নজরবন্দি ব্যুরোঃ নবান্নর বৈঠক, কথা ছিলোই আজ দুপুরের পর থেকে ইয়াস, কোভিড সবকিছুর রিপোর্ট নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে বড়ো প্রশ্ন ছিল এই বৈঠকে আলাপনের উপস্থিতি। গত কয়েকদিন যাবত রাজ্য-রাজনিতিতে তাঁকে নিয়ে যে পরিমাণ চর্চা-আলোচনা হয়েছে, তাতে আজকের বৈথকে তাঁর উপস্থিতির দিকে তাকিয়ে ছিলেন অনেকেই। যদিও মুখ্যসচিব হিসেবে তাঁর উপস্থিতিতেই সভা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।


সেখানে কোভিড রিপোর্টের পাশাপাশি ইয়াসের ক্ষয়ক্ষতি, তার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছেন। আজ নবান্নর সাংবাদিক বৈঠক থেকে জানিয়েছেন, তিনি নিজে ঘুরে দেখেছেন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা। তারি বিস্তারিত রিপোর্ট দিয়েছেন আজ। হিসেব অনুযায়ী, ইয়াস এবনহ জল ঢুকে গিয়ে ২.২১ লাখ হেক্টর জমিতে ক্ষতি হয়েছে রাজ্যের, বাঁধ ভেঙ্গেছে মোট ৩১৯ টি। এখনো পর্যন্ত বিপর্যস্ত এলাকাগুলিতে ত্রাণ শিবির চালু আছে। রাজ্য জুড়ে এই মুহুর্তে চলছে প্রায় ১২০০ শিবির, তাতে রয়েছেন ২ লক্ষ মানুষ। সঙ্গে জানিয়েছেন, ‘নীতি আয়োগের কাছে আরও ৫০০ ফ্লাড শেল্টারের তৈরি করার টাকা চাইব আমরা। যেহেতু প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাড়ছে। তাই এই বন্যা ত্রাণ কেন্দ্র বানাতে হবে। এছাড়া কোল্ড স্টোরেজও বানাতে হবে বেশি করে। মজুতের জন্য গুদাম বা ওয়ার হাউস বানাতে হবে।’’
আলোচনা করেছেন দুয়ারে ত্রাণ নিয়ে, জানিয়েছেন অত্যাধিক ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা গুলিতেই প্রথমে শুরু হবে এই কর্মসূচী। প্রশাসনের তরফ থেকে ক্যাম্পের জায়গা জানিয়ে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। প্রশাসনিক কর্তাদের করা বার্তা দিয়েছেন মানুষের অভাব অভিযোগ শুনতে গিয়ে যেন বিরক্ত না হয়ে পড়েন তাঁরা। ধৈর্য্য দিয়ে শুনে সমস্যার সমাধানের কথাও বলেছেন।
বৈঠক থেকেই মমতা তুলেছেন তাঁর সাধের দিঘার প্রসঙ্গ। ইয়াস আর ভরা কোটালের মেল্বন্ধনে কার্যত লন্ডভন্ড দিঘা। তিনি জানিয়েছেন দিঘার যে সৌন্দর্য্য ছিল তা একপ্রকার নষ্ট হয়ে গিয়েছে। পাথর উপড়ে পড়েছে, পুরান কাজে গাফিলতি ছিলো বলেই নতুন করে কাজের বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, দিঘায় পাথর বসানোর প্রক্রিয়ায় গলদ ছিল। ঢালাই করা জায়গার উপর পাথর বসানো হয়েছে। কিন্তু সেটা নিয়ম নয়। খুঁড়ে মাটি বের করে তার উপর পাথর বসাতে হবে। সুন্দর বন এবং মেদিনীপুর এলাকার মাছ নিয়ে ভাবনার কথা জানিয়েছেন, সঙ্গে জানিয়েছেন সুন্দর বন এলাকায় আরও অনেক বেশি পরিমাণে ম্যানগ্রোভ লাগানোর কথা।


দিঘা টু সুন্দরবন, আলাপনকে পাশে নিয়েই ইয়াসের রিপোর্ট দিলেন মমতা। সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, দেউচা পাঁচমিতে আপাতত কারও জমি দখল করা হবে না। রাজ্য সরকারের যা জমি আছে তাতেই প্রথম দফায় বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ হবে। দ্বিতীয় দফায় জমি দরকার পড়তে পারে। তবে এলাকার বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করে তিনি জানিয়েছেন,‘‘আপনাদের ঘড়-বাড়ি, রাস্তা-ঘাট, স্কুল, কলেজ, ক্ষতিপূরণ এমনকি চাকরির ব্যবস্থা করে তারপরই বাকি কাজ এগোবে।”







