নজরবন্দি ব্যুরোঃ ভদ্রতা,সৌজন্য,অভিমান,না উপেক্ষা? তিনি বাংলার দাদা, বাঙালীর গর্ব। তিনি সুপারস্টার মিঠুন চক্রবর্তী। আবার তিনি একই সঙ্গে কয়েকবছর আগে রাজনীতির ময়দানে মুখ্যমন্ত্রী মমতার সহকর্মীও। তৃণমূল সুপ্রিমো তাঁকে রাজ্যসভার সাংসদ করে পাঠিয়েছিলেন রাজ্জের মানুষের মঙ্গলের জন্য। আর সেই সময় তিনি মমতার এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছিলেন ছোটবোন মমতার দেওয়া ওই সম্মান তিনি কোনওদিন ভুলবেন না।
আরও পড়ুনঃ বাড়িতেই হবে ভোটের বুথ, সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনের।


মমতার প্রতি তিনি আজীবন কৃতজ্ঞ থাকবেন। তারপর এই কয়েক বছরে গঙ্গা দিয়ে বয়ে গিয়েছে অনেক জল, পাল্টেছে সময়ও। সারদা কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে রাজনীতিতে বীতশ্রদ্ধ হয়ে তৃণমূলের সাংসদের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন সুপারস্টার। এর পর সেভাবে আর তাঁকে রাজনৈতিক ময়দানে দেখা যায়নি। মোটামুটি বলাযায় রাজনৈতিক সন্ন্যাস নিয়েছিলেন তিনি। আজ রবিবার কিছুদিন আগের জল্পনাকে সত্যি করে ব্রিগেড ময়দানে বিজেপির পতাকা হাতে তুলে নিলেন সুপারস্টার মিঠুন। এবং বক্তব্য দিতে উঠে তিনি যা বললেন তাতে করে তার অতিত সহকর্মীদের একটু অন্য রকম লাগতেই পারে।
তিনি বলেন, ‘এই দিনটি আমার কাছে স্বপ্নের দিনের মতো কারণ এই মূহুর্তে আমার সাথে একই মঞ্চে রয়েছেন নরেন্দ্র মোদি।’ তাঁর ছবির ডায়লগ দিয়ে বললেন ‘এক ছোবলেই ছবি, আমি জাত গোখরো’। রাজনৈতিক ময়দানে এই কথা হয়তো ফিল্মি ডায়লগ হিসেবেই মনে করা হবে, কিন্তু মিঠুনের মতো একজন সর্বজন গ্রাহ্য অভিনেতার মুখ থেকে এই ধরনের কথা খুব একটা শোনা যায়নি। আবার তার পুরোনো দল তৃণমূল এবং তার নেত্রীকে নিয়েও কোনও কথা বলতে শোনা গেলো না। এটা হয়তো তাঁর সৌজন্য।
রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন কেন? এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে মিঠুন বলেন, ‘ আরও একটা স্বপ্ন আমি দেখছিলাম যে আমি গরিবের জন্য কিছু করবো, আজ মনে হচ্ছে সেই স্বপ্নটাই দেখতে পাচ্ছি। কারণ স্বপ্ন শুধু দেখার জন্য নয় তা সফল হওয়ার জন্যই আসে।’ ব্রিগেডের ময়দানে যখন আপ্লুত মিঠুন এই বক্তব্য রাখছেন ঠিক তখনই ব্রিগেড থেকে কয়েকশো কিলোমিটার দূরে তাঁর এক সময়ের সহকর্মী ও নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রের জ্বালানি, তেল ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে পদ যাত্রা করছেন। মিঠুন যেমন তার দলনেত্রী সম্পর্কে একটিও শব্দ উচ্চারণ করেননি ঠিক তেমনি মমতাও মিঠুনকে নিয়ে একটিও মন্তব্য করেননি। এটা হয়তো তাদের ব্যক্তিগত সৌজন্যবোধ।


ভদ্রতা,সৌজন্য,অভিমান,না উপেক্ষা? এমনিতেই মমতা তার দলের তারকা রাজনীতিকদের অতিথি হিসেবেই দেখেন। কারণ তিনি বহুবার সংবাদমাধ্যমে বলেছেন ‘ ওনারা সৃষ্টিশীল কাজ করেন, ওনারা আমাদের দলে এসেছেন তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।’ এটা ঘটনা যে তারকারা দল ছেড়ে গেলে মমতা তাঁদের নিয়ে খুব একটা বিরুপ মন্তব্য করেন না। কিন্তু কোনও রাজনীতিবিদ দল ছেড়ে গেলে তাদের ছেড়ে কথা বলেন না তৃণমূল সুপ্রিম। হয়তো সেই সৌজন্যবোধ থেকেই প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেনি তৃণমূল সুপ্রিম। অপরদিকে বিভিন্ন চাপ পুরনো স্মৃতি কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে রাজনীতিতে প্রায় সন্ন্যাস নিয়ে ফেলা মিঠুন মুম্বাই থেকে উড়ে এসে ব্রিগেড ময়দানে গেরুয়া শিবিরে যোগ দিলেন। এবার দেখার ব্যাপার এটাই যে আসন্ন নির্বাচনে মিঠুন তাস কতটা সঠিক ভাবে কাজে লাগাতে পারে গেরুয়া শিবির।







