নজরবন্দি ব্যুরোঃ সোমবার সংসদে পাশ হতে চলেছে ব্যাঙ্ক বেসরকারিকরণ বিল। কৃষি আইনের পর ব্যাঙ্ক বেসরকারিকরণ এর প্রতিবাদে ফের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি কৃষক নেতাদের। সংসদে বিল পাশ হলেই কৃষক আন্দোলনের ধাঁচে দেশজুড়ে প্রতিবাদের হুঁশিয়ারি দিলেন সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার নেতা রাকেশ টিকায়িত।
আরও পড়ুনঃ মধ্যবিত্তের পকেটে ফের চাপ, নতুন বছরে বাড়তে চলেছে জামা – জুতোর দাম!


ট্যুইট করে রাকেশ টিকায়িত জানিয়েছেন, ৬ ডিসেম্বর সংসদে পাশ হতে চলেছে সরকারী ব্যাঙ্ক বেসরকারিকরণ বিল। ব্যাঙ্ক বেসরকারিকরণের প্রতিবাদে দেশজুড়ে কৃষি আইনের মতোই প্রতিবাদ গড়ে তোলা প্রয়োজন। এর প্রতিবাদে ইতিমধ্যেই ১৬ তারিখ এবং ১৭ তারিখ দেশজুড়ে ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে ইউনাইটেড ফোরাম অব ব্যাঙ্ক ইউনিয়ন।
চলতি বছরেই বাজেট পেশের সময়েই দুটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক বেসরকারিকরণের কথা ঘোষণা করেছিলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। এবার নতুন করে বিল এনে সরকার ব্যাঙ্ক বেসরকারিকরণের প্রক্রিয়া আরও সহজ করতে চাইছে। অধিবেশনে আনা এই বিলে ১৯৭০ এবং ১৯৮০ সালে সালের ব্যাঙ্ক জাতীয়করণের দুটি আইন এবং ১৯৪৯ ব্যাঙ্ক নিয়ন্ত্রণ আইনে সংশোধন করা হবে।



ইতিমধ্যেই কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শুক্রবার থেকেই প্রতিবাদ শুরু করেছে ইউনাইটেড ফোরাম অব ব্যাঙ্ক ইউনিয়ন। কলকাতা থেকে দিল্লি যাত্রার মাধ্যমে সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে অল ইন্ডিয়া ব্যাংক অফিসার্স কনফেডারেশন। এবিষয়ে আইবকের রাজ্য সম্পাদক সঞ্জয় দাস বলেন, “এটা ভারতের অর্থনৈতিক স্বাধীনতার লড়াই ,দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াই। শুধুমাত্র ব্যাঙ্ক বিক্রির বিরুদ্ধে লড়ছি না। সমস্ত সরকারী সংস্থা বিক্রির প্রতিবাদে লড়ছি”। আগামী দিনে সারা দেশ এবং রাজ্যের সমস্ত জেলায় আরও জোরদার আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন তাঁরা।
কৃষি আইনের পর ব্যাঙ্ক বেসরকারিকরণ, সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কৃষকরা

এবিষয়ে সর্বভারতীয় কিষাণ সভার সাধারণ সম্পাদক হান্নান মোল্লা বলেন, “স্বাধীনতার পর থেকে ১৯৬৭ সাল অবধি হাজারের বেশী বেসরকারী ব্যাঙ্ক ফেল করেছে। কিন্তু ১৯৬৭ এর পর একটাও সরকারী ব্যঙ্ক ফেল করেনি। বেসরকারি ব্যাঙ্ক ফেল করা মানে আমানতকারীদের টাকা হারানো। মালিকরা তখন সাধারণ মানুষের টাকা নিয়ে অন্য জায়গায় গিয়ে ব্যঙ্ক খোলে। তার জন্যই সরকারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা। মোদি ব্যাঙ্ক বেসরকারিকরণের বিল এনে আবার পুরাতন জায়গায় ফিরে যেতে চায়। এরপর আমানতকারীরা ফকির হবে। শুধুমাত্র তাই-ই নয় কর্মচারীরাও চাকরী সুরক্ষিত থাকছে না”।







