১৯৭৭ সালে ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে জন্ম হয়েছিল জোট সরকারের। তারপর থেকে ইন্দিরা গান্ধী, রাজীব গান্ধী এবং নরেন্দ্র মোদিই একমাত্র হয়েছেন একক গরিষ্ঠতার প্রধানমন্ত্রী। সেই মোদি এবার গরিষ্ঠতা হারিয়েও পুনরায় ক্ষমতায় ফিরছেন জোটের হাত ধরে। বিজেপি নেতৃত্ব এতকাল বলে এসেছে, ইউপিএ জমানায় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং হলেও রিমোট কন্ট্রোল ছিল সোনিয়া গান্ধীর হাতে। ২০২৪ সালে সেই ট্র্যাডিশন ফিরছে এনডিএতে।
আরও পড়ুনঃ আমি সিনিয়র মোস্ট MP, মন্ত্রীত্ব না দিলে দল ছাড়বেন সৌমিত্র খাঁ?
আজ, রবিবার সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে তৃতীয়বারের জন্য প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নেবেন নরেন্দ্র মোদি। যদিও সেই সরকারের রিমোট কন্ট্রোল থাকবে দু’জনের হাতে, নীতীশ কুমার এবং চন্দ্রবাবু নাইডু। স্বাভাবিকভাবেই মন্ত্রক বণ্টন নিয়ে জল্পনা চরমে। জানা যাচ্ছে, বিগ ফোর অর্থাৎ অর্থ, স্বরাষ্ট্র, বিদেশ এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রক বিজেপির হাতে থাকার সম্ভাবনা বেশি। কিন্তু রেল, কৃষি, খাদ্য বিপণন, নগরোন্নয়ন, আইনের মতো একঝাঁক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রক তাদের হাতছাড়া হবে।
তবে আইন, স্বাস্থ্য এবং শিক্ষা এই তিন মন্ত্রক নিজেদের হাতে রাখতে মরিয়া মোদি। সমস্যা হল, এবার কোনও শরিকই সান্ত্বনা পুরস্কারের মতো তাৎপর্যহীন মন্ত্রক নিয়ে সন্তুষ্ট হবে না। সবথেকে বড় জল্পনা— স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদে কি অমিত শাহ ফিরবেন? নাকি তাঁকে প্রতিরক্ষায় দিয়ে রাজনাথ সিং কিংবা জগৎপ্রকাশ নাড্ডাকে আনা হবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে? অর্থমন্ত্রক কে পাবেন? নীতীন গাদকারি কি এবার বিগ ফোরে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন?

মন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার ব্যাপারে বিজেপির নিত্যানন্দ রাই, জেডিইউ-র রাজীব রঞ্জন সিং (লাল্লন), রামনাথ ঠাকুর, আরএলডির জয়ন্ত চৌধুরী, এলজেপি (রামরিলাস)-এর চিরাগ পাসোয়ান, জেডিএসের এইচ ডি কুমারস্বামী , আপনা দল (এস)-এর অনুপ্রিয়া প্যাটেল, হামের জিতনরাম মাঝির নামে চর্চা সবথেকে বেশি। চন্দ্রবাবু নাইডুর দলকে দু’টি পূর্ণমন্ত্রক এবং একটি রাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ দেওয়া হতে পারে। অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে উঠে এসেছে টিডিপির রামমোহন নাইডু, পি চন্দ্রশেখর, হরিশ মাথুর এবং বিজেপির ডি পুরন্দেশ্বরীর নাম। বিহারে জেডিইউ এবং অন্য দুই শরিকই তিনটি করে মন্ত্রক পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
১০ বছর পর NDA দুর্বল এবং INDIA শাইনিং, পাঁচ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রক হাতছাড়া বিজেপির!

শিবরাজ সিং চৌহানকে নিয়েও জোর জল্পনা চলছে। তাঁকে মধ্যপ্রদেশের ভোটে প্রধানমন্ত্রী যথেষ্ট উপেক্ষা ও তাচ্ছিল্য করেছিলেন বলে গুঞ্জন বিজেপিতে। এবার মোদি মাত্র দেড় লক্ষ মার্জিনে জয়ী। আর শিবরাজ ৮ লক্ষ ২১ হাজার। তাঁকে কি স্পিকার করা হবে? নাকি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী? আদবানি ও বাজপেয়ি আমলের নেতাদের গুরুত্ব দেওয়ার চাপও রয়েছে মোদির উপর। তাই রাজীবপ্রতাপ রুডি, রবিশঙ্কর প্রসাদদের ফেরানো হতে পারে মন্ত্রিসভায়।



