নজরবন্দি ব্যুরোঃ ২০০ না হোক অন্তত ১০০+ আসন পেতেনই, আজ মুখ্যমন্ত্রীর শপথ গ্রহণের দিন একথা বললেন তাঁরই প্রতিপক্ষ এবং তৃণ্মুল ছেড়ে এই মুহুর্তে বিজেপির প্রথম সারির নেতা শুভেন্দু অধিকারী। এতদিন বিজেপির সকল নেতামন্ত্রীর ভরা সভা থেকে বারবার দাবি করেছিলেন এই নির্বাচনে নিশ্চিহ্ন করে দেবেন তৃণমূলকে। সঙ্গে নিজেদের ২০০ এর বেশি আসন পেয়ে বাংলায় ক্ষমতায় আসার কথাও হলফ করে বলেছিলেন।
তবে ফলাফল হয়েছে সম্পুর্ণ উল্টো। ২০০ প্লাস আসনের বাজি জিতে নিয়ে গিয়েছে তৃণমূল। আজ মমতা বন্দোপাধায় শপথ গ্রহণ করলেন তৃতীয় বারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে। আর তিনি যখন শপথ নিচ্ছিলেন তখন, ভোট পরবর্তী হিংসার প্রতিবাদে ধর্ণায় বসেছিলেন বিজেপির নেতারা। এমনিতেও আজ সকালেই শুভেন্দু বলেছিলেন হেরে গিয়েও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন প্রথম কেউ। কারন এই নির্বাচনে তাঁর কাছেই ১৬০০ ভোটে হেরেছেন মাননীয়া নন্দীগ্রাম থেকে।
তার পরই শুভেন্দু এবার দাবী তুললেন সব ইভিএম গণনার। এতদিন শুভেন্দু বলছিলেন ২০০ এর বেশি আসন পাবেন। আজ সুর বদলে তাঁর দাবি, হারলেও ১০০ এর বেশি আসন পাক্কা ছিলো! আর এই প্রথম বার নির্বাচন কমিশনের ওপর অভিযোগ তুললেন কোন বিজেপি নেতা। এতোদিন নির্বাচনের দিন ভাগ থেকে প্রতি দফার নির্বাচন, সব কিছুতেই কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরোধীতা করেছিলেন মমতা এবং তৃণমূল কংগ্রেস। তবে এই প্রথম বার তাদের দিকে অভিযগের আঙুল তুলল বিজেপির কেউ।
শুভেন্দুর দাবী গণনায় কারচুপি হয়েছে রাজ্য জুড়ে। নইলে হেরে গেলেও ১০০ আসন নিশ্চিত পেতেন তাঁরা। নির্বাচন কমিশনকে কাঠগড়ায় তুলে বলেছেন, ‘‘কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভোট শান্তিপূর্ণ হলেও, গণনার নাম করে কমিশন সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। অনেক গণনাকেন্দ্রে বিজেপি-র এজেন্টকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। কারচুপি হয়েছে। তার ফলেই বিজেপি ১০০-র কম আসন পেয়েছে। সরকার গড়তে না পারলেও আমরা আরও অনেক বেশি আসন পেতাম।’’
২০০ না হোক অন্তত ১০০+ আসন পেতেনই,সঙ্গে আরও যোগ করেছেন, ‘‘প্রতিটি গণনা টেবিলের মধ্যে ৬ ফুট করে দূরত্ব রাখা হয়েছিল। ফলে অনেক জায়গায় এজেন্টরা সঠিক ফলাফল দেখতেই পাননি। গণনা ঠিক হলে আমরা আড়াই কোটির বেশি ভোট পেতাম।’’ এই প্রসঙ্গে তিনি সমস্ত ইভিএম গণনার দাবি তুলেছেন তিনি। যদিও এই বিষয়ে বিজেপির অন্য কোন নেতা এখনো মন্তব্য করেননি।



