নতুন মরসুম শুরু হতে এখনও কয়েক মাস বাকি। কিন্তু তার আগেই দল গোছানোর কাজে নেমে পড়েছে মোহনবাগান। আইএসএল ও অন্যান্য ট্রফিতে সাফল্যের ধারা বজায় রাখতে এবার বসনিয়ার জাতীয় দলের অভিজ্ঞ ফুটবলার সামির জেলকোভিচকে দলে ভিড়িয়েছে সবুজ-মেরুন শিবির।
গত মরসুমে পঞ্জাব এফসির হয়ে নজরকাড়া পারফরম্যান্স করেছিলেন সামির। মূলত ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে খেললেও প্রয়োজনে সেন্টার-ব্যাকের ভূমিকাতেও সমান দক্ষ এই ২৮ বছর বয়সি ফুটবলার। তাঁর বহুমুখী ভূমিকা পালনের ক্ষমতাই মোহনবাগান কর্তাদের সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করেছে বলে জানা গিয়েছে।
প্রায় ছ’ফুট উচ্চতার সামির শুধু রক্ষণ সামলান না, আক্রমণ গড়তেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারেন। মাঝমাঠ থেকে খেলা নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি প্রয়োজনমতো প্রতিপক্ষের বক্সে উঠে গিয়ে গোলের সুযোগ তৈরি করতেও সিদ্ধহস্ত তিনি।
বসনিয়া প্রিমিয়ার লিগ থেকে শুরু করে উজবেকিস্তানের লিগ— বিভিন্ন দেশে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। প্রতিটি লিগেই গোল করা ও করানোর দক্ষতা দেখিয়েছেন সামির। সদ্য শেষ হওয়া আইএসএল মরসুমে পঞ্জাবের জার্সিতে দুটি গোল করার পাশাপাশি তিনটি গোলের অ্যাসিস্টও করেছিলেন তিনি।
মোহনবাগানের সঙ্গে দুই বছরের চুক্তি সই করার পর নিজের উচ্ছ্বাস গোপন করেননি এই বসনিয়ান ফুটবলার। তিনি জানিয়েছেন, ভারতে আসার পর থেকেই মোহনবাগানের ঐতিহ্য, সাফল্য এবং সমর্থকদের উন্মাদনার কথা শুনেছেন। যুবভারতীতে প্রতিপক্ষ দলের হয়ে খেলতে নেমেও সবুজ-মেরুন সমর্থকদের আবেগ কাছ থেকে অনুভব করেছেন বলে জানান তিনি।
সামিরের কথায়, দেশের সবচেয়ে সফল ক্লাবের জার্সি গায়ে চাপানোর সুযোগ পাওয়া তাঁর কাছে গর্বের। নতুন সতীর্থদের সঙ্গে মাঠে নেমে আরও ভালো পারফরম্যান্স দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে আইএসএল-সহ সব প্রতিযোগিতায় শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়েই কলকাতায় আসছেন বলে জানিয়েছেন বসনিয়ার এই ফুটবলার।
নতুন মরসুমের আগে এই সই নিঃসন্দেহে মোহনবাগানের শক্তি আরও বাড়াল। অভিজ্ঞতা, শারীরিক সক্ষমতা এবং বহুমুখী দক্ষতা— সব মিলিয়ে সামির জেলকোভিচ সবুজ-মেরুন মাঝমাঠে কতটা প্রভাব ফেলতে পারেন, এখন সেদিকেই নজর ফুটবলপ্রেমীদের।



