নজরবন্দি ব্যুরোঃ এই মুহুর্তে গোটা রাজ্যের নজর ভবানীপুরে। অন্তত ৩০ শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজ্য রাজনীতির ভরকেন্দ্রে রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাড়া। ৩০ তারিখে ভবানীপুরে উপনির্বাচন। নিজের গদি বাঁচিয়ে রাখতে নিজের পাড়া থেকেই ভোট লড়বেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, বিজেপির হয়ে লড়বেন প্রিয়াঙ্কা টিব্রীওয়াল, বামেদের হয়ে শ্রীজীব বিশ্বাস।
আরও পড়ুনঃ বর্ষায় ভাসছে সবং, CBI দপ্তরে আসতে পারলেন না বিধায়ক মানস ভুঁইঞা
২১ এর ভোটে ব্যাপক লিড নিয়ে জিতে ফেরার পর নিজের গদি বাঁচাতে ফের লড়াইয়ের মাঠে মমতা। ওয়াকিবহাল মহলের মতে ২৪ এর ভোটের আগে ভবানীপুরই এখন মিনি ইন্ডিয়া। এ্রখানের জয় পরাজয়ের ওপর নির্ভর করে আছে ২৪ এর লড়াইয়ের ফাইনাল ব্লু প্রিন্ট তৈরি। আর ঠিক সেই কারণেই সব দল তৈরি করছে নিঁখুত যুদ্ধ শলা।
করোনা কালের উপনির্বাচন, শুরু থেকেই কমিশনের তরফে ডুজ অ্যান্ড ডোন্টের তালিকা ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে সব দলের হাতেও। বড়ো সভা, মিটিং, মিছিল করা যাবেন এবার। তৃণমূল এবার চোট চোট পথ সভা, স্ট্রিট কর্নার, ঘরোয়া বৈঠকের আয়োজন করেছে। যেকানে বাকি নেতা মন্ত্রীদের সঙ্গে জনসংযোগ করছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। মানুষের দরজায় পৌঁছে যাচ্ছেন নেতা মন্ত্রীরা।

নির্বাচনে বেরিয়ে ইতিমধ্যেই বিধি ভঙ্গের অভিযোগে নোটিস গিয়েছে বিজেপি প্রার্থীর ঘরে। তার পর থেকেই স্ট্র্যাটেজি বদলে নিয়েছে গেরুয়া শিবির। সকলেই প্রচার করছেন তবে কিছুটা আড়ালে থেকে, প্রার্থী নিজেও প্রচার চালাচ্ছেন গোপনে। তবে হাতে আর মাত্র দিন দশেক। মমতার হয়ে ইতিমধ্যে প্রচারে নেমেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ত্রিপুরায় রাজনৈতিক কর্মসূচী ও মূর্শিদাবাদের প্রচার সেরে একেবারে শেষ পর্যায়ে ফের মমতার হয়ে প্রচারে আসবেন তিনি।
কাল থেকেই ময়দানে নামছেন খোদ প্রার্থী মমতা। দলীয় সূত্রের খবর, ২১ থেকে টানা ২৬ পর্যন্ত এলাকা জুড়ে প্রচার করবেন তিনি। মঙ্গলে শুরু করবেন একবালপুরের ইব্রাহিম রোড থেকে। ২২ তারিখ তিনি প্রচার করবেন চেতলার অহীন্দ্র মঞ্চে, চক্রবেড়িয়া নর্থ ও পদ্মপুকুর রোডের সংযোগস্থলে প্রচার করবেন ২৩ তারিখ, ২৫ তারিখ তিনি সভা করবেন কলিন লেন ও শেক্সপিয়ার সরণি থানার সামনে। ২৬ তারিখ তিনি প্রচার করবেন নিজের পাড়ায় হরিশ মুখার্জি রোডে। সম্ভবত সেটিি শেষ সভা মমতার।
লক্ষ্য মার্জিন বাড়ানো, সমান তালে ডোর টউ ডোর ক্যাম্পেন করবেন ফিরহাদ, সুব্রত সহ বাকি নেতারা। এদিএ শেষ সপ্তাহে গেরুয়া শিবিরের প্রার্থীর হয়ে প্রচারে নামবেন মমতার নন্দীগ্রামের প্রতিপক্ষ শুভেন্দু অধিকারী। সঙ্গে প্রিয়াঙ্কার হয়ে ময়দানে থাকবেন অর্জুন সিং। ভবানীপুর বাইপোল এবং তৃণমূলের প্রচার সম্পর্কে অর্জুনের বক্তব্য, “মমতা বন্দোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দোপাধ্যায় এভাবে প্রচারে নামছেন মানে ওরা জয়ের ব্যাপারে অতটা নিশ্চিন্ত নন। মুখ্যমন্ত্রী যেখানে প্রার্থী, সেখানে তো সাইলেন্ট ভোট হবে।
মানুষ চুপচাপ ভোট দেবে। ভবানীপুরের মানুষ দেখছেন কিছুদিন আগে উনি একবার চলে গেলেন নন্দীগ্রামে। আবার বাধ্য হয়ে ফিরে আসলেন ভবানীপুরে। এর জন্যে আবার তাদের ভোট দিতে হচ্ছে। আর যদি লক্ষ্মীর ভান্ডার, স্বাস্থ্য সাথী এতই করে থাকেন তাহলে এত মন্ত্রী প্রচারে নামছেন কেন?” যদিও এসব মন্তব্যে বিশেষ পাত্তা দিচ্ছে না ঘাসফুল শিবির।



