সুরক্ষায় না, এবার কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা ছাড়লেন উত্তরবঙ্গে বিজেপির তিন বিধায়ক।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ সুরক্ষায় না, এবার কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা ছাড়লেন উত্তরবঙ্গে বিজেপির তিন বিধায়ক। রাজ্যে এবারের নির্বাচনে বার বার বিজেপির ২০০ আসনের কথা ঘোষণা করে গিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। যদিও বাস্তবে ১০০ আসনেরও অনেক আগে ৭৭ আসনেই মুখ থুবড়ে পড়েছে বিজেপি। এমন অবস্থায় ভোট পরবর্তী সময়ে কর্মীদের উপর হিংসার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব। এমন অবস্থায় রাজ্যের সমস্ত বিধায়ক- সাংসদদের কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিল কেন্দ্র। যদিও বাস্তবে দেখা যাচ্ছে সেই সুরক্ষা নিতে বিজেপির অনেকেরই অনীহা রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ CBI-এর দাবি মেনে নারদা মামলা কি সরছে অন্যত্র? আজই শুনানি কলকাতা হাইকোর্টে।

কিছুদিন আগেই বিজেপি কর্মীদের উপর অত্যাচারের প্রতিবাদে নিরাপত্তা ছেড়েছিলেন সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়। আর এবার একযোগে কেন্দ্রীয়  নিরাপত্তা ছাড়লেন উত্তরবঙ্গে বিজেপির তিন বিধায়ক। তবে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে তাঁরা কেন্দ্রীয় নিরাপত্তার কথা বললেও এই নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। ভোটের আগেই শিলিগুড়ির বিধায়ক জানিয়েছিলেন জয়লাভ করলেও নিরাপত্তা ব্যবহার করবেন না তিনি। কারণ, স্কুটিতে ঘোরাফেরা করতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন তিনি। এদিকে মাটিগাড়া-নকশালবাড়ির বিধায়ক আনন্দময় বর্মণ ও ডাবগ্রাম ফুলবাড়ির বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, তাঁরা যে এলাকার বিধায়ক। সেখানকার অধিকাংশ মানুষই আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া। নিরাপত্তা নিয়ে সেই এলাকায় গেলে বাসিন্দারা ভয় পাবেন। তাঁরা সমস্যার কথা জানাতেই ভয় পাবেন। সেই কারণেই নিরাপত্তা ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা।

ইতিমধ্যেই নিরাপত্তা ছেড়ে দিয়েছেন তিনি। প্রসঙ্গত মাটিগাড়া-নকশালবাড়ির বিধায়ক আনন্দময় বর্মণ দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপিতে রয়েছেন। এর আগেও ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। তবে জয়লাভ করেননি। এবারই প্রথম জয়ের মুকুট উঠেছে তাঁর মাথায়। শিলিগুড়ির বিধায়ক দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর সিপিএমের সঙ্গেই জড়িত ছিলেন। অশোক ভট্টাচার্যের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন তিনি। একুশের নির্বাচনের আগেই বিজেপিতে যোগ দেন তিনি। অশোক ভট্টাচার্যকে পরাজিত করে শিলিগুড়ি আসনে জয়ী হন তিনি।

সুরক্ষায় না, এবার কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা ছাড়লেন উত্তরবঙ্গে বিজেপির তিন বিধায়ক। ডাবগ্রাম ফুলবাড়ির বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায় দীর্ঘদিন তৃণমূলে ছিলেন। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর বিজেপিতে যোগ দেন তিনি। এই নিয়ে জল্পনা ছড়ালেও তাতে পাত্তা দিতে রাজি নয় বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব।

অন্যদিকে ভোটে পরাজিত বিজেপি নেতা-নেত্রীদের নিরাপত্তা প্রত্যাহার করল কেন্দ্রীয় সরকার। লোক দেখানো হোক বা আক্রান্ত হওয়ার ভয়। বিজেপিতে যোগ দেওয়া যে কেউ একাধিক দাবির সাথে দাবি রেখেছিলেন কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা দিতে হবে। বিজেপি কেন্দ্রের ক্ষমতায় থাকার ফলে এবং স্বরাষ্টমন্ত্রক হাতে থাকায় অমিত শাহ আবদার মিটিয়েছিলেন সর্বস্তরের আগতদের। কিন্তু ভোটে জেতা হয়নি, দখল করা যায়নি বাংলা। তাই এবার সেইসব নেতা বিশেষত রুপলী পর্দার তারকাদের কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা তুলে নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর