৩ মিনিটের শপথ থেকে হাসপাতাল ভায়া নবান্ন, থার্ড ইনিংসের শুরুতেই চরকি কাটলেন মমতা

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ ৩ মিনিটের শপথ থেকে হাসপাতাল ভায়া নবান্ন, সঙ্গে বৈঠক, করোনা নিয়ে একাধিক সিদ্ধান্ত, পুলিশের রদবদল, হিংসা নিয়ে বার্তা। সব মিলিয়ে থার্ড ইনিংসের ওপেনিংয়েই বেশ ভাল ফর্মে মুখমন্ত্রী মমতাকে দেখলেন রাজ্যবাসী। একটা লম্বা লড়াই জিতে আজ তৃতীয় বারের জন্য বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহন করলেন তিনি, জয়ী হয়ার দিনেই বলেছিলেন হার-জিত থাকেই, এটা একটা ম্যাচ, আর আমি স্ট্রাগল করেছি।

আরও পড়ুনঃ ২০০ না হোক অন্তত ১০০+ আসন পেতেনই, সব EVM গোনার দাবী শুভেন্দুর

সেই স্ট্রাগলের ফলেই আজ তৃতীয় বারের জন্য বাংলার মসনদে গেলেন তিনি, নবান্নে গেলো হাওয়াই চটি।  জ্যোতি বসু, বিধান রায়ের পর তিনিই তিনবার বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর কুর্শিতে বসলেন। প্রথম দিনেই বলেছিলেন, রাজ্য এবং দেশ জুড়ে করোনার ভয়াবহতা। এটা বিজয় উৎসব করার সময় নয়। সেই মতোই ৫০ জন আমন্ত্রিত নিয়ে আজ রাজভবনে শপথ নিয়েছেন তিনি সকাল ১১ টা১১ মিনিটে।

কিন্তু সেখানেও বেশি সময় নেননি। ৩ মিনিটে শপথ পড়ে, সৌজন্য চা চক্রে কয়েক মিনিট থেকেই সোজা পৌঁছে গিয়েছিলেন নবান্নের দরজায়। শপথের মঞ্চ থেকেই জানিয়েছিলেন, আজ থেকে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী পদে বসলেন তিনি আনুষ্ঠানিক ভাবে, মানবেন না বাংলার কোন রাজনৈতিক হিংসা। তার পরেই গন্তব্য নবান্ন।  সেখানে পুলিশের তরফ থেকে গার্ড অফ অনার দেওয়া হলে সোজা উঠে যান নবান্নের ১৪ তলায়, নিজের পুরানো দপ্তরে।

জরুরি বৈঠক করেন করোনা নিয়ে। কয়েকঘন্টার মধ্যেই ঘোষণা করেন পরিস্থিতি মোকাবিলায় গৃহীত নতুন  পদক্ষেপ গুলির কথা। সাংবাদিক বৈঠকে ভোট পরবর্তী হিংসা প্রসঙ্গে বলেন, গত তিনমাস ধরে এইধরনের ঘটনা ঘটে আসছিল। আর এতদিনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। এই সময় সমস্ত কিছু নির্বাচন কমিশনের হাতে ছিল। তবে কিছু কিছু মিথ্যে খবরও ছড়ানো হয়েছে বিজেপির পক্ষ থেকে।

আগের ঘটনা এখনকার বলে চালিয়ে হিংসা ছড়ানো হচ্ছে। এগুলিতে একদম বিশ্বাস করবেন না। তবে কিছু কিছু বিক্ষিপ্ত ঘটনাও ঘটেছে এই সময়। প্রত্যেকটি দলের কাছে আবেদন করব এবার এগুলো বন্ধ করুন। নির্বাচনেও অনেক অত্যাচার করেছেন আপনারা। এবার এই অত্যাচার করা বন্ধ করুন। আইন কিন্তু আইনের পথে চলবে। বাংলায় হিংসার কোনও জায়গা নেই। বাংলা সংহতি, সম্প্রীতি, সংস্কৃতির জায়গা।

৩ মিনিটের শপথ থেকে হাসপাতাল ভায়া নবান্ন,  নবান্নের বৈঠক এবং সাংবাদিক বৈঠকের পরেই পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে তিনি হাজির হন, শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতালে, সেখানে পরিস্থিতি দেখেন, কথা বলেন উপস্থিত বাকিদের সঙ্গে সেখান থেকে যান পুলিশ হাসপাতালে। এই পুরো সময়ে তাঁর সঙ্গে ছিলেন ফিরহাদ হাকিম ও কলকাতা পুলিশ কমিশনার সোমেন মিত্র। তবে দায়িত্ব নেওয়ার শুরুর দিনেই যে হারে শহর জুড়ে ঘুরলেন তিনি তাতে ওয়াকিবহাল মহলের মতে ওপেনিংয়েই ঝড় তুলেছেন বাংলার মেয়ে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর