নজরবন্দি ব্যুরো: বিন্দুমাত্র লজ্জা থাকলে ক্ষমা চান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে সরাসরি আক্রমণ অধীর চৌধুরীর। একদিকে যখন দেশজুড়ে বচ্চন দের করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবর শুনে চলছে হাঁ হুতাশ, হচ্ছে যজ্ঞ তখন অন্যদিকে বুক ভাসিয়ে কাঁদছেন সরকারি চরম অব্যাবস্থার কবলে পড়া সদ্য সন্তানহারা মা-বাবা। বেডের অভাব নেই, সরকারি ভাঁওতা’র কারনে মারা পড়ল শুভ্রজিৎ।
আরও পড়ুনঃ বেডের অভাব নেই, সরকারি ভাঁওতা’র কারনে মারা পড়ল শুভ্রজিৎ। #Exclusive


তিন-তিনটি হাসপাতাল ফিরিয়ে দিয়েছিল শ্বাসকষ্টে ছটফট করতে থাকা উত্তর ব্যারাকপুর পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নেতাজী পল্লীর বাসিন্দা শুভ্রজিৎ চট্টোপাধ্যাকে। আর এই গড়িমসির জন্য মৃত্যু হয়েছে এই যুবকের। মৃত্যুর পরেই একাধিক হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন পরিবারের লোকজন। একমাত্র সন্তান যাতে চিকিৎসাটুকু পায়, সে জন্য শেষমেশ কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনে এসে আত্মহত্যা করার হুমকি দেন বাবা-মা। অনেক পরে ভর্তি হলেও, প্রাণে বাঁচেনি শুভ্রজিৎ।
এই নিয়ে কংগ্রেস নেতা তথা সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী তোপ দেগেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে, তাঁর কথায় বিন্দুমাত্র লজ্জাবোধ বেঁচে থাকলে ক্ষমা চান মুখ্যমন্ত্রী। উল্লেখ্য, রাজ্যে একটি ১২ ক্লাসের যুবক করোনার যন্ত্রনায় চিকিৎসা না পেয়ে ছটফট করে মারা গেল তা নিয়ে কোন উচ্চবাচ্য না করলেও অমিতাভ বচ্চন করোনা আক্রান্ত হওয়ায় তাঁর সুস্থতা কামনা করে ট্যুইট করতে ভোলেন নি মমতা বন্দ্যোপাধ্যা য়।
অধীর চৌধুরী এদিন বলেছেন, “হাসপাতালে বেড না পেয়ে বিনা চিকিৎসায় কিশোরের মৃত্যু, ― স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রীর লজ্জা নেই??? কিসের এত বড় বড় বাতেলা ?সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ, তাই মানুষ নিজেরা সতর্ক হোন, করোনা-র সাথে লড়াই করতে আত্মরক্ষা করতে নিজেরা সতর্ক হোন,
ছেলেটার মৃত্যু নয়, হত্যা করা হল, ধিক ধিক ধিক্কার।”


প্রসঙ্গত রাজ্য সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী রাজ্যে সেফ হোম রয়েছে ১০৬ টি। যার মধ্যে বেড রয়েছে ৬ হাজার ৯০৮ টি এবং সেখানে ভর্তি রয়েছেন মাত্র ২৪৭ জন! তাহলে কি এই তথ্য শুধুই জনগন কে ভাঁওতা দেওয়ার জন্যে? নাকি বেড আছে কিন্তু করোনা আক্রান্তদের সেখানে সুযোগ দেওয়া হয় চাকরি বাকরির মতই নেতাদের সুপারিশে? উঠছে একাধিক প্রশ্ন। বেডের অভাব নেই, সরকারি ভাঁওতা’র কারনে মারা পড়ল শুভ্রজিৎ?
অধীর বাবু আরও বলেন, “করোনা আক্রান্ত হচ্ছে, হাসপাতালে বেড নেই। একজন রোগীর মাকে বলতে হচ্ছে ভর্তি না নিলে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা করব। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আপনার যদি বিন্দুমাত্র লজ্জাবোধ থাকে, বিন্দুমাত্র সম্মান বোধ থাকে, বিন্দুমাত্র মর্যাদাবোধ থাকে তাহলে বাংলার মানুষের কাছে ক্ষমা চান।”








