নজরবন্দি ব্যুরোঃ শিক্ষাসংসদের চেয়ারম্যান তথা তৃণমূল বিধায়ক মানিক ভট্টাচার্যের সময়টা মোটেই ভাল যাচ্ছেনা। কখনও আদালতের ধমক খেতে হচ্ছে আবার কখনও শুনতে হচ্ছে সাংবাদিকদের চোখা চোখা প্রশ্ন। সব মিলিয়ে বেনজির সঙ্কটের মধ্যে দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন মানিক ভট্টাচার্য। তিনি কতটা বিদ্ধস্ত তাঁর ইঙ্গিত পাওয়া গেল আজ। বিধানসভায় এদিন মানিককে পেয়ে ছেঁকে ধরেন সাংবাদিকরা।
আরও পড়ুনঃ আদিবাসী নেত্রী দ্রৌপদী মুর্মুকে এনডিএ জোটের রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী ঘোষণা বিজেপির।


ইতিমধ্যেই প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে পর্ষদের সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে মানিককে। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে তাঁর জড়িয়ে থাকা নিয়ে ছুটে আসে একের পর এক প্রশ্নবাণ। সেই চোখা চোখা প্রশ্ন সামলাতে পারেননি তৃণমূল বিধায়ক। মেজাজ হারিয়ে ভাষাবিভ্রাট করে ফেলেন তিনি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে মানিক বলে ফেলেন, ‘‘আই অ্যাম রক্তাক্ত বাই প্রেস!’’

শিক্ষক নিয়োগে যে বেলাগাম দুর্নীতি হয়েছে তা রাজ্যের ইতিহাসে বিরল। স্বাধীনতার পর এত বড় দুর্নীতি হয়েছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ঘুষ দিয়ে বেলাইনে নিয়োগ পেয়ে ইতিমধ্যেই চাকরি চলে গেছে ২৬৯ জনের। আর সব কিছুর কেন্দ্রে যে মানুষটির নাম উঠে আসছে তিনি হলে মাণিক ভট্টাচার্য। আজ আদালতে সেই মাণিক ভট্টাচার্যকে কার্যত তুলোধনা করেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।



একের প্রর এক প্রশ্ন করা হয় মাণিক কে। জানতে চাওয়া হয় তাঁর পেশা থেকে শুরু করে জীবন কুণ্ডলী। শেষে বিচারপতি সাফ জানিয়েদেন, নিজের সঙ্গে সঙ্গে মাণিক বাবুর স্ত্রী, ছেলে, মেয়ের (বিয়ের আগের) মোট স্থাবর, অস্থাবর সম্পত্তির হিসেব আদালতে জমা দিতে হবে। এবং তা জমা দিতে হবে একবারেই। পরে কোন ভাবেই সেই হিসেবের সাথে কিছু যোগ বা বিয়োগ করা যাবেনা। এই মামলার শুনানি হবে আগামী ৫ই জুলাই।
‘আমাকে জেলে পাঠিয়ে দাও, আমি জেলে যেতে চাই!’ সাংবাদিকদের প্রশ্নে ‘রক্তাক্ত’ মানিক!
আদালতের কাছে ধমক খেয়ে যখন বেরিয়ে আসছেন মানিক তখনও তাঁকে ছেঁকে ধরেন সাংবাদিকরা। ছুটে আসে একের পর এক প্রশ্ন। মেজাজ হারিয়ে মানিক বলে ফেলেন, ‘‘আমাকে জেলে পাঠিয়ে দাও। আমি জেলে যেতে চাই। জেলের ডাল-রুটি খাব।’’







