ঘণ্টার পর ঘণ্টা ডিউটি করে আরজিকরের সেমিনার হলে বিশ্রাম নিতে গিয়েছিলেন তরুণী চিকিৎসক। তাঁকেই খুন করা হয়েছে। তদন্তে নেমে গ্রেফতার করা হয় অভিযুক্তকে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এদিকে তাকে যখন নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল তখনও দেখা গিয়েছে তার শরীরী ভাষায় একেবারে ডোন্ট কেয়ার ভাব। ২৩ অগস্ট পর্যন্ত তার পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। তাকে গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক তদন্তে যে যে তথ্য হাতে এসেছে, তা যথেষ্ট চাঞ্চল্যকর।
পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতের মোবাইলে ভর্তি নীল ছবি। মদের নেশায় সে চুর ছিল! ঠিক কোন পথে তাকে নাগালে পেল পুলিশ, তাও প্রকাশ করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত সঞ্জয় রায় সিভিক ভলান্টিয়ার। ওই দিন তাঁর ডিউটি ছিল আর জি কর হাসপাতালের ওই বিভাগে। তবে হাসপাতালে তার যাতায়াত ছিল নিয়মিত। ঘটনার দিন সেখানকার সিসিটিভি ফুটেজ দেখেই মূলত পুলিশ তাকে নাগালে পায়। জানা যাচ্ছে, ওই রাতে ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট সে ছিল চেস্ট বিভাগের সেমিনার রুমের কাছে।


একাই সেমিনার রুমে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন তরুণী চিকিৎসক। আর সেই সুজগেই এই নির্যাতন ও খুন করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, ধৃত যুবকের মানসিক বিকৃতি রয়েছে। সেই দিকটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের একাংশের সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রেফতারির পরেও নিজের কৃতকর্মের জন্য কোনও অনুতাপ প্রকাশ করেননি অভিযুক্ত। বরং এখনও তাঁর মেজাজ উদ্ধতই।আরজি কর হাসপাতালে ঢুকে যুবতী চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুনের কথা স্বীকার করে নিয়েছেন অভিযুক্ত।
এমনটাই জানা গিয়েছে তদন্তকারীদের সূত্রে। তবে অপরাধ করে তার নাকি কোন তাপ উত্তাপ বা অপরাধবোধ নেই বলেই জানা গিয়েছে। বরং অভিযুক্ত জেরার সময় বলেছেন, ‘ফাঁসি দিলে দিন’। উল্লেখ্য, শুক্রবার হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চার তলার সেমিনার হল থেকে যুবতী ওই চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার হয়। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে জানা গিয়েছে, তাঁর দু’চোখ থেকে রক্ত গড়াচ্ছিল। হাত, আঙুল, পা, পেট-সহ দেহের নানা জায়গায় ছিল আঘাতের চিহ্ন। অপরাধের আগে যুবতীর উপর নৃশংস অত্যাচার চালানো হয়েছিল বলেই প্রাথমিক তদন্তের পর মনে করছেন তদন্তকারীরা।







