মুদ্রাস্ফীতিতে নাকাল দেশবাসী, একলাফে ২৪% বেতনবৃদ্ধি সাংসদদের! বাড়ল ভাতা ও পেনশনও

নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হচ্ছে ২০২৩ সালের ১ এপ্রিল থেকে। অর্থাৎ গত প্রায় দু’বছরের বর্ধিত বেতনের টাকা ‘এরিয়ার’ হিসেবে এককালীন পাবেন বর্তমান সাংসদরা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

একদিকে দেশে লাগাতার মূল্যবৃদ্ধি, চাল-ডাল-তেল সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আকাশছোঁয়া। সাধারণ মানুষ যখন সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন, তখন একলাফে ২৪ শতাংশ বেতন বাড়িয়ে সাংসদদের দেওয়া হল আর্থিক স্বস্তি। সেইসঙ্গে বাড়ানো হয়েছে তাঁদের দৈনিক ভাতা ও প্রাক্তন সাংসদদের পেনশনও।

সোমবার সংসদ বিষয়ক মন্ত্রকের তরফে এক সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এতদিন সাংসদরা প্রতি মাসে ১ লক্ষ টাকা বেতন পেতেন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সেই অঙ্ক এখন থেকে হবে ১ লক্ষ ২৪ হাজার টাকা। অর্থাৎ ২৪ শতাংশ বৃদ্ধি। পাশাপাশি, দৈনিক ভাতা ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ২ হাজার টাকা থেকে ২,৫০০ টাকা।

শুধু তাই নয়, যাঁরা একসময় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছেন, সেই প্রাক্তন সাংসদদের মাসিক পেনশনও বেড়েছে। আগে যেখানে পেনশন ছিল ২৫ হাজার টাকা, এখন থেকে তা হবে ৩১ হাজার টাকা। প্রতি বছর সাংসদ থাকার জন্য অতিরিক্ত পেনশনও ২ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ২,৫০০ টাকা হয়েছে।

এই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হচ্ছে ২০২৩ সালের ১ এপ্রিল থেকে। অর্থাৎ গত প্রায় দু’বছরের বর্ধিত বেতনের টাকা ‘এরিয়ার’ হিসেবে এককালীন পাবেন বর্তমান সাংসদরা।

সরকারের যুক্তি ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া: কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, আয়কর আইন অনুযায়ী মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর জন্যই সাংসদদের এই বাড়তি সুবিধা দেওয়া হয়েছে, যাতে তাঁরা তাঁদের দায়িত্ব নির্বিঘ্নে পালন করতে পারেন।

তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, সাধারণ মানুষের দুঃখ দুর্দশা লাঘবের জন্য যেখানে তেমন কোনও কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না, সেখানে জনপ্রতিনিধিদের সুবিধা বাড়াতে সরকারের এত তৎপরতা কিছুটা অস্বস্তিকর।

বিরোধীদের আশ্চর্যজনকভাবে এই সিদ্ধান্তে কোনও প্রতিবাদ করতে দেখা যায়নি। ফলে সমালোচকরা বলছেন, দেশের সার্বিক আর্থিক অবস্থা নিয়ে যাঁরা মুখে বলছেন, তাঁরাও নিজেদের সুবিধার জায়গায় চুপ থাকেন।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত