে সিআইডি, রাজ্য পুলিশ অথবা ইডি বা সিবিআই খোঁচা না দিলে গত ১ বছর তেমন ভাবে খবরের শিরোনামে নেই মুকুল রায়। তবে এখানে একটা ব্যাপার লক্ষনীয় হল গত ১ বছরে রাজ্য পুলিশ বা সিআইডি তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি-তে যোগ দেওয়া তৃণমূলের অন্য নেতাদের পেছনে পড়ে থাকলেও মুকুল রায় কে সেভাবে ‘ডিস্টার্ব’ করেনি!
আরও পড়ুনঃ ১৩ মাসের বেতনের ভিত্তিতে দিতে হবে ইনকাম ট্যাক্স, নির্দেশ শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের জন্যে!


এমনকি তৃণমূল বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাস খুনে নতুন করে অতিরিক্ত চার্জশিট পেশ করে সিআইডি। সেখানে নাম ঢোকানো হয়েছে রানাঘাটের বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকারের। কিন্তু নাম নেই মুকুল রায়ের। তাঁকে সন্দেহভাজন হিসাবে চিহ্নিত করেছে সিআইডি। এদিকে মুকুল রায়ের মত দক্ষ সংগঠক কে একাধিকবার পরীক্ষা দিতে হয়েছে তিনি আজও কতটা কার্যকর। পঞ্চায়েত বা লোকসভায় সেই পরীক্ষা সাফল্যের সাথে পাশ করেছেন মুকুল। তবে পাশ করলেও প্রমোশন হয়নি। ২০২১ সালের নির্বাচনে তেমনভাবে কোন দায়িত্ব না দিয়ে সুদূর কৃষ্ণনগর উত্তর থেকে প্রার্থী করা হয় তাঁকে।
এহেন মুকুল রায় যে একেবারেই চুপ। অবশ্য তিনি, এবং তাঁর স্ত্রী কৃষ্ণা দেবি উভয়েই করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন এরমধ্যে। মুকুল বাবু বাড়ি ফিরে এলেও তাঁর স্ত্রী এখনও লড়ছেন হাসপাতালে। এদিকে শুভ্রাংশু মা বাবার শরীর খারাপ অথচ বিজেপির কোন নেতা(শুভেন্দু অধিকারী ছাড়া) খোঁজ নেননি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারই মাঝে গতকাল মুকুল জায়ার স্বাস্থ্যের খবর নিতে হাসপাতালে পৌঁছে যান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়! আগুনে যেন ঘৃতাহুতি হয়।
অভিষেক হাসপাতালে যাওয়ার খবর পেয়ে ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে তড়িঘড়ি পৌঁছান দিলীপ ঘোষ। রাত পোহাতেই মুকুল রায় কে ফোন করেন খোদ নরেন্দ্র মোদি… এতদিন পর! কিন্তু কেন? বিজেপি সূত্রে খবর দলের মধ্যে আদি নব্য দুপক্ষের নীরব বিবাদ চরমে উঠেছে। দিলীপ ঘনিষ্ঠ প্রায় ৩৪ জন বিধায়ক মুকুল ঘনিষ্ঠ শুভেন্দুকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে মানতে চাইছেন না। তাঁরা চাইছেন আদি বিজেপির কেউ হোন বিরোধী দলনেতা, নাহলে ইস্তফা দেওয়ার হুমকিও শোনা গেছে অনেকের মুখে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের চাপের মুখে পড়েছেন দিলীপ ঘোষ।


মুকুল কে ধরে রাখতে দিলীপের পদোন্নতি, বিজেপি সূত্রে খবর খোদ নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহ নেমেছেন ড্যামেজ কন্ট্রোলে। এখন থেকেই ২০২৪ লোকসভা এবং ২০২৬ বিধানসভার ঘুটি সাজাচ্ছেন তাঁরা। কোনভাবেই হারাতে চাইছেন না মুকুল রায় কে। বিজেপির ওপর বীতশ্রদ্ধ হয়ে যদি মুকুল রায় তৃণমূলে ফিরে যান সেক্ষেত্রে তাঁর অনুগামিরাও যে একই পথ ধরবেন তা বলাই বাহুল্য। তাই রাজ্য সভাপতি করার ভাবনা। কিন্তু দিলীপ ঘোষ? সূত্রের খবর রাজ্য আরও একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পেতে চলেছে। সেই মন্ত্রী হবেন দিলীপ ঘোষ!







