নজরবন্দি ব্যুরোঃ সিবিআইয়ের হেফাজতে থাকাকালীন লালন শেখের অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে ক্রমশ প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এখন ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ঘিরে নতুন চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে খবর, ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, দেহ ঝুলন্ত থাকার কারণেই লালনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি দেহে কোনও আঘাতের চিহ্ন নেই। তবে কী আত্মহত্যা করেছিল লালন? প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
আরও পড়ুনঃ Calcutta High Court: এফআইআর খারিজের আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টে সিবিআই, বাড়ছে উত্তাপ
সোমবার বুধবার রামপুরহাট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তরফে লালনের দেহ তাঁর পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। লালনের গ্রামেই হবে তার শেষকৃত্য। ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকছে রামপুরহাটের এসডিপিও। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে মৃত লালনের দেহ। কিন্তু মৃতদেহ পাওয়ার পর থেকেই সিবিআইয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পের সামনে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে লালন শেখের পরিবার।

লালনের পরিবারের দাবি ছিল, সিবিআই হেফাজতে অত্যাচার চালানো হয়েছে লালনের ওপর। এমনকি তাঁর জিভ কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এরই মধ্যে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অন্য আসায় নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। বলা হচ্ছে, লালনের শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন নেই। খুনের ঘটনার ক্ষেত্রে যে সমস্ত চিহ্ন পাওয়া যায়, এখানেই সেই সমস্ত কিছুই মেলেনি।
মঙ্গলবার রামপুরহাট হাসপাতালে দুপুর সাড়ে ৩টে থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত চলে লালনের দেহের ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া। গোটা প্রক্রিয়ার ভিডিয়োগ্রাফিও করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত করেন ৪ চিকিৎসকের দল। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ম্যাজিস্ট্রেটের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
আত্মহত্যা করেছিল লালন! উঠছে প্রশ্ন

অন্যদিকে, সিবিআই অফিসারদের নাম উল্লেখ করে লালনের পরিবার দাবি করে, তাঁদের বার বার হুমকি দেওয়া হয়েছে। লালনকে মেরে ফেলা হবে বলে ভয় দেখানো হয়েছে। কখনও হার্ড ডিস্ক না পেলে ৫০ লক্ষ টাকা চাওয়া হয়েছে। এর পর পুলিশের তরফে দায়ের হওয়া এফআইআরে মোট ৭ সিবিআই আধিকারিকের নাম রয়েছে। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ ও ১২০ বি ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। পরিকল্পনামাফিক খুন ও খুনের ষড়যন্ত্রে অংশগ্রহণ করার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে।



