ইংল্যান্ডকে হারিয়ে মারাদোনার স্মৃতিতে আবেগঘন বার্তা মেসির—‘এই জয় দিয়েগোর জন্য’

বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ৮৫ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে থেকেও অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন আর্জেন্টিনার। লিওনেল মেসির জোড়া অ্যাসিস্টে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে স্কালোনির দল। ম্যাচ শেষে দিয়েগো মারাদোনার স্মৃতিতে আবেগে ভাসলেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বিশ্বকাপের মঞ্চে আর একবার ইতিহাস লিখল আর্জেন্টিনা। সেমিফাইনালে দীর্ঘ সময় পিছিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তে দুরন্ত প্রত্যাবর্তন করে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠে গেল লিওনেল স্কালোনির দল। লিওনেল মেসি গোল না পেলেও জোড়া অ্যাসিস্ট করে জয়ের অন্যতম নায়ক হয়ে ওঠেন। ম্যাচ শেষে কিংবদন্তি দিয়েগো মারাদোনার স্মৃতিচারণ করে আবেগঘন বার্তা দেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক।

ম্যাচের ৮৫ মিনিট পর্যন্ত এক গোলে পিছিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। তখন অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, মেসির শেষ বিশ্বকাপ অভিযান হয়তো সেমিফাইনালেই শেষ হতে চলেছে। কিন্তু শেষ কয়েক মিনিটেই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। প্রথমে এনজো ফার্নান্দেজ এবং পরে লাউতারো মার্তিনেজের গোলে নাটকীয়ভাবে ঘুরে দাঁড়ায় আলবিসেলেস্তেরা। দুই গোলেই নিখুঁত অ্যাসিস্ট করেন মেসি।

এই ম্যাচটি মেসির কাছেও ছিল বিশেষ। কেরিয়ারে প্রথমবার ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেই জয় তুলে নিলেন তিনি। বিশ্বকাপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দলের নেতৃত্ব দিয়ে আবারও নিজের অভিজ্ঞতার প্রমাণ দিলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক।

ম্যাচ শেষে এক আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী থাকল ফুটবল বিশ্ব। TyC Sports-এর এক সাংবাদিক মেসির হাতে তুলে দেন ১৯৮৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ঐতিহাসিক জার্সির প্রতিরূপ। সেই জার্সি দেখেই ফিরে আসে চার দশক আগের স্মৃতি, যখন দিয়েগো মারাদোনার নেতৃত্বে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা।

জার্সি হাতে নিয়ে মারাদোনাকে স্মরণ করেন মেসি। তিনি বলেন, “আমি নিশ্চিত, দিয়েগো উপর থেকে এই জয় দেখছেন এবং উপভোগ করছেন। আজকের দিনটা ওঁর জন্যও বিশেষ হতো। আমরা চাই এই জয় ওঁর উদ্দেশেই উৎসর্গ করতে। এটা আমাদের পক্ষ থেকে দিয়েগোর জন্য একটি উপহার।”

আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড দ্বৈরথ বরাবরই ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আবেগঘন লড়াই। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে দুই দেশের প্রতিটি সাক্ষাৎই আলাদা গুরুত্ব বহন করে। তাই ইংল্যান্ডকে হারানোর পর নিজের পারফরম্যান্সের চেয়ে মারাদোনার স্মৃতিকেই বেশি গুরুত্ব দিলেন মেসি।

এবার বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচ জিততে পারলে ১৯৬২ সালে ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দু’বার বিশ্বকাপ জয়ের নজির গড়বে স্কালোনির দল। একই সঙ্গে মেসির ফুটবল জীবনে আরও একটি সোনালি অধ্যায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন