চরম অরাজকতার পরিস্থিতি বাংলাদেশে। শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। আর, মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতি, সেনাবাহিনী ও ছাত্র সংগঠনের সর্বসম্মতিক্রমে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মহম্মদ ইউনূসকে দেশের প্রধান করা হয়েছে। তাঁর নেতৃত্বেই গড়া হবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। যদিও এই মুহূর্তে ফ্রান্সের প্যারিসে রয়েছেন তিনি। সূত্রের খবর, আর ২৪ ঘন্টা পর অর্থাৎ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে ফিরবেন মহম্মদ ইউনূস!
সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে কোটা সংস্কারকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে যে ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তা অগস্টের শুরুতে কার্যত গণ আন্দোলনে পরিণত। ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন শেখ হাসিনা। দেশত্যাগ করে এই মুহূর্তে আশ্রয় নিয়েছেন ভারতে। যতই সময় যাচ্ছে, ততই পরিস্থিতি আরও ভয়ঙ্কর আকার নিচ্ছে ওপার বাংলায়। সেনার হাতে ক্ষমতা থাকলেও দিকে দিকে জ্বলছে বাংলাদেশ। নিশংসভাবে খুন করা হচ্ছে সাধারণ মানুষদের। একাধিক জেলায় ভেঙে ফেলা হচ্ছে মন্দির, ইসকন। আবার একই সঙ্গে ইসলাম ধর্মালম্বীরা মন্দির পাহারাও দিচ্ছেন, সেই চিত্রও ধরা পড়েছে।
মহম্মদ ইউনূস এর আগেই শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক বয়ান দিয়েছেন। স্বৈরাচারী বলে কটাক্ষ করেছেন মুজিব-কন্যাকে। অভিযোগ, দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে পদ্ধতি মেনে নির্বাচন হয়নি। দেশ থেকে কোটি কোটি টাকা বাইরে পাচার হলেও নিশ্চুপ থেকেছেন হাসিনা। তাছাড়া এবারের ছাত্র আন্দোলনকে যেভাবে হাসিনা নিয়ন্ত্রণে আনতে চেয়েছিলেন তারও কড়া সমালোচনা করেছেন ইউনূস। নিরস্ত্র ছাত্রদের বুকে গুলি চালানোর নির্দেশ আসে হাসিনার তরফ থেকেই।
জানা যাচ্ছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে ইউনূস বাংলাদেশে ফিরবেন। প্রথমে দুবাই হয়ে তিনি বাংলাদেশে নামবেন। ফিরেই ইউনূস সরকারের প্রধান হিসাবে দায়িত্ব নিতে পারেন বলে সূত্রের খবর। ইউনূস বলেছেন, “আমাদের কোনো প্রকার ভুলের কারণে আমাদের এই বিজয় যেন হাতছাড়া হয়ে না যায়। আমি সবাইকে বর্তমান পরিস্থিতিতে শান্ত থাকতে এবং সব ধরনের সহিংসতা এবং স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ বিনষ্ট করা থেকে বিরত থাকতে আহ্বান জানাচ্ছি।”



