বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় সক্রিয় সন্ন্যাসী চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারের পর উত্তেজনা আরও বেড়েছে। নতুন করে আরও দুই সন্ন্যাসী রুদ্রপ্রতি কেশব দাস এবং রঙ্গনাথ শ্যামসুন্দর দাসকে গ্রেফতার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ। চিন্ময়কৃষ্ণের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে এবং তাঁকে খাবার, ওষুধ ও টাকা পৌঁছে দিতে গিয়ে গ্রেফতার হন তারা।
চট্টগ্রামের জেলে চিন্ময়কৃষ্ণের সঙ্গে দেখা করার পর ফেরার পথে দু’জন সন্ন্যাসীকে আটক করা হয়। প্রবর্তক সঙ্ঘের প্রিন্সিপাল স্বতন্ত্র গৌরাঙ্গ দাস জানান, কোতোয়ালি থানায় আটক রাখার পর তাঁদের জেলে পাঠানো হয়। পুলিশ জানিয়েছে, চিন্ময়কৃষ্ণের গ্রেফতারের মামলার তদন্তেই তাঁদের সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার করা হয়েছে।


ইসকন কলকাতার মুখপাত্র রাধারমণ দাস এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, বাংলাদেশে নিরপরাধ সন্ন্যাসীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। চিন্ময়কৃষ্ণের পর আরও দুই সন্ন্যাসীকে আটকের ঘটনায় ইসকন গভীরভাবে মর্মাহত।
গত অগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চিন্ময়কৃষ্ণের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাঁর মুক্তির দাবিতে পথে নেমেছেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ। চট্টগ্রাম ও রংপুরে প্রতিবাদী সমাবেশে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে এক আইনজীবীর মৃত্যু পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে ইসকনকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে বাংলাদেশ হাই কোর্টে একটি মামলা করা হয়েছিল। সরকার ইসকনকে ধর্মীয় মৌলবাদী সংগঠন বলে উল্লেখ করলেও আদালত সেই আবেদন খারিজ করেছে।


বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লি। একই সঙ্গে কলকাতায় সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।








