পড়শি দেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ ও তার প্রভাব এপার বাংলায়—এই প্রেক্ষিত টেনে কড়া ভাষায় বক্তব্য রাখলেন বিজেপির তারকা নেতা ও অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। মঙ্গলবার নদিয়ার কল্যাণীতে দলের ‘পরিবর্তন সংকল্প’ জনসভায় তিনি বলেন, হিন্দু-বিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে সমাজকে সতর্ক থাকতে হবে—এমনই বার্তা দেন তিনি।
নদিয়া জেলার কল্যাণী ব্লকের এক সভামঞ্চে বক্তব্যের শুরুতে মিঠুন জানান, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে তাঁর মন ভালো নেই। বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুদের উপর হামলার অভিযোগের কথা উল্লেখ করে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে সামাজিক সম্প্রীতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
মিঠুনের বক্তব্যে রাজনৈতিক প্রতীকী ভাষা ও রূপক ব্যবহৃত হয়। তিনি বলেন, দল ও সমাজকে সংঘবদ্ধ থাকতে হবে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। পাশাপাশি আসন্ন নির্বাচনে দলের জয় নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার ডাক দেন।
মিঠুনের কথায়, ”আমি তুফান, বছরে এক আধ বার আসি, আর যখন আসি তখন প্রলয় ঘটে। আর যখন যাই, তখন যারা নিজেদের ভগবান মনে করে, তাদের অস্তিত্ব মুছে দিয়ে যাই। আমাদের দুধেল গাইয়ের দরকার নেই। আমাদের দরকার তাকে, যে গরু শিং মারতে পারবে। ওই যে ডায়লগ টা আছে না সেটা তো বলতে পারব না, তাই বলছি সিং মারব এখানে, পড়বে ওখানে। কোথায়? নিজেরাই বুঝে নিন। যারা হিন্দু নিধনে নেমেছে, তাদের শিং এর গুঁতো দিতে হবে।” মঞ্চে থাকা দলীয় নেতাদের সব ভেদাভেদ দূরত্ব ভুলে সকলকে একজোট হয়ে নির্বাচনের কাজ করার আহ্বান জানালেন মিঠুন। তিনি বলেন, ”এই নির্বাচনে আমাদের জিততেই হবে। তাই এই লড়াই সকলকে সংঘবদ্ধ হতে হবে। এ নির্বাচন আমাদের শেষ নির্বাচন। ফলে এই নির্বাচনে আমাদের জিততেই হবে।”
এই জনসভায় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী ও বনগাঁর সাংসদ শান্তনু ঠাকুর, কল্যাণীর বিধায়ক অম্বিকা রায়, বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি বিকাশ ঘোষ-সহ অন্যান্য বিজেপি নেতৃত্ব। সভা থেকে সংগঠনের ভিতরকার ভেদাভেদ ভুলে মাঠে নামার আহ্বানও জানান বক্তারা।
মিঠুন চক্রবর্তীর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তৎক্ষণাৎ প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। শাসকদলের তরফে এ ধরনের বক্তব্যকে প্ররোচনামূলক বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে বিজেপির সমর্থকদের মতে, এটি সীমান্তের ওপারের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের প্রকাশ।
সব মিলিয়ে, সীমান্ত-সংলগ্ন অঞ্চলের ঘটনাপ্রবাহ ও তার প্রতিধ্বনি রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়াল—এমনটাই মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।



