নজরবন্দি ব্যুরোঃ করোনায় মৃত্যু মিছিল কলকাতায়, প্রতিদিন লাফ দিয়ে বাড়ছে মৃত্যু সংখ্যা। এদিকে ধাপা-নিমতলায় চুল্লির সংখ্যা কম থাকায় দীর্ঘক্ষণ ধরে কোভিডের মৃতদেহ পড়ে থাকছে শেষকৃত্যের জন্য। এই নজিরবিহীন পরিস্থিতি সামলাতে দাহর জন্য চুল্লি বাড়াচ্ছে কলকাতা পুরসভা। এতদিন ধাপার পাশাপাশি নিমতলা শ্মশানে ১টি চুল্লী চালু থাকত কোভিডের শবদাহ করার জন্যে, কিন্তু পরিস্থিতির বিড়ম্বনায় আরও চারটি বৈদ্যুতিক চুল্লি চালু করছে পুরসভা।
আরও পড়ুনঃ এক মাসে সুস্থতার হার কমল ১৪ শতাংশ, আজ করোনায় মৃত ৯৬ জন রাজ্যবাসী।
শুক্রবার কলকাতা পুরসভায় রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের উপস্থিতিতে এক বৈঠকে চুল্লী বারানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, ধাপায় চারটি, নিমতলায় চারটি এবং বিরজুনালার ১টি চুল্লিতেই আগের মতো কোভিডের দেহ দাহ করবে পুরসভা। ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন,“এখন যেহেতু কোভিডেই বেশি মানুষ মারা যাচ্ছেন তাই চুল্লির সংখ্যা বাড়ানো হল। মৃতদেহ থেকে যেহেতু করোনা সংক্রমিত হয় না, তাই ভয় পাওয়ার কিছু নেই। ৮০০ থেকে ১১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় দেহ পোড়ানো হয়, তার পর কোনও জীবাণু বেঁচে থাকতে পারে না।”
এছাড়াও স্থানীয় ভিত্তিতে হাওড়া, খড়দহ, বারুইপুর, ক্যানিং, রাজপুরেও কোভিডে মৃতদের দেহের দাহকার্য পরিচালনা করবে জেলাপ্রশাসন। পাশাপাশি কোভিডে মৃত্যুর ডেথ সার্টিফিকেট পেতে সমস্যা যাতে না হয় সে বিষয়েও উদ্যোগ নিয়েছে পুরসভা। ফিরহাদ বলেন,“অনেক কোভিড মৃতের দাহর সময় নিকটাত্মীয়রা নানা কারণে শ্মশানে যেতে পারছেন না। এবার শ্মশানেই হাতে হাতে ডেথ সার্টিফিকেট দেওয়া হবে, নয়তো যোগাযোগ করলে পুরসভাই বাড়িতে ডেথ সার্টিফিকেট পৌঁছে দেবে।”
কোভিড দেহ দাহ প্যাকিং করা নিয়ে পুরমন্ত্রীর পরামর্শ, “যেহেতু প্লাস্টিক পুড়লে যেমন বায়ুদূষণ বাড়ছে তেমনই দাহর পর তৈলাক্ত পদার্থ চুল্লিতে জমা হচ্ছে। চুল্লির পাশাপাশি পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। তাই যদিও সামান্য দাম বেশি পড়বে তবে প্লাস্টিকের পরিবর্তে কাপড়ের কোভিড দেহ মুড়ে পাঠালে খুব ভাল হয়।” করোনায় মৃত্যু মিছিল কলকাতায়, আজ শহরে মারা গিয়েছেন ২৮ জন। যা সার্বিক করোনা কালে রেকর্ড!



