নজরবন্দি ব্যুরো: ৭৩ তম জন্মদিনে মিঠুন চক্রবর্তীর। তাই সকাল থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভক্তরা শুভেচ্ছা বার্তায় ভরিয়ে দিয়েছেন তাদের প্রিয় অভিনেতাকে। ১৯৭৬ সালে মৃণাল সেনের ছবি ‘মৃগয়া’-র হাত ধরে টলিপাড়ায় ডেবিউ করেছিলেন মিঠুন। কেরিয়ারের শুরু থেকেই মিঠুন অভিনয়, নাচ এবং মার্শাল আর্টে পারদর্শী ছিলেন।
আরও পড়ুন: পরিবারের সবাই নামী তারকা, ফিল্মি পরিবার থেকে এসেও অসফল এই অভিনেতা


তাই মিঠুন চক্রবর্তীর ঝুলিতে রয়েছে তিনটি জাতীয় পুরষ্কার। মিঠুন সব ধরনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এমনকি অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে ‘অগ্নিপথ’ এবং ‘গঙ্গা যমুনা সরস্বতী’ ছবিতেও সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন। হাজারো সম্মান, কিছু বিতর্কও ! পর্দায় মিঠুন মানেই ম্যাজিক তাঁকে নিয়ে রয়েছে হাজারো বিতর্ক । তবু অভিনয় গুণে আজও অনুরাগীদের মনের মনিকোঠায় রয়ে গিয়েছেন মিঠুন চক্রবর্তী ৷

সিনে দুনিয়ায় কেটে গিয়েছে ৫০টা বছর। সারা জীবনে অভিনয় করেছেন প্রায় ৩৭০টি ছবি। কারও কাছে ডিস্কো ডান্সার তো কারও কাছে তিনি মহাগুরু। কীভাবে পৌঁছালেন সাফল্যের চূড়ায়। ১৯৫০ সালে বাংলাদেশে জন্ম হয় মিঠুনের। তিনি অরিয়েন্টাল সেমিনারীতে তাঁর স্কুলজীবন শুরু করেন। তিনি বরিশাল জিলা স্কুলে পড়াশোনা করেন। তারপর পশ্চিমবঙ্গে স্কটিশ চার্চ কলেজে গ্র্যাজুয়েশন করেন।

স্নাতকোত্তর জীবনে তিনি অভিনয় জগতে প্রবেশের জন্য পুনেতে ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইন্সটিটিউটে যোগ দেন। পড়াশোনা শেষ করে অভিনয় জগতে পা রাখেন। নাচের প্রতি শুরু থেকেই ঝোঁক ছিল মিঠুন চক্রবর্তীর। তাই তিনি এক সময় হেলেনের সহকারী হিসাবে কাজ শুরু করেছিলেন। মিঠুনের আশা ছিল মঞ্চে তাঁর নাচ দেখে, সিনেমার কোনও প্রযোজক অথবা পরিচালকের নজরে আসবেন তিনি এবং সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগও পাবেন তিনি।



মিঠুন চক্রবর্তীর একজন কেরিয়ারের শুরু থেকে স্টারডমে পৌঁছানোর জার্নি, অনেক বাঙালি লেখককে আকৃষ্ট করে বই লিখতে অনুপ্রাণিত করেছিল। মিঠুনকে নিয়ে এখনও পর্যন্ত বাংলায় ৫টি বই লেখা হয়েছে। সেই বই গুলি হল ‘মারবো এখানে লাশ পরবে শ্মশানে’, ‘সিনেমায় নামতে হলে’, ‘মিঠুনের কথা’, ‘আমার নয়িকারা’ এবং ‘অনন্য মিঠুন’।

হিন্দি ছারাও বাংলা, ওডিষা, তামিল, ভোজপুরি, পাঞ্জাবি, কন্নড় প্রভৃতি ছবিতে কাজ করেন। তিনি ২০০৯ সাল থেকে রিয়েলিটি টিভি সিরিজ ডান্স ইন্ডিয়া ডান্সে প্রধান বিচারকের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। তিনি সারা জীবন একাধিক পুরস্কার পান। ১৯৭৬ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। মৃগয়া ছবির জন্য। ১৯৯০ সালে ফিল্ম ফেয়ার পুরস্কার পান অগ্নিপথ ছবির জন্য।

সহ অভিনেতার পুরস্কার পেয়েছিলেন তিনি। ১৯৯২ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। তাহাদের কথা ছবির জন্য। ১৯৯৫ সালে ফিল্ম ফেয়ার পুরস্কার পান সেরা খলনায়কের। জল্লাদ ছবির জন্য পেয়েছিলেন পুরস্কার। তারপর ১৯৯৬ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান সেরা সহ অভিনেতা হিসেবে। স্বামী বিবেকানন্দ ছবির জন্য।
৭৩ তম জন্মদিনে মিঠুন চক্রবর্তীর, কিছু অজানা কথা

এহেন বাংলার ছেলেকে নিয়ে বিতর্কও কম হয়নি। রাজনীতিতে যোগ দেবার পর সেই বিতর্ক যেন আরও কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে। কিন্তু সব কিছুর উপরে উঠে এসেছে তাঁর অভিনয় সত্তা। যার উপর ভরসা রেখেছেন গোটা পৃথিবীর মানুষ তাঁর ফ্যানরা। আজ সেই মহান অভিনেতার জন্মদিনে নজরবন্দির পক্ষ থেকে বিনম্র শ্রদ্ধা। শুভ জন্মদিন মিঠুন দা।








