নজরবন্দি ব্যুরো: কলকাতায় এসে যেমন বাঙালিদের মন জয় করে নিলেন বিশ্বকাপজয়ী গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, তেমনই ব্যাঙ্গালোরে সাফ কাপ ফাইনালে অনবদ্য সেভ করে গোটা দেশবাসীর হৃদয় জিতলেন ভারতের গোলকিপার গুরপ্রীত সিংহ সাঁধু। কাজেই, এটা বলা যেতেই পারে, গতকাল অর্থাৎ, মঙ্গলবার দিনটা ছিল গোলকিপারদেরই!
আরও পড়ুন: ভালোবাসার চাপে ভাঙল গাড়ির কাঁচ! ‘জয় মোহনবাগান’ বলে সমর্থকদের হৃদয় জিতলেন মার্তিনেজ


ব্যাঙ্গালোরের কান্তিভারা স্টেডিয়ামে নবম বারের জন্য সাফ কাপ চ্যাম্পিয়ন হল ভারত। কুয়েতের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে জিততে নিজেদের সেরাটা দিলেন প্রত্যেক ভারতীয় ফুটবলার, যারা মাঠে দীর্ঘ সময় ধরে লড়াই করে গেলেন। স্বাভাবিকভাবেই, ভারতের এই জয়ে খুশি ক্রীড়াপ্রেমী দেশবাসীরা। এদিন ১২০ মিনিট খেলেও ম্যাচ ১-১ গোলে ড্র হয়। এরপর শুরু হয় পেনাল্টি শুটআউট। সেখানেই চূড়ান্ত নাটকীয় পরিণতি হল ম্যাচের। সেমির পর এবার ফাইনালেও বাঁচিয়ে দিল গুরপ্রীত সিংহ সাঁধুর হাত। ম্যাচ এতটাই হাড্ডাহাড্ডি হল যে, টাইব্রেকারেও প্রথম পাঁচটি শটের পর দু’দলেরই ফলাফল ছিল ৪-৪, এরপর আরেকটি করে শট নেবার সময় ভারতের মহেশ নাওরেম গোল করতে সমর্থ হলেও কুয়েতের খালেদ হাজিয়ার শট বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে আটকিয়ে দেন গুরপ্রীত। ফলে, টাইব্রেকারে ৫-৪ ব্যবধানে সাফ ফাইনাল জিতে নেয় সুনীল ছেত্রীর ভারত।

অন্যদিকে, সাফ ফাইনালের দিনেই মারাদোনা মেসির পর আরেক বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনার খেলোয়াড় এমি মার্তিনেজ এলেন ভালোবাসার শহরে, মানে কলকাতায়। মিলনমেলা প্রাঙ্গণে আয়োজিত হল ‘তাহাদের কথা’ নামক একটি অনুষ্ঠান। সেখানে ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগানের জার্সি উপহার পেলেন মার্তিনেজ। মোহনবাগান সমর্থকদের জন্য পোয়া বারো, ‘জয় মোহনবাগান’ বলে উঠলেন এমি। এরপর মার্তিনেজ গেলেন মোহনবাগান মাঠে। সেখানে উদ্বোধন করলেন পেলে-মারাদোনা-সোবার্স নামাঙ্কিত গেট। দেখলেন মোহনবাগান ডায়মন্ডস বনাম পুলিশ কমিশনারের প্রীতি ম্যাচ। মার্তিনেজকে দেখার জন্য দর্শকদের ভিড় ছিল মাত্রাতিরিক্ত। বলতে কোনো দ্বিধা নেই, গতকাল গোলকিপাররাই ক্রীড়া জগতকে মাতিয়ে রাখলেন। 


ফুটবলে সাধারণত যারা গোল করেন, অর্থাৎ, স্ট্রাইকার তাঁদের নিয়েই মাতামাতি করা হয় বেশি। গোলকিপারদের কথা সেভাবে আলোচনায় আনেন না অনেকেই। তবে, গোলকিপারদের ভূমিকা যে কত বিশাল তা প্রমাণ হয় বড়ো ম্যাচ এলেই। ১৮ই ডিসেম্বর কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে এভাবেই পেনাল্টি শুটআউটে অসম্ভব ক্ষিপ্রতায় বল আটকে আর্জেন্টিনাকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন এমি মার্তিনেজ। তার ঠিক ছয় মাসের ব্যবধানে ৪ই জুলাই সাফ কাপের ফাইনালে নায়ক হয়ে উঠলেন গুরপ্রীত। এভাবেই গোলকিপাররা ম্যাচ জেতাতে সবসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে থাকেন। আর কোনো অদৃশ্য বলে কোথাও গিয়ে যেন একসূত্রে বেঁধে গেলেন মার্তিনেজ এবং গুরপ্রীত।
কলকাতায় মার্তিনেজ, ব্যাঙ্গালোরে গুরপ্রীত, দিনটা ছিল গোলকিপারদেরই!









