নজরবন্দি ব্যুরোঃ সোমবার সংসদে পাশ হতে চলেছে ব্যাঙ্ক বেসরকারিকরণ বিল। কেন্দ্র সরকারের তরফে আনা ওই বিল রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলিকে বেসরকারিকরণের ক্ষেত্রে সুবিধা করে দেবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানালেন সিপি(আই)এমের রাজ্যসভার সাংসদ বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, বেসরকারিকরণের অর্থ পিছিয়ে যাওয়া।
আরও পড়ুনঃ কৃষি আইনের পর ব্যাঙ্ক বেসরকারিকরণ, আন্দোলনের হুঁশিয়ারি কৃষক নেতাদের


তিনি বলেন, “এটি সম্পূর্ণ পুঁজি নির্ভর চিন্তাভাবনা। এর ফলে হাজার হাজার গরীব আমানতকারীরা বিপুল অর্থ হারাতে পারেন। শুরুর দিকে ব্যাঙ্ক বেসরকারি ছিল। সেক্ষেত্রে আমানতকারীরা জমানো টাকা হারাতেন। কিন্তু ব্যাঙ্ক বেসরকারিকরণের ফলে সেই সম্ভাবনা অনেকটা কমে গিয়েছিল। আবার সেই ব্যাঙ্ক বেসরকারিকরণের অর্থ পিছনের দিকে চলে যাওয়া। এরে ফলে সমস্যায় পড়তে হবে সাধারণ মানুষকে”।
বাম নেতার সংযোজন, “নোটবন্দী করে সরকার এমনিতেই সাধারণ মানুষকে বিপদে ফেলে দিয়েছে। এখন ব্যাঙ্কের বেসরকারিকরণ করে সরকার নির্দিষ্ট ২ জন ধনপতিদের জন্য সুবিধা করে দিতে চাইছে। যাদের আয় লকডাউনে দ্বিগুণ হয়েছে। এটা আসলে দেশদ্রোহীতার পরিচয় দেওয়া”।


চলতি বছরেই বাজেট পেশের সময়েই দুটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক বেসরকারিকরণের কথা ঘোষণা করেছিলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। এবার নতুন করে বিল এনে সরকার ব্যাঙ্ক বেসরকারিকরণের প্রক্রিয়া আরও সহজ করতে চাইছে। অধিবেশনে আনা এই বিলে ১৯৭০ এবং ১৯৮০ সালে সালের ব্যাঙ্ক জাতীয়করণের দুটি আইন এবং ১৯৪৯ ব্যাঙ্ক নিয়ন্ত্রণ আইনে সংশোধন করা হবে। গত অধিবেশন না আনলেও এই অধিবেশনে বিল আনতে চলেছে সরকার। ঠিক তখনই যখন ১২ জন রাজ্যসভার সাংসদদের সাসপেণ্ড করে দেওয়া হয়েছে।
বেসরকারিকরণের অর্থ পিছিয়ে যাওয়া, বিস্ফোরক রাজ্যসভার সদস্য

এবিষয়ে বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য -এর বক্তব্য, ” এটা পুরোটাই পরিকল্পনা মাফিক করা হয়েছে। কারণ সরকার জানে লোকসভাতে বিরোধীদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকার কারণে আটকে দেওয়া সম্ভব। কিন্তু রাজ্যসভায় তা সম্ভব নয়। তাই ১২ সাংসদকে সাসপেণ্ড করার পরেই এই বিল আনছে সরকার। এধরনের স্বৈরাচারী সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করি”।







