নজরবন্দি ব্যুরোঃ নিরাপত্তাহীন অবস্থায় পুলওয়ামায় জঙ্গির গুলিতে প্রাণ হারালেন বিজেপি কাউন্সিলার।গতবছর উপতক্যায় জঙ্গিদের গুলিতে প্রাণ গিয়েছিল বিজেপির যুব নেতার। আর এবার ফের জঙ্গিদের এলোপাথাড়ি গুলিতে প্রাণ গেল বিজেপির কাউন্সিলারের। পুলওয়ামার ত্রাল এলাকায় রাকেশ পণ্ডিত নামের ওই ব্যক্তিকে গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেয় জঙ্গিরা। ঘটনা স্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। পুলিশ সূত্রে খবর নিরাপত্তা ছাড়াই ওই এলাকায় এক বন্ধুর বাড়িতে যান তিনি।
আরও পড়ুনঃ টীকা নিয়েও করোনায় মৃত্যু রাজ্যের ভ্যাকসিন বণ্টনের দায়িত্বে থাকা স্বাস্থ্যকর্তার।


সেখানেই গভীর রাতে দরজা ভেঙে ঢুকে এলোপাথারি গুলি চালায় জঙ্গিরা। সেখানেই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে রাকেশ। গুলিতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আসিফ নামের এক মহিলাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শ্রীনগরের একটি হােটেলে ছিলেন বিজেপি নেতা রাকেশ পন্ডিত। তাঁর ওপর হামলা হতে পারে এমন আশঙ্কা আগেই করা হয়েছিল। জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ জানিয়েছে, শ্রীনগরের হােটেলে নিরাপত্তা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীও মােতায়েন করা হয়েছিল। কিন্তু পুলিশকে না জানিয়েই পুলওয়ামার এক বন্ধুর বাড়িতে চলে যান রাকেশ। নিরাপত্তারক্ষীও সঙ্গে নিয়ে যাননি। এই সুযােগের অপেক্ষাই করছিল জঙ্গিরা। রাতের বেলা তারা হামলা চালায়। হামলার ঘটনায় শােক প্রকাশ করেছেন লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনােজ সিনহা। তিনি বলেছেন, “জঙ্গি হামলার খবর শুনে আমি দুঃখিত। পুলওয়ামার ত্রালে বিজেপি নেতা রাকেশ পন্ডিতের ওপর হামলার ঘটনা খুবই দুঃখজনক। তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা রইল।”
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা পিপলস ডেমােক্র্যাটিক পার্টির প্রধান মেহবুবা মুফতিও জঙ্গি হামলার তীব্র সমালােচনা করে বলেছেন, জম্মু-কাশ্মীরে এই ধরনের হিংসার ঘটনা শুধুই দুর্দশা ডেকে এনেছে। বিজেপি নেতা রাকেশ পন্ডিতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি। প্রসঙ্গত গত বছর কুলগ্রাম জেলার ওয়াইকে পােরা এলাকায় বিজেপি যুব মাের্চার তিন নেতাকে গুলি করে খুন করে জঙ্গিরা। বিজেপি নেতারা সে সময় গাড়িতে যাচ্ছিলেন। জঙ্গিরা গাড়ি লক্ষ্য করে স্বয়ংক্রিয় রাইফেল থেকে গুলি ছুড়ে তাঁদের ঝাঁঝরা করে দেয়।
নিরাপত্তাহীন অবস্থায় পুলওয়ামায় জঙ্গির গুলিতে প্রাণ হারালেন বিজেপি কাউন্সিলার। প্রসঙ্গত, দক্ষিণ কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক ভাবে জঙ্গি-নিশানা হচ্ছেন বিজেপির নেতা-কর্মীরা। গত বছর অগস্টে কুলগাম জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি সাজাদ আহমেদকে খুন করেছিল জঙ্গিরা। জুলাইয়ে গুলি করে মারা হয় বান্দিপােরা জেলা বিজেপির সভাপতি শেখ ওয়াসিম বারি এবং তাঁর ভাই ও বাবাকে। তারপ্রে কাল ফের একই ঘটনার সাক্ষি থাকল উপত্যকা।









