পিএম টু ডিএম! মমতাকে ব্রাত্য রেখে কোভিড আলোচনায় ডাইরেক্ট জেলাশাসকদের ডাক মোদীর

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ পিএম টু ডিএম! রাজনীতিতে এই কৌশল নতুন নয়, এর আগেও পিএম টু ডিএম মাইনাস সিএম কৌশল শুরু হয়েছিলো। কোভিড পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ১০ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের বাদ দিয়ে সরাসরি জেলাশাসকদের বৈঠকে আওহান করায়  আবার একবার উঠে এসেছে সেই বিতর্কিত কৌশল। ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে বিতর্ক।

আরও পড়ুনঃ ফের বাড়ল দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা! ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ৪ হাজারের বেশি

দেশের খারাপ ভালো সব পরিস্থিতি সামলে নেওয়া গেলেও, এই মুহুর্তে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের কাছে কার্যত বিধ্বস্ত গোতা দেশ। অনেক চেষ্টা করেও নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছেনা পরিস্থিতি। অক্সিজেন-বেডের আকাল, আকাল ভ্যাকসিনের। রাজ্যের চাহিদার কথা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীরা বারবার চিঠি দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীকে। কিছু ক্ষেত্রে আসা সরঞ্জাম বিকল হয়ে পড়ছে কয়েকঘন্টায়। সব মিলিয়ে ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে শুধু গোটা দেশ নয় করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের কাছে থমকে গেছে ‘ব্র্যান্ড মোদী’ও।

আরও পড়ুনঃ আজ শীতলকুচি সফরে রাজ্যপাল, টুইটে তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে

এই অবস্থায় দেশের কোভিড পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে বাংলা সহ মোট ১০ রাজ্যের জেলাশাসকদের নিয়ে বৈঠক ডেকেছেন নরেন্দ্র মোদী। বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে জেলাশাসকদের। বৈঠক হবে আগামী ২০ মে বেলা ১১টায়। ওই বৈঠকে বাংলা সহ মহারাষ্ট্র, কেরল, হরিয়ানা, ছত্তীসগঢ়, ঝাড়খণ্ড, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, ওড়িশা, পুদুচেরির ৫৪ টি জেলার জেলা শাসকদের। তাতে বাংলা থেকে কোভিড পরিস্থিতিতে সংকট জনক  ৯ জেলার জেলাশাসকদের উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে ২০ তারিখের ওই বৈঠকে। সেই মর্মে জেলাশাসকদের সঙ্গে চিঠি গিয়েছে রাজ্যের মুখ্যসচিবের কাছেও।

Capture 7

পিএমও-র ডিরেক্টর রাজেন্দ্র কুমারের তরফ থেকে বাংলার মুখ্যসচিব সহ উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, নদিয়া, হাওড়া, পূর্ব মেদিনীপুর ও হুগলির জেলাশাসকদের বৈঠকে থাকার জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কোভিড পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি যখন বারবার বার্তা দিচ্ছেন মোদীকে, এমনকি গতকাল চিঠি দিয়ে টিকার বিষয়ে প্রস্তাব-পরামর্শ দিয়েছেন। তখনও তাঁকে না জানিয়ে সরাসরি জেলাশাসকদের বৈঠকে ডাকায় ক্ষুব্ধ তিনি। জানিয়েছেন, তিনি জানেন না কাকে কাকে ডাকা হয়েছে ওই বৈঠকে।

সমগ্র ঘটনার প্রেক্ষিতে তৃণমূল সাংসদ সৌগত রাজ জানিয়েছেন,  ‘প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উচিত ছিল প্রথমে রাজ্য প্রশাসনকে অবহিত করা। রাজ্য সরকারই জেলা প্রশাসনকে অবহিত করত। গণতান্ত্রিক কাঠামো অস্বীকার করেছেন মোদী। প্রধানমন্ত্রী কোভিডকে নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের পরিবর্তে প্রচার করতে এখানে এসেছিলেন। ‘ অন্যদিকে বিজেপির তরফ থেকে রাহুল সিনহা জানিয়েছেন, রাহুল সিনহা বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আন্তরিকভাবে দেশের কোভিড পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে চান এবং সে কারণেই তিনি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ৫৪ জেলা প্রশাসনের সাথে কথা বলতে যাচ্ছেন। তৃণমূলের উচিত হবে না এই জরুরি অবস্থা পরিস্থিতি চলাকালীন সময়ে রাজনীতি করা।’

পিএম টু ডিএম!  কিন্তু এই পিএম টু ডিএম কৌশলের ক্ষেত্রে ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে দ্রুত সমাধানের পরিবর্তে অএঙ্ক ক্ষেত্রে অসুবিধে হতে পারে। কারণ মুখ্যমন্ত্রীকে এড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ  শুনবেন নাকি মুখ্যমন্ত্রীর, সেই প্রশ্ন থেকে যায় অনেক বিষয়ে। অন্যদিকে নবান্ন সূত্রের খবর এই পিএম টু ডিএম কৌশলকে  নীতিবিরুদ্ধ বলেছেন মমতা। এবং সেই কারণে একটি প্রতিবাদ পত্রও লিখবেন তিনি। সূত্রের খবর সেই প্রতিবাদ পত্র বাকি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের কাছেও প্রেরণ করা হবে।

 

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত