ভোটের আগে সংগঠনকে আরও সতর্ক থাকতে বার্তা দিলেন Mamata Banerjee। ঝাড়গ্রামের সভা থেকে দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তাঁর স্পষ্ট নির্দেশ—“আলো নিভে গেলেও ইভিএম আগলে রাখবেন।” পাশাপাশি অভিযোগ তুললেন, ঝাড়খণ্ড থেকে টাকা ও লোক ঢুকিয়ে নির্বাচনে প্রভাব ফেলার চেষ্টা করছে বিজেপি।
একই দিনে একাধিক সভার কর্মসূচি নিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে প্রচারে ব্যস্ত তৃণমূল সুপ্রিমো। কেশিয়াড়ি, গোপীবল্লভপুর, ঝাড়গ্রাম শহর এবং বড়জোড়া—এই চারটি জায়গায় সভা করে বিজেপিকে একের পর এক ইস্যুতে নিশানা করেন তিনি।
ঝাড়গ্রামের সভায় মমতার বক্তব্যে উঠে আসে অনুপ্রবেশ, অশান্তি এবং নির্বাচনী কারচুপির আশঙ্কা। তাঁর দাবি, “ভোটের আগে বাইরে থেকে লোক এনে পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা হচ্ছে।” সেই কারণেই বুথস্তরের কর্মীদের কড়া বার্তা—ভোটের দিন কোনওভাবেই দায়িত্বে ঢিলেমি দেওয়া যাবে না।
আদিবাসী ভোটব্যাঙ্ক নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, সারি ও সারণা ধর্মকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য রাজ্য বিধানসভায় বিল পাশ হয়েছে, কিন্তু কেন্দ্র এখনও তা কার্যকর করেনি। তাঁর কথায়, “২৬-এর পর আমরা আবার চেষ্টা করব।”
কুড়মালি ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়েও তিনি সরব হন। জানান, এই ভাষার জন্য একাডেমি গঠন করা হয়েছে এবং আদিবাসী সমাজের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেয় তাঁর সরকার।
বিজেপিকে কটাক্ষ করে মমতা বলেন, “ভোটের আগে অনেক প্রতিশ্রুতি দেয়, কিন্তু ভোটের পর আর দেখা যায় না।” প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Amit Shah-কেও নাম করে আক্রমণ করেন তিনি।
এছাড়াও সাংস্কৃতিক ইস্যুতেও বিজেপিকে নিশানা করেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর অভিযোগ, বাংলার ঐতিহ্য ও ইতিহাসকে সম্মান না দেখিয়ে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ঝাড়গ্রামের সভা থেকে মমতার বার্তা স্পষ্ট—ভোটের লড়াই শুধু রাজনৈতিক নয়, সংগঠনগত সতর্কতা ও মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই কারণেই কর্মীদের সতর্ক করে তিনি বুঝিয়ে দিলেন, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কোনও ঝুঁকি নিতে রাজি নয় শাসক শিবির।



