দেশে ফের করোনা আতঙ্ক, গতবছরের কথা মনে করে শিউরে উঠছেন মহারাষ্ট্রের পরিযায়ী শ্রমিকেরা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ দেশে ফের করোনা আতঙ্ক, গতবছরের কথা মনে করে শিউরে উঠছেন মহারাষ্ট্রের পরিযায়ী শ্রমিকেরা। দেশে ফের করোনা আতঙ্ক। দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা হাজার অতিক্রম করেছে। কয়েকদিন ধরে একটানা ঊর্ধমুখী করোনা গ্রাফের পর গতকালের পরিসংখ্যান কিছুটা নেমেছে। সংক্রমণ রুখতে ইতিমধ্যে মাহারাষ্ট্রের বেশ কিছু জায়গায় নাইট কার্ফু জারি করা হয়েছে। আশঙ্কা ফের লকডাইন জারি হওয়ার। রজ্যের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরের কথায় এমনই ইঙ্গিত মিলছে। আর তাতেই কপালে চিন্তার ভাজ পরিযায়ী শ্রমিকদের। গত বছরের স্মৃতি মনে করিয়ে দিচ্ছে তাদের অসহায় পরিস্থিতির কথা।

আরও পড়ুনঃ পুলিশের সামনেই বিজেপি প্রার্থীর উপর হামলা, পথ অবরোধের হুঁশিয়ারি দিলেন দিলীপ ঘোষ।

২৪ মার্ত ২০২০, দেশজুড়ে ২১ দিনের লকডাউন ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তার পর থেকে যত সময় পেরিয়েছে পরস্থিতি কঠিন হয়ে উঠেছিল। বিভিন্ন রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকদের অবস্থা ততই শোচনীয় হয়েছিল। অর্থউপার্জনের জন্য নিজ বাড়ি নিজ রাজ্য ছেড়ে অন্য রাজ্যে গিয়ে কাজ করতে হয় পরিযায়ীদের। লকডাউনের ফলে বন্ধ হয়েছিল রোজগার। পকেটে টাকা না থাকায় অনাহারে পথে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছিলেন তারা। পায়ে হেঁটে নিজের বাড়িতে ফেরার চেষ্টায় পথেই প্রাণ হারিয়েছেন অনেকে। একবছরের মাথায় ফের দেশে থাবা বসিয়েছে করোনা ভাইরাস। ফের জারি করা হয়েছে কার্ফু। আর এই পরিস্থিতিতে গতবছরের কথা মনে করেই শিউরে উঠছেন মহারাষ্ট্রে কর্মরত বিহার, উত্তরপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড, ও বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকরা। নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানালেন মেহেবুব আলি। জরিমারি এলাকায় বস্ত্র শিল্পের সঙ্গে যুক্ত উত্তরপ্রদেশের পরিযায়ী শ্রমিক তিনি।

মেহেবুব জানালেন, ‘আমরা পরিস্থিতির দিকে নজর রেখেছি। এখনও লকডাউন ঘোষণা না হলেও গতবারের যন্ত্রণা আমরা কেউ পেতে চাই না। রোজগার পুরোপুরি বন্ধ ছিল। হাতে ছিল কোনও মতে জমানো ৩ হাজার টাকা। যা খরচ করে ট্রাকের মাথায় চড়ে বাড়ি ফিরেছিলাম।‘ তিনি আরও জানান, ‘রেলের টিকিট বুকিংয়ের জন্য এখন থেকে ভীষণ চাহিদা। গত সপ্তাহেই তাঁর ভাই উত্তরপ্রদেশে চলে গেছে। টিকিট বুকিং কাউন্টারে গিয়ে তিনি জানতে পারেন আগামী ৮ এপ্রিল পর্যন্ত উত্তরপ্রদেশে ফেরার কোনো উপায় নেই।‘

দেশে ফের করোনা আতঙ্ক, গতবছরের কথা মনে করে শিউরে উঠছেন মহারাষ্ট্রের পরিযায়ী শ্রমিকেরা। আলি জানান, ‘গতবছরের কঠিন অবস্থার কথা ভেবেই বাড়ি ফিরতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আপাতত তা সম্ভব নয়। গত দু’মাস ধরে বেতনও অর্ধেক মিলছে। মালিকের তরফে বলা হয়েছে, চাহিদা কম থাকায়ীই মুহুর্তে পুরো বেতন দেওয়া যাবে না।‘ করোনার নয়া স্ট্রেনে সব থেকে বেশি আক্রান্ত হয়েছে মহারাষ্ট্র। সংক্রমণ রুখতে শক্ত হচ্ছে সরকার ও প্রশাসন। নাইট কার্ফু জারি করা হয়েছে। যে কোন মুহুর্তেই লকডাইন হতে পারে। গতবছর অতিমারির সময়ে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেলেও পেটের টানে আবারও কাজের জায়গায় ফিরে আসতে হয়েছে শ্রমিকদের। পরিযায়ীদের আশা, এবার লকডাউন ঘোষণা হলে সরকার তাদের বাড়ি ফেরানোর জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে। এক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের শীর্ষ আধিকারিক দীপক পারাধকর বলেন, ‘লকডাউন নিয়ে জানার জন্য দিনে অন্তত ১০টা করে ফোন পাচ্ছি। গত বছরের কথা ভেবে ভয় পাচ্ছেন সকলে। অনেকেই বলছেন লকডাউনের কথা যেন আগে থেকে জানানো হয়। অনেকেই টিকিটের জন্যও দরবার করছেন।’

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন