বিজেপি সাংসদের উপর হামলায় মুখ খুললেন মমতা, দিলেন সংযমের বার্তা

নাগরাকাটায় হামলার ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানালেন, রাজনীতি ভুলে দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে হবে। উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা না করার আহ্বান।

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নাগরাকাটায় বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু (Khagen Murmu) এবং বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের উপর হামলার পর মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। উত্তরবঙ্গে বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শনে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, “এ সময় রাজনীতি নয়, মানুষকে সাহায্য করুন।”

তিনি বলেন, “লোকাল এমপি, এমএলএ-রা আছেন—রাজনীতি ভুলে যান। ভুলে যান কে কোন দলে। ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ান।” একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী সতর্ক করেছেন, কেউ যেন উত্তেজনায় পা না দেন বা এমন কোনও কাজ না করেন যাতে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হয়।

হামলার ঘটনায় নিন্দা মুখ্যমন্ত্রীর
খগেন মুর্মু ও শঙ্কর ঘোষের উপর হামলার ঘটনাকে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক’ বলে নিন্দা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “আমি চাই না কোনও ধরনের সহিংসতা ঘটুক। কারও ওপর আঘাত আসুক, এটা কখনও কাম্য নয়।”

প্রসঙ্গত, সোমবার নাগরাকাটায় বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে হামলার মুখে পড়েন এই দুই বিজেপি নেতা। শঙ্কর ঘোষের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়, আর খগেন মুর্মু গুরুতর জখম হন। তাঁর নাক-মুখ দিয়ে রক্তপাতের সেই ভিডিও ভাইরাল হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়।

মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক নির্দেশ
মমতা জানিয়েছেন, তিনি নিজে ওই এলাকায় যাচ্ছেন না যাতে পরিস্থিতি আরও জটিল না হয়। তবে রাজ্যের ডিজিকে পাঠিয়েছেন তদন্ত ও শান্তি ফিরিয়ে আনতে। মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, “বন্যাদুর্গত এলাকায় ৩০-৪০টি গাড়ি নিয়ে গেলে সাধারণ মানুষের মনে কষ্ট হয়। ওঁদের তো খাবার, আশ্রয় দরকার। আমি রাজনীতি করতে আসিনি, মানুষের পাশে থাকতে এসেছি।”

তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা দ্রুত তৈরি করে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে মুখ্যসচিবের কাছে পাঠাতে। বন্যার জল নামলে রাজ্য সরকার সমস্ত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আর্থিক ও পুনর্বাসন সহায়তা দেবে বলেও জানিয়েছেন।

সংকটকালে ঐক্যের আহ্বান
মমতা আরও বলেন, “মানুষ যখন বিপদে পড়ে, তখন আমাদের কৃতিত্ব নেওয়ার কোনও কারণ নেই। প্রশাসন, এনডিআরএফ, এসডিআরএফ, সিভিল ডিফেন্স—সবাই মিলে কাজ করছে। এখন দরকার সংযম ও ঐক্য।”

মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রতিক্রিয়া রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন ফেলেছে। বিজেপি যদিও রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দিয়েছেন, “আমি চাই শান্তি বজায় থাকুক। আইন নিজের কাজ করবে।”

রাজনৈতিক বার্তা স্পষ্ট
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্যের মধ্যেই স্পষ্ট—তিনি চাইছেন প্রশাসনিক সংকট ও রাজনৈতিক সংঘাতের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে। উত্তরবঙ্গে সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতি, সঙ্গে এই হামলার ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর