আন্তর্জাতিক কূটনীতির মঞ্চে ফের একবার পাকিস্তানের অপ্রাসঙ্গিক অবস্থান স্পষ্ট হয়ে উঠল। এসসিও বৈঠকে মোদি-পুতিন খোশগল্প করতে করতে পাশাপাশি হাঁটলেন। কিন্তু পাশে দাঁড়িয়ে থাকা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে একবারও পাত্তা দিলেন না দুই শক্তিধর নেতা। এই দৃশ্যের ভিডিও ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়ে গেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
ভিডিওতে দেখা যায়, হাসিমুখে আলিঙ্গন করে এগোচ্ছেন নরেন্দ্র মোদি ও ভ্লাদিমির পুতিন। দু’জনের খোশগল্প চলতে থাকে। অথচ একপাশে কাঁচুমাচু মুখে দাঁড়িয়ে ছিলেন শাহবাজ শরিফ। তাঁদের দিকে তিনি তাকালেও, মোদি ও পুতিন আর একবারও পিছনে তাকাননি।
নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়া দারুণ ঝড় তুলেছে অনলাইনে। কারও মন্তব্য, শাহবাজকে দেখে মনে হচ্ছে যেন রেস্তরাঁয় টিপসের জন্য অপেক্ষা করা এক ওয়েটার। আবার কেউ লিখেছেন, পাকিস্তান এখন এমনই ভিখারির অবস্থায় যে, তাদের প্রধানমন্ত্রীকেও আন্তর্জাতিক মঞ্চে দাঁড়িয়ে অপমান সহ্য করতে হচ্ছে।
শুধু তাই নয়, বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে পাকিস্তানের অবস্থান কতটা দুর্বল হয়ে পড়েছে, সেটাই বোঝাতে চাইছিলেন মোদি ও পুতিন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারত-রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক এবং পাকিস্তানের নিস্প্রভ ভূমিকা এই ভিডিওতে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে।
রবিবারই চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন নরেন্দ্র মোদি। সেখানেই নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়। আর সোমবার পুরনো মিত্র ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন তিনি। দুই দেশের মধ্যে রাশিয়ান তেল কেনা ও ভারতীয় পণ্যের রফতানি নিয়ে আলোচনা হয়। ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপালেও, রাশিয়া প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ভারতের বাজারের জন্য দরজা খুলে দেওয়ার।
এমন প্রেক্ষাপটে শাহবাজ শরিফকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা পাকিস্তানের জন্য কূটনৈতিক ধাক্কা বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ, অপারেশন সিঁদুরের পর এই প্রথমবার মুখোমুখি হয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি ও শাহবাজ শরিফ। অথচ ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যেও পাকিস্তানকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করা হয়।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর পাকিস্তানের অভ্যন্তরেও অস্বস্তি ছড়িয়ে পড়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় নাগরিকরা লিখেছেন, এটি দেশের মর্যাদার জন্য চরম অপমান। অন্যদিকে ভারতীয় নেটিজেনদের মতে, আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে পাকিস্তান এখন একেবারে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে।
মোদি-পুতিনের বন্ধুত্বপূর্ণ আলাপচারিতা এবং শাহবাজ শরিফের উপেক্ষিত মুহূর্তের এই ভিডিও নিঃসন্দেহে আগামী দিনে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের নতুন বিতর্ক তৈরি করবে।



