সোমবার সকালে ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনা ঘটল রাজ্যে। ফাঁসিদেওয়ার রাঙাপানি স্টেশনের কাছে সকাল ৮টা ৫০ মিনিট নাগাদ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসে ধাক্কা মারল একটি মালগাড়ি। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই মৃত্যু হয়েছে ৮ জনের। আহত বহু। এবার কলকাতা থেকে উত্তরবঙ্গের উদ্দেশে রওনা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আরও পড়ুন: আমেরিকার সঙ্গে পেট্রোডলার চুক্তি বাতিল করল সৌদি, বিশ্ব অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাবের আশঙ্কা!


দুর্ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে যেতে চান মমতা। কিন্তু বিমানে বন্দোবস্ত হয় না। তা নিয়েও এদিন ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। বলেন, “বিমানের যে এই অবস্থা, আমি তো জানতামই না! দুপুর ১২টা ৪০-এ উত্তরবঙ্গের বিমান। সেটা তো বুক হয়ে গিয়েছে পুরো। তার পর সেই বিকেলে বিমান। ইন্ডিগোর বিমানে বুক করা হল। প্রথমে বলছিল, এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান। কিন্তু তা নয়। এত কম বিমান উত্তরবঙ্গে যাওয়ার! অথচ এখানে এসেই বিমানগুলো জ্বালানি তেল ভরে। আর যাওয়ার বেলায় সব বাতিল করবে।”

এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা কেন হল তা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠছে। রেল সূত্রে খবর, সিগন্যালিং সিস্টেমে সমস্যার কারণেই কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের সঙ্গে মালগাড়ির সংঘর্ষ হয়। সিগন্যাল ফেল করেই মালগাড়িটি ধাক্কা মারে কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসে। মালগাড়ির ধাক্কায় ট্রেনের পার্সেল ভ্যান মালগাড়ির ইঞ্জিনের ছাদে উঠে যায়। পিছনের কামরাটি দুমড়ে মুচড়ে যায়।



মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রকে কটাক্ষ করে বলেন, “আমি রেলমন্ত্রী থাকার সময় অ্যান্টি কলিশন ডিভাইস তৈরি করে দিয়ে এসেছিলাম। আজও সেটা কার্যকর হল না। সমস্ত মেট্রোতে এই সিস্টেম করা আছে। তাই দুর্ঘটনা কম হয়। এরা শুধু ভোটের সময় নানান রকম বলবে। কাজের কাজ কিচ্ছু হবে না। রেলব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে।”
আমার তৈরি সিস্টেম আজও কার্যকর হল না কেন? রেলকে প্রশ্ন করে উত্তরবঙ্গে রওনা দিলেন মমতা

সূত্রের খবর, আহতদের সঙ্গে উত্তরবঙ্গ হাসপাতালে গিয়ে দেখা করবেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকে যাবেন কোচবিহারে। সেখানে তাঁর কিছু কাজ রয়েছে। ফিরবেন মঙ্গলবার বিকেলে। রাজ্যের তরফে জেলাশাসক, এসপি, চিকিৎসক এবং অ্যাম্বুল্যান্স ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন মমতা। ঘটনাস্থলে এসেছেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবও। এই দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারকে দেওয়া হবে ১০ লক্ষ টাকা, গুরুতর আহতদের দেওয়া হবে আড়াই লক্ষ টাকা এবং তুলনায় কম আহতদের দেওয়া হবে ৫০ হাজার টাকা, ঘোষণা রেলমন্ত্রকের।







