সাহিত্য জগতে অপূরণীয় ক্ষতি, আগুনপাখির প্রয়াণে শোক বার্তা অগ্নিকন্যার।

সাহিত্য জগতে অপূরণীয় ক্ষতি, আগুনপাখির প্রয়াণে শোক বার্তা অগ্নিকন্যার।
কথাসাহিত্যিকের প্রয়াণে গভীর শোকপ্রকাশ মুখ্যমন্ত্রীর।

নজরবন্দি ব্যুরোঃ কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হকের প্রয়াণে শোক প্রকাশ করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার রাতে বাংলাদেশের রাজশাহীতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন আগুনপাখির স্রষ্টা। সোমবার রাত ৯টায় রাজশাহী শহরে নিজ বাসভবনে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুকে সাহিত্য জগতে অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

আরও পড়ুনঃ রাজ্যের প্রাপ্য আদায় করতে দিল্লি যাচ্ছেন মমতা, বৈঠক হবে প্রধানমন্ত্রীর সাথে।

তাঁর প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, ‘তাঁর প্রয়াণে সাহিত্য জগতে এক অপূরণীয় ক্ষতি হল। আমি হাসান আজিজুল হকের আত্মীয় পরিজন ও অনুরাগীদের আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি।’

হাসান আজিজুল হক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনার পাশাপাশি লেখালেখি করে গেছেন। তিনি একাধারে গল্প, উপন্যাস ও প্রবন্ধ লিখেছেন। বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।

৮২ বছর বয়সী হাসান আজিজুল হক বেশ কিছু দিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। গত ২১ আগস্ট এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে ঢাকায় আনা হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই সপ্তাহের বেশি সময় চিকিৎসা নেন তিনি। কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর ৯ সেপ্টেম্বর তাঁকে রাজশাহী ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

সাহিত্য জগতে অপূরণীয় ক্ষতি, আগুনপাখির প্রয়াণে শোক বার্তা মমতার

সাহিত্য জগতে অপূরণীয় ক্ষতি, আগুনপাখির প্রয়াণে শোক বার্তা অগ্নিকন্যার।
সাহিত্য জগতে অপূরণীয় ক্ষতি, আগুনপাখির প্রয়াণে শোক বার্তা অগ্নিকন্যার।

গত ১৬ আগস্ট হাসান আজিজুল হকের ছেলে ইমতিয়াজ হাসানের একটি ফেসবুক পোস্টে বাবার অসুস্থতার কথা প্রথম জানা যায়। সে সময় পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছিল, হাসান আজিজুল হক অসুস্থ হয়ে প্রায় এক মাস বাসায় ছিলেন। করোনার কারণে বাসায় রেখেই চলছিল তাঁর চিকিৎসা।

বার্ধক্যজনিত সমস্যা ছাড়াও আগে থেকেই তাঁর হার্টে সমস্যা, ডায়াবেটিস ছিল। তাঁর শরীরে লবণের ঘাটতিও ছিল। করোনার কারণে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়নি। চিকিৎসকের পরামর্শমতো বাড়িতেই তাঁর চিকিৎসা চলছিল। তিনি একবার পড়ে গিয়েছিলেন। তিনি ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে পড়েছিলেন। সেই পরিস্থিতি তাঁকে ঢাকায় আনা হয়েছিল।

হাসান আজিজুল হক ১৯৩৯ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার যবগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। জীবনের অধিকাংশ সময় তিনি রাজশাহীতে কাটিয়েছেন। ১৯৭৩ সালে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০৪ সাল পর্যন্ত একনাগাড়ে ৩১ বছর অধ্যাপনা করেন।

এরপর থেকে হাসান আজিজুল হক বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ব পাশে নগরের চৌদ্দপায় এলাকার আবাসিক এলাকায় বসবাস করতেন। সাহিত্যে অবদানের জন্য হাসান আজিজুল হক ১৯৭০ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পান। ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে একুশে পদকে ভূষিত করে। ২০১৯ সালে তাঁকে স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়া হয়। ১৯৬০ নাগাদ লেখা শুরু করলেও তাঁর প্রথম উপন্যাস ২০০৬ সালে। ২০০৮ সালে আনন্দ পুরস্কার পান হাসান আজিজুল হক।