দ্বিতীয় দফার ভোটকে সামনে রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নজিরবিহীন কড়াকড়ি আনছে নির্বাচন কমিশন। প্রথম দফা মোটের উপর শান্তিপূর্ণ হলেও বিক্ষিপ্ত অশান্তির অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে এ বার কলকাতা জুড়ে পুলিশ ও আধাসেনার যৌথ বাইক টহলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উদ্দেশ্য একটাই—অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করা।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে রবিবার শহরের নিরাপত্তা খতিয়ে দেখতে বৈঠকে বসেন প্রশাসনের শীর্ষকর্তারা। উপস্থিত ছিলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয়কুমার নন্দ-সহ বিভিন্ন পর্যায়ের আধিকারিকেরা। বৈঠকের পর জানানো হয়, শহরের বিভিন্ন এলাকায় মোট ১৬০টি বাইক টহল দেবে—যেখানে থাকবে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর যৌথ উপস্থিতি।


শুধু টহল নয়, বুথভিত্তিক নজরদারিতেও জোর দিচ্ছে কমিশন। প্রতিটি বুথে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকবে, পরিস্থিতি অনুযায়ী অতিরিক্ত ক্যামেরাও বসানো হতে পারে। কোথায় কত কুইক রেসপন্স টিম থাকবে, অভিযোগ জানাতে কী ব্যবস্থা থাকবে—এসব নিয়েও বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে।
এ বার বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে স্পর্শকাতর বুথগুলিতে। কমিশন সূত্রে খবর, দ্বিতীয় দফায় নজরদারির জন্য ড্রোনের সংখ্যাও বাড়ানো হচ্ছে। শুধু বুথ চত্বর নয়, বুথমুখী রাস্তাগুলিতেও ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—বিশেষ করে কলকাতা ও হাওড়ার মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায়।
অন্যদিকে, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকায় পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছেন। রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন—নির্বাচন যাতে শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক হয়, সে দিকেই গুরুত্ব দিচ্ছে কমিশন।


সব মিলিয়ে, দ্বিতীয় দফার ভোটে নিরাপত্তার কোনও ফাঁক রাখতে চাইছে না কমিশন। শহর জুড়ে নজরদারির এই কড়া ব্যবস্থা ভোটারদের আস্থা বাড়াবে বলেই মনে করছে প্রশাসন।







