বৈঠকে অনুপস্থিতির কারণ শুভেন্দুই, অবশেষে মোদীকে জানিয়েই দিলেন মমতা।

বৈঠকে অনুপস্থিতির কারণ শুভেন্দুই, অবশেষে মোদীকে জানিয়েই দিলেন মমতা।
বৈঠকে অনুপস্থিতির কারণ শুভেন্দুই, অবশেষে মোদীকে জানিয়েই দিলেন মমতা।

নজরবন্দি ব্যুরোঃ বৈঠকে অনুপস্থিতির কারণ শুভেন্দুই, অবশেষে মোদীকে জানিয়েই দিলেন মমতা। রাজ্যে ইয়াস আছড়ে পড়ার পর সাইক্লোন মোকাবিলা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠক করার কথা ছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। যদিও শেষ মুহূর্তে সেই বৈঠকে যোগদান থেকে পিছিয়ে আসেন মমতা। যার পরেই জল্পনা ছড়াতে শুরু করে মুখ্যমন্ত্রীর অনুপস্থিতি নিয়ে। দুই পক্ষের তরফ থেকে এই নিয়ে প্রথমে মুখ না খোলা হলেও শুভেন্দুর বৈঠকে উপস্থিতিই যে মমতার বৈঠকে অনুপস্থিতির কারণ সেই ব্যাপারে মোটামুটি নিশ্চিত ছিল রাজনৈতিক মহল।

আরও পড়ুনঃ সুরক্ষায় না, এবার কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা ছাড়লেন উত্তরবঙ্গে বিজেপির তিন বিধায়ক।

কারণ গত শুক্রবার ওই বৈঠকের আগেই বৃহস্পতিবার কেন্দ্রের তরফে রাজ্যকে জানানো হয় ওই বৈঠকে উপস্থিত থাকবে রাজ্যপাল, বিরোধী দলনেতার মত একাধিক ব্যক্তি। যার পরিপ্রেক্ষিতে নবান্নের তরফে মৌখিক ভাবে দিল্লিকে জানানো হয়েছিল, শুভেন্দু ওই বৈঠকে থাকলে মমতা সেখানে উপস্থিত থাকবেন না। কারণ, কোনও ‘দলীয় বিধায়ক’-এর উপস্থিতিতে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন না। সেই মত বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন তিনি।  বৈঠক চলাকালীন তিনি ঘরে ঢুকে প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষয়ক্ষতির লিখিত খতিয়ান তুলে দিয়ে দিঘার উদ্দেশে রওনা হয়ে গিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি নিয়েই তিনি দেখা করেছেন বলেও জানান মমতা। আর এবার রাজ্যের মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে কেন্দ্রকে লেখা চিঠিতে সরকারিভাবে মমতা বুঝিয়ে দিলেন শুভেন্দুর উপস্থিতিই তাঁর অনুপস্থিতির কারণ।

যদিও সরকারি সেই চিঠিতে তিনি শুভেন্দুর নাম লেখেননি। কিন্তু মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে না-ছাড়ার বিষয়ে মোদীকে লেখা পাঁচ পাতার চিঠিতে যে ১৩টি প্রসঙ্গ তিনি তুলে ধরেছেন, তার ৯ নম্বর প্রসঙ্গে মমতা ওই কথা লিখেছেন। মোদীকে লেখা চিঠির তৃতীয় পৃষ্ঠার একেবারে শেষের দিকে মমতা লিখেছেন, “আপনি প্রধানমন্ত্রী-মুখ্যমন্ত্রী বৈঠকের যে পরিবর্তিত কাঠামো আমাদের জানিয়েছিলেন, সেখানে আপনার দলের এক স্থানীয় বিধায়কের নাম ছিল। যেখানে মুখ্যমন্ত্রী-প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে তাঁর উপস্থিত থাকার কোনও এক্তিয়ার নেই।” পাশাপাশিই ওই চিঠিতে মমতা লিখেছেন, রাজ্যপাল এবং অন্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদেরও ওই বৈঠকে থাকার কোনও সাংবিধানিক অধিকার নেই।

বৈঠকে অনুপস্থিতির কারণ শুভেন্দুই, অবশেষে মোদীকে জানিয়েই দিলেন মমতা। কিন্তু ‘সৌজন্যের খাতির’-এ তিনি তা নিয়ে কোনও প্রশ্ন তুলছেন না। অর্থাত্‍, প্রশ্ন তুলছেন শুভেন্দুর উপস্থিতি নিয়ে। যার অর্থ বিজেপি শুভেন্দুকে বিরোধী দলনেতা ঘোষণা করলেও মমতা শুভেন্দুকে এখনও ‘বিরোধী দলনেতা’-র স্বীকৃতি দিচ্ছেন না। তাঁর সেই অভিযোগ এবার সরকারিভাবে নথিবদ্ধ করে রাখলেন মমতা। এখন এই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে কি জবাব দেয় বা কি সিদ্ধান্ত নেয় প্রধানমন্ত্রীর দফতর সেদিকে নজর থাকবে সবার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here