নজরবন্দি ব্যুরোঃ মৌখিক প্রতিশ্রুতির ভাঁওতা নয়, TGT চাই! গত ১৮ ই ডিসেম্বর থেকে এ রাজ্যের গ্র্যাজুয়েট শিক্ষকদের সংগঠন বিজিটিএ বিকাশ ভবনের উল্টো দিকে হাইকোর্ট এর রায় অনুযায়ী ন্যায্য টিজিটি স্কেল এর দাবীতে যে ধর্না বিক্ষোভ অবস্থানে বসেছেন, আজ তার সপ্তম দিন। যে ধর্না বিক্ষোভ অবস্থান চলছে তাকে সরাসরি সমর্থন জানাতে আজ ধর্না মঞ্চে হাজির হলেন কবি মন্দাক্রান্তা সেন। তিনি তাঁর স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিমায় তাঁর নিজস্ব কবিতার মাধ্যমে রাজ্য সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন।
আরও পড়ুনঃ বিশবাঁও জলে প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ! বেনিয়মের অভিযোগে মামলা হাইকোর্টে।
তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন,”যেখানে হাইকোর্ট এই ক্যাটাগরির শিক্ষক শিক্ষিকাদের পে স্কেল রেকটিফিকেশন করে, তাদের ন্যায্য বেতনক্রম দেওয়ার রায় দেন, সেখানে কিকরে রাজ্য সরকার এভাবে শিক্ষক শিক্ষিকাদের রাস্তায় নিয়ে এসে দাঁড় করায়, তা এই সভ্য সমাজের বুকে দাঁড়িয়ে ভাবতে লজ্জা লাগে।” তিনি আরও বলেন, “এভাবে চলতে থাকলে পরিবর্তনের পরিবর্তনও হয়তো খুব বেশী দূরে নয়। কারণ যে সরকার শিক্ষক শিক্ষিকাদের ন্যায্য বেতন কাঠামো পাওয়া থেকে বঞ্চিত রাখে,সে সরকারের পতন অবশ্যম্ভাবী।”
মৌখিক প্রতিশ্রুতির ভাঁওতা নয়, G.O. চাই। বিজিটিএ রাজ্য সম্পাদক সউরেন ভট্টাচার্য জানান, “আমরা আমাদের দাবী মেটা না অব্দি এখান থেকে উঠছিনা। মুখ্যমন্ত্রী যদি শিক্ষকদের রাস্তায় এনে বসাতে পারেন,তাহলে আমরাও টিজিটি স্কেল না পেলে এই সরকারকে আস্তাকুঁড়ে ছুঁড়ে ফেলে দিতে একটা মুহুর্তও ভাববো না।”
প্রসঙ্গত ধর্নার চতুর্থ দিনে শিক্ষামন্ত্রী মন্তব্য করেন, ‘এই শিক্ষকদের সব দাবী বিচার বিবেচনা করা হবে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরে।। যদিও সেই মৌখিক আশ্বাসে চিড়ে ভেজেনি। এই ঘোষণা শুনে গ্র্যাজুয়েট শিক্ষকেরা তীব্র প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন।
সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক সৌরেন ভট্টাচার্য বলেন,” শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে একাধিকবার দেখা করে আমরা আমাদের ন্যায্য দাবীপত্র পেশ করেছি। প্রতি বারই উনি আশ্বাস দিয়েছেন। ওনার আশ্বাসে বিশ্বাস রেখেছি।কিন্তু হাইকোর্ট এর রায় আমাদের পক্ষে থাকা সত্ত্বেও উনি যেভাবে বিষয়টিকে “বিবেচনা করা হবে” বলে বলেছেন এবং জের টেনেছেন ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী সময়ের, তাতে করে আমাদের এক লক্ষ কুড়ি হাজার গ্র্যাজুয়েট শিক্ষকদের আন্দোলনের জেদ উনি আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন।



