বিজেপি থেকে মুখ ফেরাচ্ছেন মতুয়ারা, শান্তনু, সুব্রতদের জন্য দরজা খুলে দিলেন মমতা

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ ২৪ ঘন্টা আগে জেলা সভাপতি পদে ব্যাপক রদবদল ঘটিয়েছে রাজ্য বিজেপি। ঠিক ২৪ ঘন্টার মধ্যে চূড়ান্ত নাটকীয় পর্ব চলছে গোটা বিষয়টিকে ঘিরে। ৫ বিজেপি বিধায়কের হোয়াটস্‌অ্যাাপ গ্রুপ ছাড়ার পরেই তাঁদের তৃণমূলে আসার জন্য আহ্বান জানালেন বনগাঁর প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর। তাঁর সংযোজন বিজেপি থেকে মুখ ফেরাচ্ছেন মতুয়ারা।

আরও পড়ুনঃ দুয়ারে রেশন প্রকল্প স্থগিতের মামলা খারিজ, বিরাট সিদ্ধান্ত হাইকোর্টের

শনিবার বিজেপির তরফে জেলা সভাপতিদের নাম ঘোষণা ক্লরা হয়। প্রায় ৩০ টি সাংগঠনিক জেলার সভাপতিদের বদল করে গেরুয়া শিবির। যা নিয়ে ক্ষোভ বাড়তে শুরু করে। পাঁচ জন বিজেপি বিধায়ক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ছেড়ে বেরিয়ে যান ৫ বিধায়ক। এর মধ্যে রয়েছেন বনগাঁ উত্তরের বিধায়ক অশোক কির্তনীয়া, গাইঘাটার বিধায়ক সুব্রত ঠাকুর, হরিণঘাটার বিধায়ক অসীম সরকার, রাণাঘাটের বিধায়ক মুকুটমণি অধিকারী এবং কল্যাণীর বিধায়ক অম্বিকা রায়।

এই পাঁচ বিজেপি বিধায়ক মতুয়া সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত। বিজেপির অন্দরের এই ক্ষোভকে কাজে লাগাতে এবং তৃণমূলের সাংগঠনিক স্তর আরও মজবুত করতে পাঁচ বিজেপি বিধায়কদের জন্য দরজা খুলে দিলেন মতুয়া মহাসংঘের সঙ্ঘাধিপতি মমতাবালা ঠাকুর। তাঁর বক্তব্য, বিজেপি থেকে মতুয়ারা সরে যাচ্ছে। এটা বুঝতে পেরেই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ছেড়েছেন পাঁচ বিধায়ক। তৃণমূলে স্বাগত। তবে দলে নেওয়ার ক্ষেত্রে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন তিনি।

তাঁর বক্তব্য, মতুয়াদের জন্য একমাত্র কাজ করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতিদিন তাই মতুয়ারা বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে আসার জন্য ইচ্ছাপ্রকাশ করছেন। সেক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেবে দলনেত্রী। পাঁচ বিধায়ক চাইলে তৃণমূলে আসতে পারেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওদের দলে ফেরালে একসঙ্গে আরও ভালো করে কাজ করা যাবে।

বিজেপি থেকে মুখ ফেরাচ্ছেন মতুয়ারা, তৃণমূলে আসার প্রস্তাব মমতার 

বিজেপি থেকে মুখ ফেরাচ্ছেন মতুয়ারা, তৃণমূলে আসার প্রস্তাব মমতার 
বিজেপি থেকে মুখ ফেরাচ্ছেন মতুয়ারা, তৃণমূলে আসার প্রস্তাব মমতার 

রাজ্য কমিটি এমনকি জেলা সভাপতি পদেও মতুয়াদের প্রাধান্য না দেখানোর কারণে ক্ষোভে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পাঁচ বিধায়ক। ২০১৯ সালে তৃণমূল থেকে বিজেপির হাওয়া বদলে মতুয়ারা হয়ে উঠেছিলেন প্রধান ফ্যাক্টর। সময় বদলে তাঁদেরকেই প্রাধান্য না দেওয়ার কারণে নতুন করে ফাঁপরে পড়তে হতে পারে বিজেপিকে। আর মমতা বালা ঠাকুরের প্রস্তাবে ২৪ আগে ভোটের হাওয়া বদলানোর সম্ভাবনা থেকেই যাচ্ছে।

এমত অবস্থায় দলের ক্রাইসিস নিয়ে আলাদা করে বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডার সঙ্গে বৈঠকের জন্য সময় চেয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর। তাঁর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলেও কোনও উত্তর মেলেনি। সেখান থেকে কি ড্যামেজ কন্ট্রোলের জন্য ব্যবস্থা নেবেন কেন্দ্রের নেতারা। ২৪ এর নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে কী পদক্ষেপ নেবেন সেদিকে তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত